পহেলা বৈশাখে মিলন মেলায় ড. অনুপম সেন নতুন বছরের প্রথম সকলটা, ঠিক অষ্টাদশী সুম্রী মুখের হাসির মতো

চট্টগ্রাম- ১৫ এপ্রিল’২০১৮ইং
মহান স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নবপ্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যেশ্যে আজ ১লা বৈশাখ ১৪২৫ বাংলা কর্ণফুলী তীরবর্তী প্রাঙ্গণে ফিশারীঘাট, মেরিনড্রাইভ রোডে বৈশাখী মিলন মেলায় ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এর পৃষ্ঠপোষকতায় ইউনিটেড এর উদ্যোগে উদ্বোধকের বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, একুশে পদকপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন, হাজার বছরের গর্ব গৌরব বাঙালি আর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিপুল রক্তক্ষরণে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের দিয়েছে যে অহংকার ও মানুষের প্রত্যাশিত অধিকার, সেই ঐতিহ্য-ইতিহাসকেই আমরা দাঙ্গাবাজ দিনগুলোর চেয়ে অন্যরকম, আরও বেশি কিছু। বিশেষ করে নতুন বছরের প্রথম সকলটা, ঠিক অষ্টাদশী সুম্রী মুখের হাসির মতো। বাংলা নববর্ষ বরণ করতে নারীরা নিজেকে আরও সুন্দর করে সাজান। তাদের কালো খোঁপায় ঝোলে শুভ্র সাদা বেলি ফুলের মালা, চঞ্চলা হাতের মুঠোয় মাথা দোলায় রজনীগন্ধা। ছোট-বড়, নারী পুরুষ, বার রঙিন কাপরে মনেতেও লাগে রঙ। বর্ণিল উৎসবে প্রাণে প্রাণে বাজে নবআনন্দ। প্রত্যাশার আলোয় উদ্বাসিত হয়ে ওঠে চারদিক। আজ সেই দিন, স্বাগত ১৪২৫, শুভ নববর্ষ। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ভাষণ। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে নিরস্ত্র বাঙালি একটি সশস্ত্র জাতিতে পরিণত হয় এব বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে অভীষ্ট লক্ষ্যের পথে এগিয়ে যায়। উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আব্রাহাম লিঙ্কন, উইনসন চার্চিল ও মাটি লুখার কিং জুয়িরের ঐতিহাসিক তিনটি ভাষণের চেয়েও বঙ্গববন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় অসাধারণ। রেসকোর্স ময়দানে ১০ লক্ষ মানুষের সমাবেশে পৃথিবীর ইতিহাসে নজীর বিহীন ঘটনা। এই ভাষণটিতে মূর্ত হয়েছে বাঙালির হাজার বছরের শোষণ বঞ্চনার করুণ চিত্র এবং বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির আকাক্সক্ষা। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির লড়াইয়ের রেলচিত্র বর্ণনা করে বলেন, স্বাধীনতার পর পরই এদেশে ৭০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে ছিল। এখন তা ২২ শতাংশে মানুষ সেই সময় মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০ ডলার। বর্তমানে তা ১৪০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষে কমপক্ষে আরো দু দফা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে হবে। বৈশাখী মিলনমেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশের চিরন্তন উৎসব। বাঙালির সংস্কৃতির ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখ আমাদের আপন শিখরে প্রেম শক্তিতে উজ্জীবিত হওয়ার দিন। বাঙালির প্রাণের উৎসবের দিন। লোক সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বর্ষবরণ ১৪২৫ উৎসবে মেতে উঠেছে। তিনি আরো বলেন, অনেক বাঁধা ও প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগুচ্ছে। এই অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে এখন থেকেই নির্বাচনমুখী কার্যক্রম শুরু করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শুধু ভৌগলিক স্বাধীনতা নয়, বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি তাঁর প্রধান আকাক্সক্ষা ছিল। তাই তিনি স্বাধীনতার পর দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু বাঙালিকে শৃঙ্খলিত করার জন্যই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে হয়েছিল। তিনি আলো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশেষ উন্নয়নের রোল মডেল। এই অর্জনকে ধরে রাখার জন্য জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্ণফুলী তীরবর্তী ফিশারীঘাট, মেরিন ড্রাইভ রোডের বৈশাখী মিলন মেলায় আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু , চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, ত্রাণ সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জি: মানস রক্ষিত, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আঞ্জুমান আরা চৌধুরী আঞ্জি, উপ প্রচার সম্পাদক শহীদুল আলম, উপ দপ্তর সম্পাদক জহুর লাল হাজারী, আওয়ামী লীগ নেতা বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন, কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ আমিনুল হক, অমল মিত্র, মহবক্ষত আলী খান, নুরুল আমিন শান্তি, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, থানা আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর চৌধুরী সিইনসি স্পেশাল, সাহাব উদ্দিন আহমেদ, আনসারুল হক, রেজাউল করিম কায়সার, মহানগর যুবলীগের আলহাজ্ব মহিউদ্দিন বাচ্চু, দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহবুবুল হক সুমন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নুরুল আজিম নুরু, আবুল কাশেম, শেখ সরোওয়ার্দ্দী, দিলদার খান দিলু, আবদুস সবুর লিটন, আবদুর রহমান, মোহাম্মদ ওসমান গণি, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email