হলফনামায় তথ্য গোপন করলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা : গাজীপুরে নির্বাচন কমিশনার

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ
নির্বাচন কমিশন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে কোন প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও হলফনামায় তথ্য গোপন করলে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কোন প্রার্থীর হলফনামায় তথ্য গোপনের কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রিটার্নিং অফিসারের কাছে নেই বলেন তিনি।

২২ এপ্রিল রবিবার দুপুরে তিনি গাজীপুর জেলা প্রশাসকের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সমন্বয় কমিটির বিশেষ আইন-শৃংখলা প্রধান অতিথি হিসেবে সভায় যোগদান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ওইসব কথা বলেন।

এর আগে তিনি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজমের সভাপতিত্বে ওই সমন্বয় সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ডঃ দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীরের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) খ. ম কবিরুল ইসলাম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব কুমার দেবনাথ, র‌্যাব-১-এর স্পেশালাইজড কোম্পনির কমান্ডার আব্দুস সালাম প্রমূখ।

নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দেশের প্রতিটি নির্বাচন, সেটা ছোট হোক, বড় হোক, যেন আইনানুগভাবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

তিনি বলেন, বিগত দিনে কুমিল্লা সিটি নির্বাচন হয়েছে আমাদের শপথ গ্রহণ করার পরেই। সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনও নূন্যতম রংপুর সিটি নির্বাচনের চাইতে যদি ভাল না-ও হয়, এটলিস্ট তার চেয়ে খারাপ হবেনা। এটা আমরা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করে বলতে পারছি। আমাদের সকলেরই সমন্বিতভাবে প্রচেষ্টা থাকবে যেন আসন্ন গাজীপুর সিটি নির্বাচন আইনানুগ এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠ হয়। যার জন্য এই গাজীপুরবাসী তাকিয়ে আছে।

তিনি জানান, নির্বাচনে ইভিএম মেশিনের ব্যবহার সম্পর্কে এখনো চুড়ান্ত করা হয়নি। খুব সম্ভবত আমরা একটা বা দুইটা ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহার করার চেষ্টা করবো। আর সীমিত সংখ্যক কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ইচ্ছে আছে। নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

গাজীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ তারিফুজ্জামান জানান, আগামি ১৫ মে গাজীপুর সিটি নির্বাচন, ২৪ এপ্রিল প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ। গাজীপুর সিটিতে ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১লাখ ৩৭হাজার ৭৩৬। এতে পুরুষ ৫লাখ ৬৯হাজার ৯৩৫ এবং ৫লাখ ৬৭হাজার ৮০১। আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৮৭ এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Print Friendly, PDF & Email