কোচিং ও গাইড নির্ভর পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধের দাবিতে ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ মিছিল সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সমাবেশ ও মিছিল সহযোগে জেলা প্রশাসকের স্মারকলিপি পেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:১৩ই মে
শৈশব বিধ্বংসী, কোচিং ও গাইড নির্ভর পিইসি পরীক্ষা বাতিল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে ১৩ই মে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখা নগরীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও মিছিল সহযোগে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে। বেলা এগারোটায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ শুরু হয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর শাখার সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ স¤পাদক জয়তু সুশীলের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সত্যজিৎ বিশ্বাস, নগর সহসভাপতি দীপা মজুমদার ও সাংগঠনিক স¤পাদক মোহাম্মদ সাইয়েম।

নেতৃবৃন্দরা বলেন, “শিক্ষা জীবনের মূল বুনিয়াদ হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা যা জীবন-জগতের নানা বিষয়ে জ্ঞান আহরণের জন্য শিশুদের আগ্রহী ও কৌতুহলী করে তোলে। রাষ্ট্র সামগ্রীক সৃজনশীল আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার এ পরিবেশ তৈরী করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা পদ্ধতির মূল্যায়ন করতে পারে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা দেহ-মনে সুষমভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি উল্টো নিয়মেই চলছে। ২০০৯ সালে পিইসি পরীক্ষা চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে এই পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠেছিল। ২০১৬ সালে তা বাতিলের ঘোষণা দিয়েও তা বাতিল করা হয়নি। শিক্ষা পদ্ধতির মূল্যায়নের জন্য বার্ষিক পরীক্ষা চালু আছে। তার পরিবর্তে পিইসির মত পাবলিক পরীক্ষা চালুর ফলে কোমলমতি শিশুদের অসম প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ হতে হচ্ছে। যে কোন মূল্যে ভাল ফলাফল করার চাপে তারা প্রতিনিয়ত পিষ্ট হচ্ছে। প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ায় আত্মহত্যার মত ঘটনাও ঘটছে।”

নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, “পিইসি পরীক্ষা কোচিং এবং গাইড নির্ভরতাকে বহুগুণে বাড়িয়েছে। সংবাদ মাধ্যম বলছে নতুন করে অসংখ্য কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে যাদের বছর প্রতি মুনাফা ৫০ হাজার কোটি টাকা। তার সাথে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতির নামে চলছে গাইড বই নির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা, যা মুখস্থ নির্ভরতাকে বরং বাড়িয়ে তুলেছে। তার হাত ধরে পিইসি পরীক্ষায়ও প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে এবং প্রতিযোগীতার ইঁদুর দৌড়ে পড়ে, সন্তানকে ভাল স্কুলে ভর্তি করানোর আশায় অভিভাবকরা পরীক্ষার আগের রাতে এই নি®পাপ শিশুদের হাতে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছেন। অথচ প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত সরকারি কর্তাব্যাক্তি, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার অসংখ্য দূর্বলতা দূর করার উদ্যোগ না নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর একের পর এক নতুন নতুন পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পিইসি পরীক্ষা বাতিল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধের দাবিতে সারা দেশে গণসাক্ষর সংগ্রহ করেছে। আজ ঢাকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর সাক্ষর সহ স্মারকলিপি পেশ করেছে। সেই সাথে সারা দেশে জেলায় জেলায় অনুরূপ কর্মসূচি পালন করছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।”

সমাবেশের পর ছাত্র ফ্রন্টের সদস্যরা পিইসি বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়ে রচিত একটা জারি গান পরিবেশন করে। এরপর মিছিল সহযোগে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email