নকল ঔষধ বিক্রির দায়ে ইউনাইটেড ফার্মেসীর মালিক কে এক মাসের কারাদণ্ড ৪-৫ মাস আগে মল্টিলুকাস্ট গ্রুপ এর মোনাস-১০ ঔষধের প্যাকেট ও লেবেলের ডিজাইন পরিবর্তন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:১৪ মে
১৪ মে বেলা ১২টfথেকে দুপুর ২:০০ টf পর্যন্ত জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মহানগরীর অলংকার এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসক ‘র নিকট ১৩-০৫-২০১৮ মোঃ আরাফাত করিম নামে হৃদরোগে আক্রান্ত এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, গত ১২-০৫-২০১৮ তারিখ ইউনাইটেড ফার্মেসী ( রওশন ওসমান প্লাজা, অলংকার , চট্টগ্রাম) হতে একমি ল্যাবরেটরিজ এর মল্টিলুকাস্ট গ্রুপ এর মোনাস-১০ নামের নকল ঔষধ ক্রয় করে্ন। ঔষধ সেবন করে ভেজাল সন্দেহ হলে তিনি আরেকটি ফার্মেসী হতে একই গ্রুপের ঔষধ ক্রয় করে দেখতে পান যে,ইউনাইটেড ফার্মেসী থেকে ক্রয়কৃত ঔষধের লেবেলে ঊৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ড্রাগ লাইসেন্স নং নেই এবং ঔষধের গায়ে খোদাই করা ACME লেখাটিও নেই। এর প্রেক্ষিতে ইউনাইটেড ফার্মেসীর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার নিমিত্তে ঐ ব্যক্তি আবেদন জানান। এখানে উল্লেখ্য , একমি ল্যাবরেটরিজ এর মল্টিলুকাস্ট গ্রুপ এর মোনাস-১০ ঔষধটি তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ সেবন করে আসছিলেন। তাই ইউনাইটেড ফার্মেসী থেকে ক্রয়কৃত ঔষধটি সেবন করে তাঁর নিকট মারাত্মক অস্বস্তি লাগে।

নকল ঔষধ সম্পর্কিত এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের নির্দেশনা মোতাবেক আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়ার নিমিত্ত ১৪ মে বেলা ১২:০০ ঘটিকায় থেকে দুপুর ২:০০ ঘটিকা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানের সময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, আসল ঔষধ তৈরি কারী প্রতিষ্ঠান একমি ল্যাবরেটরিজ এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ফার্মেসীতে গিয়ে দেখা যায়, দোকানটিতে একমি ল্যাবরেটরিজ এর মল্টিলুকাস্ট গ্রুপ এর মোনাস-১০ নামের দুই ধরণের লেবেলের ঔষধ বিক্রি করা হচ্ছে। এসময় অভিযোগকারীর ক্রয়কৃত নকল ঔষধের সাথে একটি লেবেলের ঔষধের হুবহু মিল আছে । এসময় ঔষধের প্যাকেট খুলে দেখা যায়, নকল ঔষধ টি পাউডারের মতো এবং পানি মেশালে এটি আসল ঔষধের থেকে আলাদা আচরণ করছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আসল ঔষধ তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান একমি ল্যাবরেটরিজ এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি নিশ্চিত করেন যে, ইউনাইটেড ফার্মেসী থেকে অভিযোগকারী যে ঔষধ ক্রয় করেছেন এটি নকল ও ভেজাল। গত ৪-৫ মাস আগে মল্টিলুকাস্ট গ্রুপ এর মোনাস-১০ ঔষধের প্যাকেট ও লেবেলের ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু আগে তাঁদের যে ধরণের প্যাকেট ব্যবহার করা হতো সেই আদলে একই ধরণের প্যাকেট ও লেবেলে মল্টিলুকাস্ট গ্রুপ এর মোনাস-১০ ঔষধ ইউনাইটেড ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে। ইউনাইটেড ফার্মেসীতে প্রাপ্ত প্যাকেট, লেবেল এবং ঔষধ একমি ল্যাবরেটরিজ এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধিগণ যাচাই-বাছাই করে জানান যে, এগুলো নকল। ঘটনাস্থলে একমি ল্যাবরেটরিজ এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধিদের কাছে বর্তমান ও পূর্বের তৈরি আসল ঔষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা যাচাই-বাছাই করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানান যে ইউনাইটেড ফার্মেসীতে থেকে প্রাপ্ত ঔষধ নকল এবং এই ধরণের ঔষধ এই ফার্মেসি টি অভিযোগকারী ব্যক্তির নিকট বিক্রি করেছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলে ঔষধেরপ্যাকেট খুলে দেখা যায় পানির সাথে মেশালে ইউনাইটেড ফার্মেসীতে থেকে প্রাপ্ত ঔষধ এবং অভিযোগকারীর ক্রয়কৃত ঔষধ চক পাউডার জাতীয় পদার্থের ন্যায় আচরণ করে। এই দুই ধরণের ঔষধের গায়ে খোদাই করে ACME লেখা-ও নেই। অন্যদিকে একমি ল্যাবরেটরিজ এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত নমুনা আসল ঔষধ গুলোর গায়ে খোদাই করে ACME লেখা আছে এবং পানির সাথে এটি স্টার্চ জাতীয় পদার্থের ন্যায় আচরণ করে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি নকল ও ভেজাল ঔষধের আচরণের ভিন্নতা নিশ্চিত করেন। এছাড়া ইউনাইটেড ফার্মেসী হতে নিষিদ্ধ সাপ্লিমেন্ট জাতীয় ঔষধ ” Body Fit ” পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণ ও আলামতের ভিত্তিতে নকল ঔষধ বিক্রির দায়ে উনাইটেড ফার্মেসীর মালিক সুরজিত সাহা ( বয়স-৩৩ বছর) কে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালতের আওতায় ড্রাগ অ্যাক্ট, ১৯৪০ এর ১৮(এ), ১৮(সি) ধারার অপরা(ধ একই আইনের ২৭ ধারায় ০১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

Print Friendly, PDF & Email