সুনামগঞ্জে মত বিনিময়কালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান : ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থেই নদীগুলোকে খনন করতে হবে

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ : জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার ভবিষ্যত প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে নদীরক্ষায় এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবাণ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,নদীর নাব্যতা ধংসের চিত্রটা ভয়াবহ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ দখলবাজীর কারণে আমাদের প্রবাহিত নদী ধংস হচ্ছে। সারা বাংলাদেশের মতো সুনামগঞ্জ জেলারও একই চিত্র। জেলার সিভিল সোসাইটির ও প্রশাসনের আলাপ আলোচনা ও পর্যালোচনা থেকে এর উত্তাপ পাচ্ছি। বুঝতে পারছি এখানেও নদী রক্ষার জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সময় এসেছে নদী শাসন করতে হবে। সে সাথে আমাদের বিবেক বুদ্ধির শাসনও প্রয়োজন। তিনি বলেন,বৃটিশ সৈন্যরা সংখ্যায় অনেক কম ছিল। আমরা বাঙ্গালীরা সংখ্যায় অনেক অনেক গুন বেশী ছিলাম। তারপরও বৃটিশ বেনিয়াদের হাত থেকে আমাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে ১৯০ বছর লেগেছিল। বঙ্গবন্ধু তার সুযোগ্য নেতৃত্বে মাত্র ২২ বছরে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। নদীশাসনেও আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে কাজ করা উচিত। সুনামগঞ্জের হাওর ও নদী রক্ষায় যেখানে যা করার দরকার সেখানে সবকিছুই করতে প্রস্তুত রয়েছে সরকার। আমরা দায়িত্ব পালন করতে পিছপা হবোনা। ভবিষ্যতে পাউবোর সকল প্রকল্প যাচাই বাছাই করে দেবো। তিনি বলেন নদীর জমি সবার জমি। ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থেই নদীগুলোকে খনন করতে হবে। আমরা চাই,সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা যেন ভোটের আগে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে নদী ও খাল উদ্ধার করেন। সোমবার বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার একথা বলেন। জেলা নদীরক্ষা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষনিক সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন। সভায় সুনামগঞ্জ জেলার নদীসমূহের নাব্যতা,হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন,নদীর ভাঙ্গন এবং বিদ্যমান সমস্যাদি চিহ্নিকরন পূর্বক সমস্যা সমাধানের উপায় শীর্ষক ধারনাপত্র প্রদর্শন করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আশুতোষ দাস, জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল,আওয়ামীলীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আলী আমজাদ,জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মতিউর রহমান পীর, সাবেক পিপি এডভোকেট শফিকুল আলম,হাওর উন্নয়নকর্মী কাস্মীর রেজা, মুক্তিযোদ্ধা মালেক পীর ও সাংবাদিক বিন্দু তালুকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রতিনিধিবর্গ। পরে দেশের বিভিন্ন জেলার নদীর বর্তমান অবস্থা ও নদী শাসন নিয়ে কমিশন নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ সাবিরুল ইসলাম নদী রক্ষার আন্দোলনকে সামাজিক ও অস্তিত্বের আন্দোলন বলে অভিহিত করে বলেন,আমরা জিও এনজিও ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জেলার সকল নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা নেবো। এবং নদী ও খাল দখলকারী অবৈধ দখলদারদেরকে উচ্ছেদ করতে পিছপা হবোনা। সভায় বক্তারা জেলার প্রধান নদী সুরমা কালনী কুশিয়ারাসহ সকল নদী ও খাল খননের দাবী জানানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email