ঈদের আগেই মুক্তি পাবেন খালেদা

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশা করছেন, আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই মুক্তি পাবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়াপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় তিনি এই আশার কথা জানান।

এসময় ফখরুল বলেন, ঈদ পর্যন্ত খালেদা জিয়া কারাগারে থাকবেন এটা আমরা মনে করি না। আমাদের বিশ্বাস ঈদের আগে অবশ্যই তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন। দেশে আইনের যে সিস্টেম আছে তাতে মনে করি এটাই হওয়া উচিত।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ছয়টা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো আছে। সেই মামলাগুলো নিয়ে আমরা হাইকোর্টে মুভ করব। আইনজীবীদের সাথে আমি আলাপ করেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি আগামী সাত থেকে দশ কর্ম দিবসের মধ্যেই ওইসব মামলায় জামিন পাওয়া যাবে।

এদিকে গতকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়া জামিন পেলেও এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মওদুদ আহমদ। খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আপিল বিভাগ বহাল রেখে আজ রায় ঘোষণা করার পর আদালত থেকে বের হয়ে এই কথা জানান তিনি।

আপিল বিভাগের রায়ের পর খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আর কোনও বাধা আছে কিনা জানতে চাইলে-মওদুদ আহমদ বলেন, কিছুটা বাধা আছে। কারণ সরকার নানা কৌশলে চেষ্টা করবে, তার মুক্তি বিলম্বিত করতে। নিচের (বিচারিক) আদালতের কতগুলো মামলায় তাকে আসামি দেখানো হয়েছে। সে মামলাগুলোতে তার জন্য আমাদের জামিন নিতে হবে। সেই জামিন নিতে যতটুকু সময় লাগে, সেই সময়টুকু পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

এর আগে বুধবার সকালে হাইকোর্টের জামিন স্থগিতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটির হাইকোর্টের আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এই সময়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি সম্ভব কিনা জানতে চাইলে মওদুদ বলেন, শুনানি শুরু হলে তখন বোঝা যাবে। শুনানির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তখন বোঝা যাবে, কতদিন লাগবে। এটা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না।

এ সময় খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়া আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আজ আদালত তার জামিন বহাল রেখেছেন। কিন্তু অন্য যে কোনো মামলায় সরকার যদি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাকে জেলে রাখার চেষ্টা করে, তাহলে তা আমরা আইনগতভাবে মোকাবেলা করব। এবং আমরা আশাবাদী, অতি শীঘ্রই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।

খালেদা জিয়ার অন্য আরেক আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালত থেকে বের হয়ে বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩০টির মতো মামলা করেছে সরকার। এর মধ্যে পাঁচটিতে তাকে আটক দেখানো (শ্যেন অ্যারেস্ট) হয়েছে। আজ তিনি জামিন পেয়েছেন। অন্যগুলোতেও আমরা জামিনের জন্য হাইকোর্টে আসব। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে জামিন পাবেন খালেদা জিয়া।

এদিকে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে তার জামিননামা দাখিল করেছেন আইনজীবীরা।

আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল হকের আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার এ জামিননামা দাখিল করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আর খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে এই মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সেই সঙ্গে খালেদা তারেকসহ দণ্ডিত সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানা করা হয়। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

Print Friendly, PDF & Email