ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের সাধারণ সভায় ছাত্রনেতা মাছুমুর রশিদ


বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির
নামে শুভংকরের ফাঁকি দেয়া হয়েছে
*জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে নাকাল চট্টগ্রামের জনজীবন*

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি ছাত্রনেতা মাছুমুর রশিদ কাদেরী বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার যত বিশাল হোক, আসলখাত অর্থাৎ শিক্ষাখাতে এর বরাদ্দ হতাশাব্যঞ্জক। শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির নামে শুভঙ্করের ফাঁকি দেয়া হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা উন্নয়ন খাতে ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরে শিক্ষা খাতের বাজেট ছিল ৫০ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। এ বছর বরাদ্দ বেড়েছে ২ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। টাকার অংকে শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধির কথা বলা হলেও শতাংশে তা কমেছে। যা জনগণের সাথে এক ধরণের প্রতারণার নামান্তর। আমরা বিগত বছরের বরাদ্দের সাথে মিলালে দেখি, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি দুটো খাত মিলিয়ে বরাদ্দ ছিল ১৬.৪%, অথচ ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মিলেয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৬.৩%, যা বিগত অর্থবছরের চেয়ে আরো কম। বরাদ্দ বৃদ্ধির নামে সর্বস্তরের ছাত্রসমাজসহ দেশের সাধারণ জনতার সাথে এ প্রতারণা মেনে নেয়া যায় না। প্রস্তাবিত বরাদ্দ থেকে প্রযুক্তিখাত বাদ দিলে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের ১০ শতাংশের নিচে চলে আসবে। একদিকে শিক্ষাখাত ও প্রযুক্তিখাত দুই খাত মিলিয়ে বরাদ্দ দিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা আপামর ছাত্রসমাজের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ দাবি করে আসলেও সরকার সে দাবি আগ্রাহ্য করে মূলত ছাত্রসমাজের প্রতি বিরূপ আচরণ করা হয়েছে।
আজ দুপুরে মোমিন রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের ৩য় সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমানের পরিচালনায় সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ছাত্রনেতা আবদুল্লাহ আল মাসুম,শিহাব উদ্দীন, মুহাম্মদ এহসান, মুহাম্মদ কাউসার খাঁন, মুহাম্মদ ফোরকান রেজা, মুহাম্মদ এরশাদুল করিম, মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন কাদেরী, হাবিবুল্লাহ আরাফাত, মুহাম্মদ আদনান তাহসিন আলমদার, মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, মুহাম্মদ আবদুস সাত্তার, মুহাম্মদ আরাফাত, আবদুল কাদের, মুহাম্মদ সাব্বির, মাহমুদুল হাসান, মুশফিক উদ্দিন রায়হান, মুহাম্মদ ওয়াহেদ, মুহাম্মদ ইলিয়াস, মুহাম্মদ মিজান প্রমুখ।
সভায় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাামের প্রধান সমস্যা হলেও এর সমাধানে চট্টগ্রামের সেবা সংস্থা সমূহ আন্তরিক নয়। সেবাসংস্থা সমূহের সমন্বয়হীনতা ও অকার্যকরী পদক্ষেপের কারণে বর্ষার প্রথম বর্ষণেই চট্টগ্রামের মানুষ অথৈই জলে ভাসছে। চট্টগ্রামের মানুষ দুর্ভোগের শেষ সীমায় আছে। এ সমস্যা সমাধানে তড়িৎ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সামনের দিনগুলোতে বর্ষায় চট্টগ্রাম বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তিনি আরো বলেন, একদিকে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের আয়-উপার্জন যখন কমছে তখন সরকারের গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত যেন মড়ার উপর খাড়ার গাঁ। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি না করে তিনি প্রতিবছর চুরি হওয়া ৩০কোটি ঘনফুট গ্যাসের চুরি বন্ধ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, গ্যাসের চুরি বন্ধ করা গেলে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করতে হবে না। আর এলএনজি আমদানি করতে না হলে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কোন প্রয়োজন পড়বে না।

Print Friendly, PDF & Email