Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

চট্টগ্রাম হবে ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে চট্টগ্রাম যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য এখানে ‘হাইটেক পার্ক’ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক টেলি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এসময় তিনি ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হলে চট্টগ্রাম ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করবে বলেও মন্তব্য করেন। তিনি চট্টগ্রামের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ’ করারও প্রতিশ্রুতি দেন।
হাইটেক পার্ক নির্মাণে ভূমি প্রদানকারী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এ সমাঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম।
অনুষ্ঠানে কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম প্রযুক্তির নগরীতে পরিণত হবে মন্তব্য করেন জুনাইদ আহমেদ পলক। এদিকে সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন তথ্য প্রযুক্তি খাতে চট্টগ্রামকে আরো এগিয়ে নিতে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসায় ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের পাশে সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যমান ৫ একর জায়গায় আইসিটি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব করেন।
চট্টগ্রামকে সহায়তা করা মানে বাংলাদেশকে করা : তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ভৌগোলিক ও অবস্থানগত কারণে চট্টগ্রামের যে অবস্থান, তাতে চট্টগ্রামকে সহায়তা করা মানে বাংলাদেশকে সহায়তা করা। চট্টগ্রামকে উন্নত করা মানে বাংলাদেশকে উন্নত করা। শিল্পবিপ্লবে ডিজিটাল চট্টগ্রামে রূপান্তর করা মানে হচ্ছে বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেয়ার মত একটি জায়গা তৈরি করে দেয়া। এসময় তিনি বলেন, ডিজিটাল চট্টগ্রামে রূপান্তরের জন্য যতটুকু সহায়তা দরকার সবটুকু করবো।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম শিল্প নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে স্পেশাল ইকনমিক জোন হচ্ছে। সেই জায়গায় আমি বিশ্বাস করি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই ইকনমিক জোন।
মন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের ভেতরে বাংলাদেশে প্রচলিত শিল্প কল-কারখানা আছে, তা সিমেন্টের ফ্যাক্টরি হোক বা খাদ্যের কারখানা, সবখানেই ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। যখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার হবে সেই সেই প্রযুক্তির যোগানটা দরকার। এক্ষেত্রে যোগানের জন্য অবকাঠামো প্রয়োজন এবং ইন্টারনেট হচ্ছে সেই অবকাঠামো। এই অবকাঠামোর উপর ভিত্তি করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ঘটবে। এসময় তিনি বলেন, ২০১৯ সালের পরে হাইস্পিড ব্রড ব্যান্ড থাকবে না এমন কোনো ইউনিয়ন পাওয়া যাবে না। এটা আমাদের জন্য বড় ধরনের অবকাঠামো।
ডাক টেলি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর প্রযুক্তিগত জায়গাটা আরেকটি বিপ্লবের জায়গায় দাঁড়িয়েছে। আমরা এতদিন মোবাইলের টু-জি, থ্রি-জি, ফোর-জি দেখে আসছি। এখন সারা পৃথিবী কথা বলে ফাইভ-জি নিয়ে। ফাইভ-জি করবে সেটা আমরা এখনো আন্দাজ করতে পারছি না। এই আন্দাজ করতে না পারার মধ্যেই যে প্রযুক্তি আসছে সেখানে আমাদের ইন্ড্রাস্ট্রির রূপান্তরও হবে। আর সবক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হবে ডিজিটাল প্রযুক্তি।
তিনি বলেন, যে হাইটেক পার্ক করার উদ্যোগ নিয়েছি তা চট্টগ্রামকে সকল দিক থেকে ডিজিটাল যুগে নেতৃত্ব দেয়ার জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিবে। এসময় তিনি সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের প্রশংসা করে বলেন, মেয়র যে দূরদর্শী তার প্রমাণ ১১ একর জায়গা দেয়া। এই জায়গা অনেক বড় সম্পদ, জমিটার দামও বেশি। কোনো প্রশ্ন ছাড়া, কোনো শর্ত ছাড়াই যখন হাইটেক পার্ক করার জন্য এই জায়গা মেয়র দিয়েছেন, তার মানে হল, তিনি চট্টগ্রামের ভবিষ্যতটা দেখেছেন, ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের রূপান্তরটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এসময় তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সেই রূপান্তরটাকে কার্যকর করা।
ডাক টেলি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা দেশের আর যেখানেই হাইটেক পার্ক করি না কেন, চট্টগ্রামের হাইটেক পার্কটির আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকবে। কারণ, চট্টগ্রামের অবস্থান সারা বাংলাদেশের বাকি জায়গাগুলোর অবস্থানের মত না। এমনকি ঢাকায়ও সে সম্ভাবনা নাই। সারাবিশ্বের সঙ্গে চট্টগ্রামের কানেক্টিভিটি’র যে বিষয়টা আছে তার সঙ্গে যখন ডিজিটাল প্রযুক্তি যুক্ত হবে তখন চট্টগ্রাম ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করবে। এই কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করতে পারার জন্য পারিপার্শ্বিক যে সমর্থনটুকু দরকার সেটা তথ্যপ্রযুক্তি দিবে।
প্রচলিত শিল্প-কল-কারখানায় যারা বিনিয়োগে আগ্রহী তাদেরকে হাইটেক পার্কের ডিজিটাল শিল্প-কল-কারখানায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে ডাক টেলি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে অংশ নিতে হলে ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভরশীল শিল্প-কল-কারখানায় বিনিয়োগ করতে হবে।
এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, চট্টগ্রামের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ করা হবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন, আমাদের স্বপ্ন। আমরা যদি আমাদের মানব সম্পদকে ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারি তাহলে বিশ্বে আমরা এগিয়ে যাব এবং সেজন্যই দৃষ্টান্ত হিসেবে চট্টগ্রামকে বাছাই করে নেয়া হয়েছে।
ডাক টেলি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার আরো বলেন, বিশ্বে যন্ত্র, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটে শিল্পবিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশ সেখানে অংশ নিয়েছে বলা যাবে না। আমরা শিল্পবিপ্লব মিস করায় তার অনুষঙ্গ যত সুবিধা ছিল সবগুলোই মিস করেছি। সেই জায়গা থেকে উত্তোরণের জন্য ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ উচ্চারণ করলেন তখন সবাই চমকে উঠে। হাসি-ঠাট্টা করেছিল। অথচ আজ ২০১৯ সালে এসে ডিজিটাল বাংলাদেশ কি সেটা একটা শিশুও বুঝে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে চট্টগ্রাম পিছিয়ে থাকতে পারে না। যাতে পিছিয়ে না পরে সেজন্য হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এর আগে অনেকবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু জায়গা না পাওয়ায় করা যায়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ বলেছিল, এখন সেই অবস্থানে নেই। আজকের বাংলাদেশ যে রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাতে অচিরেই পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর কাতারে সামিল হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বন্দর নগরী চট্টগ্রামকে প্রযুক্তির নগরীতে পরিণত করার সুন্দর ক্ষণে আমরা উপস্থিত হয়েছি। কিছুদিনের মধ্যেই চট্টগ্রাম প্রযুক্তির নগরীতে পরিণত হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন ১০ বছরে আইসিটি শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে। এখন এ খাতে রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলার। এটি ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। আইসিটি খাতে ১০ হাজার ৫শ’ নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। চট্টগ্রাম যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আইটি পার্ক করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চট্টগ্রামের ভূমিকা অপরিসীম। দশ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। দশ বছর আগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ৫৬ লাখ, এখন তা ১০ কোটি। শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব রয়েছে নয় হাজার। আরো ২৫ হাজার ৫শ’ টি হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠাও এ থেকে বাদ যাবে না।
হাইটেক পার্ক কর্র্তৃপক্ষের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম বলেন, চট্টগ্রামে হাইটেক পার্ক করার জন্য সিটি মেয়র জায়গা দিয়েছেন। সেজন্য ধন্যবাদ। শুধু কর্মসংস্থান নয়, দক্ষ জনশক্তি গড়তে ট্রেনিং সেন্টারও করা হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্র্তৃপক্ষের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা সমাঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব প্রমুখ।
সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক উদ্বোধন : এদিকে বিকেলে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। এসময় উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, সিঙ্গাপুর মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রফিক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, সহ সভাপতি আলি নেওয়াজ চৌধুরী, মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আহমদ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। পরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র কর্পোরেশনের অপর একটি জায়গা পরিদর্শন করেন।

Print Friendly, PDF & Email