শীর্ষ নিউজ

যবিপ্রবির শাটল ট্রেনের অধরা স্বপ্ন


মালিক উজ জামান, যশোর : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) মহাপরিকল্পনার অংশ দীর্ঘ ১৬ বছরে বাস্তবায়ন হয়নি শাটল ট্রেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের সুবিধার্তে শাটল ট্রেন চালুর জোর দাবি তুলেছে। শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ খরচ কমবে শাটল ট্রেন চালু হলে। একই কারনে পার্শ্ববর্তী এলাকায়ও আরো উন্নয়ন হবে বলে অভিমত সচেতন মহলের।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে শাটল ট্রেন চালুর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। যবিপ্রবির প্রথম উপাচার্য প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম সরকার (আর আই সরকার) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত শাটল ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেন। কিন্তু উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ায় উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর আসেন উপাচার্য. প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার। তিনি পরিকল্পনা নেন যশোর বিমান বন্দর হয়ে ঝাউদিয়া, বাদিয়াটোলা, নলডাঙ্গা, বাগডাঙ্গা, দৌগাছিয়া গ্রামের ওপর দিয়ে যবিপ্রবির ক্যাম্পাস পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণের। যাতে বিমান থেকে নেমে সকলে দ্রত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারেন। রাস্তাটি নির্মাণের সাথে এই এলাকা দিয়ে একটি ইকোনমিস ভিলেজ এবং ইপিজেড শিল্প এলাকা প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনাও ছিলো তার। তিনি চাকরি জীবন থেকে অবসরে যাওয়ার পর এসব পরিকল্পনা থমকে যায়। অথচ ঐ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এলাকার জনগনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখতো ও ব্যবসা বাণিজ্যের দ্রুত প্রসারের সম্ভাবনা ছিলো। যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা জানান, উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের যাতায়েতের প্রধান বহন ট্রেন। ট্রেনে করে যশোর রেলস্টেশন পর্যন্ত যেতে হয়। স্টেশন থেকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতে হয়। এতে অর্থ ও সময় দুটোই অপচয় হচ্ছে। যবিপ্রবিতে শাটল ট্রেন চালু করলে ছাত্র-ছাত্রীদের কষ্ট লাঘব হবে।
যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা জানান, যশোর শহর থেকে বাস বা অন্য যানবাহনে চড়ে ক্যাম্পাসে যেতে অনেক অসুবিধা হয়। সাধারণ বাসে গেলে ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয় মেয়েদের। আবার কোন ভাবে বাসা থেকে একটু দেরি করে বের হলে ক্লাস শেষ হয়ে যায়। শাটল ট্রেন চালুর জোর দাবি সকল শিক্ষার্থীর। দীর্ঘদিন ধরে শাটল ট্রেন চালুর দাবি করে আসলেও বাস্তবায়নে কোন উদ্যোগ নেই। এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন জানান, যবিপ্রবিতে শাটল ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত দিনে শাটল ট্রেন চালুর দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। শাটল ট্রেন চালু করা হলে বৃহত্তর যশোর ও খুলনা থেকে আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে অনেক উপকৃত হবেন। ফলে পরিবহন খরচ কমে যাবে। অবসরে চলে যাওয়া দুই জন উপাচার্যের মতো শাটল ট্রেন চালুর বিষয়ে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button