Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

আইপিএল নিয়ে জুয়া, কর্ণফুলীতে ও প্রতি ওভারে দাম ওঠে হাজার হাজার টাকা!

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো:

বিশ্বে আলোচিত টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচ। জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে দিনের পর দিন। উঠতি বয়সী তরুণদের চোখ সরেনা টিভি পর্দা হতে। ক্রিকেট যেন তাদের ধ্যান আর জ্ঞান।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ এক কথায় আইপিএল নিয়ে জুয়ার উন্মাদনা চলছে কর্ণফুলী এলাকায়ও। প্রতি বলে দাম ওঠে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আর এক ওভারে তা গড়ায় হাজার থেকে হাজার পর্যন্ত।

উপজেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় এ দৃশ্য দেখা যায়, চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর গ্রামের বিএফডিসি গেইট সংলগ্ন এলাকার রিপনের ভাড়া বাসার সামনের কয়েকটি দোকানে। আরো দেখা যায় শিকলবাহার মাস্টারহাট ও কলেজবাজার সহ ফকিরনিরহাট বাজারে।

এসব জুয়াতে মেতে ওঠা অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ। যারা সারাদিন শ্রমিকের কাজ সেরে বাসায় ফেরার পথে জুয়াড়িদের সঙ্গে যোগ দেয়। বাজিতে টাকা হারিয়ে অনেকে তান্ডব চালায় ঘরে। এর সাথে যোগ দিচ্ছে ছোট ছোট স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও। এমনটি অভিযোগ করেছেন ইছানগরের মাছ ব্যবসায়ী আনোয়ার পাশা তালুকদার।

এলাকাসূত্র জানা যায়, চরপাথরঘাটা ইছানগরের নিম্নআয়ের লোকজনের বসতি যেখানে আছে, এমন এলাকার চায়ের দোকান, গলির ভেতর, বিভিন্ন ক্লাব-সমিতির অফিসে আইপিএল নিয়ে জুয়াখেলা চলছে। গতকাল স্থানীয়রা কর্ণফুলী থানার কয়েকজন অফিসার ও ডিউটি অফিসারকে বিষয়টি জানালেও প্রথমদিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

ইছানগর এলাকার মুরুব্বী আলহাজ্ব আহমেদ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আইপিএল নিয়ে এলাকায় বসা জুয়ার আসরে যেকোন সময় ঝগড়া লাগতে পারে ঘটতে পারে নানা অনাকাংখিত ঘটনাও। এটা অসম্ভব কিছু না কেনোনা সকল উঠতি বয়সী তরুণ। যারা সহজে কারো ডাক দোহায় মানেনা। এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানা ওসির সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।

আইপিএল নিয়ে চলমান জুয়া চক্রের খেলাটি কি ধরনের জানতে চাইলে জিসান নামে এক তরুণ বলেন, এক বলে কত রান হবে বা ওই বলে উইকেট পড়বে কিনা কিংবা না পড়া এটা নিয়ে জুয়া চলে ১০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এমনকি প্রতি ওভারে কতো রান হবে তা নিয়ে ১ হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ টাকার জুয়া চলে। এসব কর্মকান্ড বৈধ কিনা জানতে চাইলে তিনি অনেক্ষণ চুপ থেকে বলেন, বছরে একবার আসে আইপিএল আমরা মজা করার জন্য ¯্রফে খেলে থাকি কিন্তু টাকা ব্যবহার আসলে ঠিক না!

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য মো. তাহের কে বিষয়টি স্থানীয়রা মৌখিক ভাবে অভিযোগ করলেও কোন উল্লেখ্যযোগ্য পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। অথচ জুয়া, মদ, গাজার আসর প্রতিরোধে স্থানীয় মেম্বারদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।

কর্ণফুলী থানার অপারেশন অফিসার মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আইপিএলের নামে জুয়ার অভিযোগ পেয়ে আমরা কয়েক জায়গা পুলিশ পাঠিয়েছি কিন্তু পুলিশ যাওয়ার আগেই পালিয়ে যায় ওরা। তারপরেও আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Print Friendly, PDF & Email