Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

কুলঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুিজবুর রহমানের বিরুদ্ধে খেয়াঘাটের ইজারাপ্রাপ্ত অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুিজবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে পরিষদের নামে ব্যক্তিগতভাবে খেয়াঘাট ইজারা দিয়ে ইজারাপ্রাপ্ত অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে প্রকাশ,ইউনিয়নের আকিলশাহ লঞ্চঘাট হইতে দবিরুল ইসলাম চৌধুরী লঞ্চঘাট পর্যন্ত এলাকায় বৃক্ষরোপন করার প্রকল্প দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা পকেটস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নামমাত্র ঠিকাদার এর দ্বারা মাত্র ১০ হাজার টাকা মূল্যের ১০০ গাছের ছারা অসময়ে রোপন করে ৩ লক্ষ টাকার ভূয়া বিল ভাউচার প্রস্তুত করেছেন। দিরাইয়ের খালেদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিভূ ঠিকাদারের নামে বৃক্ষরোপনের কাজটি তিনি ভাগিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউনিয়নের ভূক্তভোগী জনসাধারনের আবেদন উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান নিজ ক্ষমতার প্রভাবে ইউপি সদস্যা ডলি আক্তারের স্বামী মীরজাহানের নামে সরকারী টিউবওয়েল বরাদ্দ দেন। ২০১৬ অর্থ বছরের টিআরের বরাদ্দ দ্বারা এক লক্ষ টাকা ব্যয়ে অফিসের জন্য একটি কম্পিউটার ক্রয় করেন। আবার চলতি বছরে একই কম্পিউটারের বিপরীতে এলজিএসপির বরাদ্দ থেকে হাতিয়ে নেন আরো এক লক্ষ টাকা। সুরিয়ারপাড় হইতে বোয়ালিয়া বাজার পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর খেয়াঘাটটি লীজ দেন ৭০ হাজার টাকায়। গত ৩ বছর ধরে এ ঘাটটি তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইজারা দিলেও ইজারাপ্রাপ্ত অর্থ তিনি পরিষদের সরকারী ব্যাংক হিসেবে জমা দেননি।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান তালুকদার বলেন,৩ লক্ষ টাকা বৃক্ষরোপনের জন্য বরাদ্দ হলেও আমি এ পর্যন্ত ৭ লক্ষ টাকা বৃক্ষরোপন খাতে ব্যয় করেছি। এখনও কোন বিল তুলিনি। সুরিয়ারপাড় খেয়াঘাটটি নগদ টাকায় নয় বিনামূল্যে ইজারা দিয়েছি। কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। তাই পরিষদের ব্যাংক হিসেবে জমা করার প্রশ্নই আসেনা। আমার বিরুদ্ধে চিহ্নিত একটি কুচক্রীমহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে যাচ্ছে।
তেতৈয়া নিবাসী ডালিম মিয়া বলেন,আমি নিজে ২ বার চেয়ারম্যানের কাছ থেকে খেয়াঘাট লীজ নিয়েছি। প্রথমবারে ৪৪ হাজার টাকা দ্বিতীয়বারে ৭০ হাজার টাকা লীজমানি তার কাছে নগদ প্রদান করেছি। এ টাকা তিনি পরিষদের তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। আমার টাকা আমি চেয়ারম্যানের হাতেই দিয়েছি। চলতি বছর উক্ত খেয়াঘাটটি হবিগঞ্জ জেলার বাণিয়াচং থানার মার্কূলী গ্রামের বাচ্চু মিয়াকে অনুরুপভাবে ৭০ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। এ টাকাও চেয়ারম্যানের পকেটে আছে। বাচ্চু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,কোন নগদ টাকায় নয় চেয়ারম্যান সাহেব দয়া করে আমাকে মাগনা খেয়াঘাটটি ইজারা দিয়েছেন। কোন টাকা তিনি নেননি। গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল আলীম বলেন,যে ৩টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পুর্ণ সত্য। এ ব্যাপারে তদন্ত করলে চেয়ারম্যানের দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হবে। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার আজিজুর রহমানও চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিষয়টি স্বীকার করেন। সুরিয়ারপাড় গ্রামের সাবেক মেম্বার ইছহাক মিয়া বলেন,আমার বাড়ির পাশের গোদারাঘাটটি লীজ নেয়ার জন্য আমি নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে যাই। এসময় চেয়ারম্যান বাচ্চুকে নগদ ৭০ হাজার টাকায় লীজ দিয়ে দিয়েছেন বলে আমাকে প্রত্যাখ্যান করেন। তার ছত্রছায়ায় থেকে অস্থানীয় বাচ্চু খেয়া পারাপারে ছাত্র ছাত্রীসহ সাধারন মানুষের সাথে দিনের পর দিন অন্যায় আচরন করে যাচ্ছে। সাবেক চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া বলেন,আমি পরিষদের সকল সদস্যদের নিয়ে প্রকাশ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে এই খেয়াঘাটটি ইজারা দিয়ে ইজারাপ্রাপ্ত অর্থ পরিষদের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা করেছি। আমার আমলে কাউকে বিনামূল্যে খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। বরং বর্তমান চেয়ারম্যান সর্বশেষ ৭০ হাজার টাকা নগদ নিয়ে অস্থানীয় বাচ্চু মিয়াকে এই ঘাটটি লীজ দিয়েছেন বলে আমাকে অনেকেই বলেছেন।

Print Friendly, PDF & Email