Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

মমতা ময়ী মা (মা আমার মা)

পৃথিবীর সবগুলো আবেগ যে শব্দটির/ অক্ষরের মধ্যে বিরাজ করে তা হল মা। আমাদের জীবনে মা এমন একটি জায়গা যা সু-স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করার মত যথেষ্ট শব্দ বান্ডার এবং যোগ্যতা আমার নেই। এই শব্দটির ব্যাপ্তি এতই পরিসর যে, যা সু-স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করা অনেক বেশি কঠিন। আমাদের অনুভূতি, মমতা, ¯েœহ, ভালোবাসা, আদর, শাষণ, কোমলতা ¯িœগ্ধতা, প্রেরণা আগামীর পথ চলার সাহস কেবল এই একটি জায়গায়। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দটির নাম মা। মা আমাদের সেই গাছের ছায়া যেখানে জীবনের কঠোর তপ্ত রোধের মধ্যে এক পালি ছায়া। জীবনের সকল কষ্ট সহ্য করে বুকে চেপে দিন শেষে যার মুখে মলিন হাসি লেগে থাকে তার নাম “মা”। আমার বয়স যখন ছয় তখন আমাকে ক্লাস ওয়ানে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু হয়। আর এখান থেকে আমার পড়াশোনা যাত্রা শুরু। তখন আমি খুব সহজ সরল একটি গ্রামের ছেলে। মা আমাকে গরম ভাত খাওয়ানোর পর নারিকেল তেল মাথায় দিয়ে পরিপাঠি করে সুন্দর পোষাক পরিধান সহিত স্কুলে ভর্তি করিয়ে আসে। স্কুল জীবনের প্রথম দিনটি আমার জন্য যেমন টা ছিল নতুন অভিজ্ঞতা ও কৌতুহলের আমার মায়ের হয়তো তার ছেলেকে প্রথম স্কুলে পাঠিয়ে ওনিও বেশ চঞ্চলমুখর। স্কুল থেকে এসে মা তাড়াতাড়ি গোসল করিয়ে দিয়ে ভাত দিত। আমারা তখন গ্রামে থাকতাম, গ্রামের একটি সাধারণ প্রাইমারি স্কুলেই পড়ালেখা করতাম। আমরা তখন মেঝেতে পাটি (মাধুর) বিছিয়ে সবাই (মা,বাবা,ভাই,বোন) একসাথে বসে খাবার খেতাম। মা পিড়িতে বসে সবার জন্য খাবার দিত আর কারো কোন পছন্দের খাবার থাকলে তাকে তুলে দিতেন। ওহ! আমার মা সম্পর্কে একটু বলি… তিনি তখনকারের এইচ.এস.সি পাস। ডিগ্রিতে ভর্তির পর বিয়ে হয়ে যাওয়ার ধরুন ডিগ্রি পাশ টা হয়ে ওঠেনি। এক কথায় উচ্চ শিক্ষিত বলা যায়। আমাদের পাড়ায় তিনি একমাত্র পাড়ার বৌ-দের মধ্যে একটু বেশি শিক্ষিত ছিলেন। তিনি বহু মাত্রিক গুণে গুণান্বিত ছিলেন। আম্মার হাতের লেখা ছিল খুবই পরিচ্ছন্ন ও স্পষ্ট। তিনি আবৃত্তি, গান, লেখনিতে ছিলেন অনন্যা। তিনি দেখতে বেশ মমতাময়ী। ক্লাস ওয়ান থেকে ধীরে ধীরে আমি পঞ্চম শ্রেণিতে উঠি। মা প্রতিটা পরীক্ষার আগে আমাকে রান্না ঘরে পাটিতে (মাধুরে) বসাত। উনি রান্না করত আর আমাকে পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করত। এর মধ্যে একটু শাসনের কথা না বললে নই, আমি যদি কোন পরীক্ষার প্রশ্নের পুরো উত্তর না করে আসতাম সে দিন আমাকে দুপুরের খাবার দিয়া হত না। যদিও বিকালে আবার ডেকে চোখ বড় করে খাওয়াতো আর এক গাধা কথা শোনাতেন। যখন কোন পরীক্ষার রেজাল্ট দিত আর আমি যদি ৮০ এর উর্ধ্বে পেতাম সে দিন আমার জন্য ভালো রান্না হত। ভালো রান্না না থাকলেও যা রান্না হত আদর করে খাওয়াতো। যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠি তখন মা চায় আমি মাদ্রাসায় পড়ি আর আমার বাবা চায় আমি স্কুলে পড়ি। আব্বার চাওয়া পূরণ হল। যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি তখন স্কুলে জেলা পর্যায়ে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার আয়োজন শুরু হয়। প্রায় ২২ টা স্কুলে মিলে হবে এই প্রতিযোগিতা। আমিও অনেকটা সংস্কৃতিমনা। আবৃত্তি, গান, গজল এগুলোর প্রতি আমারও বেশ ঝোক ছিল। গজল এর কথা বলতেই আরো একটি কথা মনে পড়ে গেল। ইসলাম, নামাজ কালাম, দোয়া দরুদ, কুরআন তিলাওয়াত, রোজা সবকিছুতেই মা বেশ সচেতন ছিলেন। তিনি যখন নামাজ পড়তেন আমাদের পাশে বসিয়ে নামাজ শিক্ষা, দোয়া দরুদ, সূরা, কখন কোন সময় কোন দোয়া পড়তে হয় সব শিখিয়ে দিতেন এবং রাতে ঘুমানোর সময় ও তিনি বিভিন্ন দোয়া শিখাতেন। ইসলামী শরীয়াহ ও অনুশাষনে তিনি ছিলেন বেশ শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত। তিনি রমজানে আমাদের প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনদের জন্য প্রায় ৫-৬টি কুরআনে খতম দিতেন। তিনি ছিলেন বেশ ধৈর্যশীল। বিভিন্ন অসুস্থতা অপেক্ষা করেও নামাজ, রোজা ও কুরআন তিলাওয়াত করতেন। অষ্টম শ্রেণির জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের কথা বলছিলাম। যখন স্কুল থেকে প্রতিযোগিদের নাম জমা দিতে বলা হয় আমারও বেশ ইচ্ছা কাজ করছিল প্রতিযোগি হিসেবে অংশ নেয়ার। সেদিন স্কুল থেকে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় মায়ের সাথে পরামর্শ করলাম। মা সাহস দিল এবং তিনি অংশগ্রহণ করার জন্য বলল। পরদিন যথারীতি আমি স্কুলে গেলাম এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলাম। বিদ্যালয়ের সহপাঠিদের থেকে শুনলাম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নাকি কোন লাভ নেই। সব পুরস্কার কোয়ার্টারের (কোয়ার্টার বলতে সরকারী কর্মকর্তা যে বিশেষ জায়গায় থাকে আমাদের গ্রামের একটি সরকারী কোয়ার্টার আছে। বেশ সুন্দর পরিবেশ, সেখানে সরকারী কর্মকর্তা ছেলে মেয়েদের জন্য নাচ, গান, আবৃত্তি শিক্ষার ব্যবস্থা আছে এবং অভিভাবকরাও বেশ সচেতন) ছেলে মেয়েরা নিয়ে নেয়। আমাদের মত সাধারণ পরিবারের ছেলে মেয়েরা সেখানে অংশ গ্রহণ করলেও ভালো কিছু করতে পারতো না। আমাদের সাথে যারা কোয়ার্টারের ছেলে মেয়েরা পড়তো তারা সবাই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হতো। যা-হোক তবুও আমি হাল ছাড়লাম না। আমি এবং আমাদের ক্লাসের ফার্স্ট বয় রাহুল রায় মিশু আমরা দুইজন আমাদের স্কুল থেকে অংশগ্রহণ করলাম। ২২ টা স্কুলে শতাধিক প্রতিযোগি অংশগ্রহণ করল। আমি কবিতা আবৃত্তি ও নজরুল সঙ্গীতের অংশ গ্রহণ করলাম। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা একটা কবিতা সবার জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়। কবিতাটি ছিল ‘রবীন্দ্রনাথের’ “তোমার পতাকা যারে দাও”। মা আমাকে দিন-রাত এই কবিতাটি শেখায় এবং খুব ভালোভাবে শেখায় এবং আমি জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো আমাদের স্কুল থেকে আবৃত্তিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করি এবং বিদ্যালয়ে যে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হতো সেখানে সংগীত এবং আবৃত্তিতে প্রায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করতাম। তখন আমার বাবা একটা কলেজের প্রধান সহকারি ছিলেন। যা বেতন পেতেন তা আমরা চার ভাই ও এক বোনের পড়ালেখার খরচ ও সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। আর বাবাকে সর্বোচ্চটুকু সাপোর্ট দিয়ে যেতেন আমার মা। আমাদের পুরো পরিবারে অস্তিত্ব জুড়েই ছিলেন আমার মা। যেদিন রান্না কম হতো কিংবা আমাদের জন্য যথেষ্ট রান্না ছিল না এরপরও তিনি খাবারের অংশটুকু আমাদের খাওয়াতেন এবং এমন ভাব করতেন যে তিনি এমন ভাবে খেয়েছেন যেন কয়েক বেলা না খেয়ে থাকতে পারবেন। তিনি আমাদের বলতেন আমি নামাজ পড়ে খাবো বা আমার ঘুম পাচ্ছে আমি ঘুম থেকে উঠে খাবো। কতই না মিথ্যা অভিনয় করতেন। এই অভিনয় গুলো আমাদের মনের সেই কোণে এখনো দাগ কাটে। আমাদের পড়ালেখার জন্য তিনি ছিলেন বেশ সচেতন। প্রাইভেট বা কোচিং দিতে না পারলেও তিনি নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আমাদের পড়ালেখা করানোর চেষ্টা করতেন। আমাদেরকে বড় করে মানুষের মত মানুষ করার, সম্মানের পাত্র বানানোর জন্য যেন তার সৃষ্টি। আর যদি কোনো কোচিং বা স্যারের কাছে পড়তে চাইলে, তিনি না করতেন না। মাস শেষে শিক্ষকদের বেতন কোথা থেকে জোগাড় করবে ভাবার আগে আমাদের কথা ভাবেন। আমরা যেন ভালো স্যারের কাছে পড়ে ভালো রেজাল্ট করি। দিন শেষে মায়ের কোচিং বা স্যারের বেতন দেয়ার কষ্ট দেখে আমি কোন কোচিং বা স্যারের কাছে পড়ার আবদার করতাম না। মহসিন স্যার (আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক) আমাদের বাড়ির পাশেই থাকত। খুবই আন্তরিক এবং মুখে সবসময় হাশি লেগে থাকত। আমি ওনার কাছে প্রায় সব বিষয়ে পড়তাম। বেতন টা ভালোভাবে দিতে পারত না বলেই আম্মা এটা ওটা নাস্তা বানিয়ে ওনাকে খাওয়াতেন। এসএসসি পরীক্ষার আগে আমি যখন সকালে উনার কাছে পড়তে যেতাম স্যার তখন বাজার করতে যেতেন। তখন নিচের ক্লাসের (ষষ্ট, সপ্তম, অষ্টম, নবম) শ্রেণির ছেলে মেয়েরা উনার কাছে পড়তে আসত। আমাকে বলতো আমি যেন ওদের পড়ায় আর ওনি বাজার করে এসে আমাকে পড়াবেন। বুঝতে পারলাম আমি বেতন দিতে না পারাই তিনি সেটা অন্যভাবে পুষিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু এটা আমার জন্য কতটা উপকার হয়েছে তা স্যারকে ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করা যাবে না। এটা আমার পড়ানোর নৈপুণ্যতাকে একটু হলেও শাণিত করেছে। স্যার বাজার থেকে আসতে না আসতে স্কুলের সময় হয়ে যায়। আর স্যারের আমাকে পড়ানোর সুযোগ থাকে না। এভাবে সাত দিনের মধ্যে তিন থেকে চার দিন স্যার থেকে পড়তাম। এসএসসি পাশ করলাম। কলেজে ভর্তি হলাম এবং শুরু হল আমার টিউশনে যাত্রা। যখন থেকে টিউশন শুরু করলাম এবং কোচিং এ ক্লাস নেওয়া শুরু করলাম তখন থেকে নিজের সকল খরচ ও পড়ালেখার খরচ নিজেই মিটাতে লাগলাম। কিন্তু এর মধ্যে বিভিন্ন অসুস্থতা শুরু হল আমার মায়ের। একটার পর একটা রোগ আমার মা-কে গ্রাস করতে লাগল। রোগ থাকলেও মা সেটা দেখাতেন না। আমাদের বড় করার স্বপ্নে তিনি বিভোর ছিলেন। ভুলে যেতেন রোগের কথা। এইচএসসি শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। বাবাও অবসরে চলে আসল। বোনের বিয়ে হলো। বড় ভাই থেকেও নেই। পরিবার আস্তে আস্তে আমার উপর নির্ভরশীল হতে লাগল। টিউশন, ব্যাচ পড়ানো, কোচিং এর ক্লাস আমার কাছে নেশার মতো হয়ে উঠল। মা ধীরে ধীরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমার দায়িত্ব আরো বেড়ে যায়। তিনি আমার বা আমাদের কষ্ট হবে বলেই রোগের কথা গোপন করতেন। ওনার অসুস্থতার জন্য যদি আমাদের কাছের কোন স্বজন আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে তিনি তা রোগের পেছনে খরচ না করে বাড়ির অভাব পূরনে খরচ করতেন। পাড়ার সকল সামাজিক কাজে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের যে কোন অনুষ্ঠানে তিনি রোগ অপেক্ষা করে নিজেকে উজার করে দিয়ে যেকোন আনুষাঙ্গিক কাজ করতেন। নিজের কায়িক শ্রম দিয়ে যেকোন কাজে বা উপকারে তিনি ছিলেন প্রতীয়মান। স্বাভাবিকভাবে আমরা একটু মধ্যবিত্ত হওয়াতে অনেকের অবহেলার পাত্র ছিলাম এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক। অনেকের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য আমাকে এখন আঘাত করে। তাই আম্মার এই হেন অবস্থায়ও আমি আমার কোন স্বজনের দ্বারস্ত না হওয়ার চেষ্টা করতাম। একদিন আমার মায়ের রোগ ধরা পড়ে। ব্রেস্ট ক্যান্সার! কথাটা শোনার পর আমার পায়ের নিচের মাটি যেন সরে যাচ্ছিল। আমরা বিভিন্ন ডাক্তারের শরণাপন্ন হই এবং বাংলাদেশের কিছু ডাক্তার নিয়েও কিছু বাজে অভিজ্ঞতারও সৃষ্টি হয়। আম্মাকে আমরা কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ইত্যাদি ডাক্তারের পরামর্শে দিতে থাকি। আমার কখনো হার্টের ডাক্তার, কখনো সার্জারির, কখনো ডায়বেটিসের ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। ক্যান্সার হওয়ার পর ওনার আচরণ গুলো অনেকটা বাচ্চা শিশুর মতো হয়ে যায়। তিনি বার বার বলতো ভালো করে পড়ালেখা করিস আর তোর ছোট ভাইদের প্রতি খেয়াল রাখিস। আমি প্রাণপন চেষ্টা করতে লাগলাম মা-কে সুস্থ করার জন্য। টিউশন, কোচিং থেকে যা পায় তা-ই মায়ের পেছনে খরচ করতে লাগলাম। শেষ মুহূর্তে অনেক স্বজন কিছু আর্থিকভাবে সাহায্য করতে লাগল। যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট ছিল না। আমি মা-কে সবসময় সাহস দিতাম যেমনটা ওনি আমাকে দিতেন। আমি বলতাম ওনাকে শীগ্রই ইন্ডিয়া নিয়ে যাবো। ওখানের ডাক্তারের সাথে আমার কথা হয়েছে, আপনি ভাল হয়ে যাবেন। আমি ইতিমধ্যে অনেক কষ্টে আমার আর মায়ের জন্য পাসপোর্ট বানিয়ে ফেললাম। যেদিন আমার পাসপোর্টটা অফিস থেকে সংগ্রহ করার জন্য মোবাইলে মেসেজ এলো সেদিন ছিলো ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ। আমার মা তখনও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আমি পাসপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য মেডিকেল থেকে বের হয়ে ছিলাম। তখন আমার ছোট ভাই আদিব আমাকে বার বার কল দিতে লাগল এবং জোড়ে জোড়ে বলতে লাগল আমি যেন দ্রুত আসি। আমি দ্রুত সিএনজি নিয়ে মেডিকেলে আসলাম। সবাই তখন চিৎকার করে কাঁদছে, আমি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখি আমার মা আর নেই!!। আমার একটি বারের জন্য মনে হচ্ছিল না আমার মা নেই। আমি চিৎকার করে ডাক্তারকে আনলাম। আমি চিৎকার করে বলছিলাম আমার মা-কে ঘুম থেকে তুলেন আমাদের পাসপোর্ট রেডি। আমি জরুরি ভিসা নিয়ে আমার মা-কে ইন্ডিয়া নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাবো। কিন্তু এই পাসপোর্ট দিয়ে যে শুধু যাওয়া যায়, আর আসা যায় না। সেটা আমার জানা ছিল না। আমার মা সবার কষ্টকে দূর করে দিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা মুক্ত করে দিয়ে দারিদ্রতাকে আলিঙ্গন করে চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন। আমার মায়ের ঘামে ভেজা সেই গন্ধ আমরা এখন আর পায় না। খেয়েছিস? এতো দেরি হলো কেন? পড়ালেখা করে যখন বড় চাকরি করবি তখন ঈদে আমাকে একটা দামি শাড়ি কিনে দিস। কথা গুলো এখন আর কেউ বলে না। নিজের সব কিছু আমাদের উজার করে দিয়ে আমাদের কিছু করার সুযোগ না দিয়ে তিনি ঘুমিয়ে গেছেন সারা জীবনের জন্য।

আজকের মা দিবসে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা, সালাম এবং নিরন্তর ভালোবাসা আমাদের মায়ের জন্য এক আকাশ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা এই হোক প্রতিটি সন্তানের ইচ্ছে।
ভালোবাসি মা, অনেক বেশি!!!।
লেখক: তানভীর আহমেদ সিদ্দীকি
সংগঠক ও শিক্ষার্থী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Print Friendly, PDF & Email