Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ধোপাজান চলতি নদীতে নৌযান ও পরিবেশ আইন লঙ্গন করে অবৈধভাবে কার্গো বলগেট প্রবেশের ঘটনায় উত্তেজনা

আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
এলাকাবাসীর সাথে চুক্তি লঙ্গণক্রমে বালি পাথর ব্যবসায়ীগণ কর্তৃক ধোপাজান চলতি শাখা নদীতে অবৈধভাবে কার্গো বলগেট প্রবেশ বন্ধের দাবী এখন গণদাবীতে পরিণত হয়েছে। ছোট শাখা নদীতে অবৈধভাবে কার্গো বলগেট প্রবেশ করত: বালি পাথর আমদানী করার ফলে কার্গো বলগেড এর প্রবল শ্রোতে মানুষের বাড়িঘর জমি ও মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আইন অমান্যকারী বালি পাথর ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ড্রেজার ও বোমা মেশিন চালিয়ে পরিবেশ এর ক্ষতিসাধন ছাড়াও নদীর পাড় ভেঙ্গে জনবসতিগুলোকে টেলে দিচ্ছে হুমকীর মুখে। জেলা প্রশাসক,পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দফায় দফায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছেনা।
অভিযোগে প্রকাশ,বিগত দিনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধোপাজান খাল (চলতি নদী) দিয়ে ছোট ছোট বারকি নৌকায় বালি পাথর এনে সুরমা নদীর উপর কার্গো বলগেট রেখে বুঝাই করে ব্যবসায়ীগণ বালু পাথর ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গত বছর থেকে কিছু কিছু দুষ্কৃতিকারী ব্যবসায়ীগণ অধিক মুনাফা লাভের আশায় বেআইনীভাবে পরিবেশ,নৌযান ও দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘণ করে ধোপাজান চলতি শাখা নদীতে অবৈধভাবে কার্গো বলগেট প্রবেশ করিয়ে বালি পাথর আমদানী করত: মানুষের বাড়িঘর জমি ও মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন করলে ইব্রাহিমপুর ও সদরগড় গ্রামবাসী তীব্র প্রতিবাদ করেন। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীগন গত ২৬/৫/২০১৮ইং তারিখে এলাকাবাসীর কাছে এক অঙ্গীকারনামা প্রদান করে ধোপাজান চলতি শাখা নদীতে অবৈধভাবে কার্গো বলগেট প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকেন।
কিন্তু চলতি বছর এলাকাবাসীর সাথে লিখিত চুক্তি লঙ্গণ করে কতিপয় বালি পাথর ব্যবসায়ীগণ কর্তৃক ধোপাজান চলতি শাখা নদীতে অবৈধভাবে কার্গো বলগেট প্রবেশ করিয়ে বালি পাথর আমদানী করত: মানুষের বাড়িঘর জমি ও মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন করে যাচ্ছে।
ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসন নদীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে কিছু কিছু দুষ্কৃতিকারীগনকে আটক ও দন্ডাদেশ প্রদান করলেও বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাকি দিয়ে ধোপাজান চলতি শাখা নদীতে কতিপয় ব্যবসায়ীগন অবৈধভাবে কার্গো বলগেট প্রবেশ করিয়ে বালি পাথর আমদানী করত: মানুষের বাড়িঘর জমি ও মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন অব্যাহত রেখেছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সম্প্রতি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ বাহিনীর হাতে ধোপাজান চলতি শাখা নদীতে খুন হয়েছেন ইব্রাহিমপুর গ্রামের প্রতিবাদী যুবক মিজানুর রহমান মিজান।
বর্তমানে এলাকাবাসী চুক্তি লঙ্গণকারী বালি পাথর ব্যবসায়ীগণ কর্তৃক ধোপাজান চলতি শাখা নদীতে অবৈধভাবে কার্গো বলগেট প্রবেশ করিয়ে বালি পাথর আমদানী করত: মানুষের বাড়িঘর জমি ও মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনকারীদের যেকোন মূল্যে প্রতিহত করতে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ।
এ ব্যাপারে অচিরেই বৃহত্তর গণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ইব্রাহিমপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবাদুর রহমান এর পুত্র আনিসুর রহমান রনিসহ এলাকাবাসী।
অপর এক খবরে প্রকাশ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা নদীর মোহনায় ইব্রাহিমপুর এলাকায় ধোপাজান চলতি নদীতে জাহাজ ও কার্গো প্রবেশে প্রতিবাদ সভা পন্ড করে দিয়েছে পুলিশ। সোমবার সকালে ধোপাজান নদীর মোহনায় সভার মঞ্চ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। একাধিক সুত্র জানায়, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মধ্যবর্তী পাথর মিশ্রিত বালি মহাল ধোপাজান চলতি নদীতে ড্রেজার ও বোমা মেশিনের তান্ডবে নদীর দুপাড়ের ফসল জমি, বাড়ীঘর, মসজিদ মন্দির ও স্থাপনা বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে। অনেকে নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ভিটে বাড়ী হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। সেই সাথে চলছে জাহাজ কার্গোতে বেপরোয়া চাঁদাবাজীর মহোৎসব। শাখা নদী দিয়ে ধোপাজানে ঢুকে বালি ও পাথর আহরন করলে বেকার হয়ে পড়ে হাজারো শ্রমিক এবং নদীর দুপাড় ভেঙ্গে শত শত বাড়ীঘর ও স্থাপনা ধোপাজান নদীর পেঠে ঢুকে নি:স্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। নিরবে নিভৃত্বে কোন প্রতিবাদ ছাড়াই চলে যেতে হচ্ছে অন্য স্থানে। সুরমা নদী থেকে ধোপাজান নদীতে প্রবেশে বাধাঁ দিতে গিয়ে শ্রমিক সমাবেশ ঘটানোর চেষ্টা করলে পুলিশি বাধাঁয় তা ভেস্তে যায়। পরে বিশাল মিছিল সহকারে জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে তাদের লিখিত অভিযোগের কপি হস্তান্তর করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ধোপাজান চলতি নদীতে জাহাজ বা কার্গো প্রবেশ করলে নদীর তীরসহ ফসলী জমি, ঘরবাড়ী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি, নদীর পাড় ধসের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করছে আর শ্রমিকদের রুটি রুজি বন্ধ হয়ে যাবে। সুরমা নদীতে কার্গো বা জাহাজ থাকলে ছোট ছোট নৌকা কিংবা ষ্টিল বডি দিয়ে বালি ও পাথর পরিবহণ করে হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উপজেলা যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান রনির নেতৃত্বে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াছমিন নাহার রুমা জানান, নদীর ভাঙ্গন রোধে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং স্থানীয়দের পাশে থাকবো। আর ড্রেজার ও বোমা মেশিনের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব থাকায় বিষয়টি স্যারদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো: বরকতুল্লাহ খান জানান, পুলিশ সব সময় শ্রমজীবি মানুষের কল্যানে কাজ করছে, তাদের ন্যায় সঙ্গত দাবী দাওয়া যথাযথ সম্মানের সাথে বিবেচনা করা হবে। তবে ধোপাজান নদীতে কোন পক্ষ বা গোষ্টি নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলন সংগ্রামের নামে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করলে তাদের কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। কার্গো বলগেট এর বেআইনী প্রবেশ রোধ,ড্রেজার ও বোমা মেশিন বন্ধ এবং নদীতে চাঁদাবাজী বন্ধে সদর থানা পুলিশের ওসি মো: শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে দিনরাত দুটি টিমের মাধ্যমে টহল জোরদার বাড়ানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যত শীঘ্র কার্গো বলগেট এর বেআইনী প্রবেশ রোধ,ড্রেজার ও বোমা মেশিন বন্ধ এবং নদীতে চাঁদাবাজী বন্ধে সক্রিয় উদ্যোগ নেবে তত দ্রæত ঐ নদীতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে।

Print Friendly, PDF & Email