Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

অবৈধ মোটর সাইকেলের নয়াহাট কর্ণফুলী!


জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বেশির ভাগেই ভারত থেকে স্থল পথে আসে এসব চোরাই মোটর সাইকেল। সীমান্ত পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দ্রুত সময়ে এসব মোটর সাইকেল বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে যায়। বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলীকে অবৈধ মোটর সাইকেল বেঁচা-কেনার নিরাপদ হাট হিসেবে নিয়েছে চোরাই সিন্ডিকেটের কয়েকটি গ্রুপ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাজার মূল্যের চেয়ে অর্ধেকেরও কম মূল্যে হাত বাড়ালেই ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটর সাইকেল কর্ণফুলীতে পাওয়া যাচ্ছে। সু-কৌশলে এসব মোটর সাইকেল আবার এখানে হাত বদল হয়।
সম্প্রতি এ উপজেলার মইজ্জ্যারটেক মোড়ের হোটেল ক্যাফে ফরহাদের সামনে, আনোয়ার সিটি-নুর মার্কেট ও হাজী টাওয়ারের মার্কেট চত্বর, পুরাতন ব্রীজঘাট স্টেশন, ইছানগর বাজার-বিএফডিসি সড়ক, শিকলবাহা কলেজ বাজার ও মাস্টার হাট ও বোর্ড বাজার সহ বিভিন্ন মার্কেট ও অফিসের সামনে নম্বর প্লেটবিহীন/ভূয়া নাম্বার সংযুক্ত প্লেট ও অন টেস্ট লেখা অসংখ্য মোটর সাইকেলের দেখা মিলে।
পুুরা উপজেলায়, এসব অবৈধ মোটর সাইকেল ব্যবসার সাথে জড়িত কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং প্রভাবশালী বিভিন্ন পেশার লোকজনের সমন্বয়ে উঠতি বয়সী কিছু বিপদগামী তরুণেরা গড়ে তোলেছে এসব চোরাই মোটর সাইকেল বেচাকেনার সিন্ডিকেট।
এসব সিন্ডিকেট আবার বেচা কেনার করার সময় সরাসরি বলে থাকেন। চায়না মোইলের মতো কোন ওয়ারেন্টি গ্যারান্টি নেই। পছন্দ হলে নিতে পারেন সূলভ মূল্যে। এতে অল্প সময়ে হাত বদল করে কয়েক ঘন্টায় কিংবা রাতারাতি লাখ লাখ অবৈধ টাকা আয়ের সুযোগ লুপে নেয় তারা।
র্সোসের দেওয়া নানা তথ্যমতে জানা যায়, বেশির ভাগ মোটর সাইকেলের যন্ত্রাংশ আলাদা ভাবে র্কাটুনে প্যাকেট করে উপজেলায় রাতে প্রবেশ করে। পরে এসব যন্ত্রাংশ ফিটিং করে অবিকল শো-রুমের মতো ডিসকভার, জিংফু,পালসার, সিবিজেড, ইয়ামাহা, টিভিএস এফজেড, হিরু হোন্ডা, বাজাজ, মাহিন্দ্রসহ প্রতিটি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের মোটর সাইকেল সর্ম্পূন হলে পরে ৬০ থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হয়।
সরকারি শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে উপজেলায় গড়ে উঠা এই অবৈধ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ভারতের সিন্ডিকেট থেকে মোটর সাইকেল কিনে নিয়ে কৌশলে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রথমে দেশে নিয়ে আসে। পরে সিন্ডিকেটটির নিজ দায়িত্বে সড়ক বা জলপথ অতিক্রম করে খোলা যন্ত্রাংশ অথবা পরিপূর্ণ ফিটিং করা মোটর সাইকেল জেলা উপজেলায় থাকা তাদের সিন্ডিকেটের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
অপরদিকে বিআরটিএ’র রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ১০০ থেকে ১৫০/১৭৫ সিসিসি মোটর সাইকেলের দেশে বাজার দর ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ কর্ণফুলীতে এ ধরনের অবৈধ মোটর সাইকেল ৫০ থেকে ৭০/৯০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় গড়ে উঠা আরেকটি সিন্ডিকেটের কাছে টাকা পৌছে দিলে নাকি নকল ক্রয়-বিক্রয় রশিদের ভিত্তিতে বিভিন্ন পরিবহন অথবা পার্শ্বেলে কোরিয়ার মাধ্যমে মোটর সাইকেল নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছে যায় বলে লোকেমূখে প্রচার রয়েছে।
এসব বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, আমদানী-রপ্তানির এবং কাস্টমস-সহ সংশি¬ষ্ট মহলের কোন কাগজ পত্র না থাকায় এসব মোটর সাইকেল গুলোর বৈধ রেজিস্ট্রেশন নেই। কারো কারো ক্ষেত্রে কেবল বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ক্রয়-বিক্রয় রশিদ পাওয়া যায়।
বিআরটিএ সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে ডিজিটাল সিস্টেম চালু থাকায় অবৈধ মোটর সাইকেলগুলো রেজিস্ট্রেশনের কোন সুযোগ থাকে না। ফলে হালাল করার জন্য সামনে পেছনে সাংবাদিক, পুলিশ অথবা বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী পরিচয় কিংবা প্রতিষ্ঠানের স্টিকার লাগিয়ে এসব মোটর সাইকেল নির্বিঘেœ ব্যবহার হচ্ছে সড়কে।
অনেকে আবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি হতে রক্ষা পেতে অবৈধ মোটর সাইকেলের ইঞ্জিন ও চেচিস নাম্বার টেম্পারিং করে কৌশলে বদল করে জায়েজ করার ধান্ধায় রয়েছে। অথচ মোটর সাইকেলের সার্বিক অবস্থা, মডেল আর রেজিস্ট্রেশনের সিরিয়াল নাম্বারের সাথে সব কিছু মিলিয়ে দেখলে নেপথ্যের সুক্ষ্ম কারসাজির সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি সহজেই ধরা পড়ে বলে জানা যায়।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতীয় মোটর সাইকেল প্রবেশ করে কর্ণফুলীতে বাজার সয়লাব হওয়ার নানা কারণও রয়েছে। এসব চোরাই বাইকে সহজে ইয়াবা পাচার করা, বৈদেশিক টাকার গরম এবং ব্যবসায়ী ও উঠতি তরুণের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মোটর সাইকেল সব চেয়ে বেশি বেঁচা-কেনা হচ্ছে।
উপজেলা পর্যায়েও এই ব্যবসার সিন্ডিকেটের একাধিক প্রতিনিধি রয়েছে। ভারত থেকে আসা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটর সাইকেলের সাথে বিভিন্ন সময় চুরি হওয়া অনেক মোটর সাইকেলও কম দামে বিক্রি হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে আবার নতুন-পুরাতন মোটর সাইকেল কোথাও চুরি হলে পুলিশ উদ্ধার করার পর কাগজ জটিলতায় মালিক ফেরত পাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে বিআরটিএ চট্টগ্রামের রেজিস্ট্রেশন বিভাগের এক অফিস কর্মকর্তারা বলেন, ‘দ্রুত সময়ে সকল যান বাহনের কাগজপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়। সহজে রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য মেসেজের মাধ্যমেও অনেক সুযোগ পাচ্ছে। চোরাই মোটর সাইকেল বাণিজ্য রোধে মূল ভূমিকার দায়িত্ব কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
নকল যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়, তেমন নকল ভ্যাট ও রেজিস্ট্রেশনের কাগজও অনেকে বানাতে পারে। যা একটু খতিয়ে দেখলে সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে কথা হলে কর্ণফুলী থানার অপারেশন অফিসার খন্দকার আওরঙ্গ জেব জানান, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা জুড়েই চোরাই মোটর সাইকেল ও চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এবং কারো কাছে চোরাই মোটরসাইকেল কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত এ রকম তথ্য থাকলে স্থানীয় থানায় জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।’

Print Friendly, PDF & Email