Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

সাবরেজিষ্টার ও ইউনিয়ন সহকারি ভুমি কর্মকর্তা মালপানি খেয়ে শৈলকুপায় একজনের জমি অন্যজনের নামে রেজিস্ট্রি করলেন

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আচার্য ও উমেদপুর ইউনিয়ন সহকারি ভুমি কর্মকর্তা সুবাস সাহার বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে একজনের জমি অন্যজনের নামে রেজিষ্ট্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফলে জমি নিয়ে ওই এলাকায় মামলা হামলার পাশাপাশি সামাজিক দাঙ্গা ও অস্থিরতার আশংকা করছেন এলাকাবাসি। শৈলকুপার উমেদপুর ইউনিয়নের আড়–য়াকান্দি গ্রামের আব্দুর রব অভিযোগ করেন, ওই গ্রামের নাদের হেসেন বিশ্বাসের ছেলে হাবিবুর রহমান উমেদপুর ইউনিয়ন সহকারি ভুমি কর্মকর্তা সুবাস সাহার মাধ্যমে ভুয়া পরচা বানিয়ে তিন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করেছেন। সাব রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আচার্য কাগজপত্র যাচাই না করেই ওই জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে ২০১৮ সালের ১২ আগষ্ট ৪৮৪২ নম্বর কোবলা দলিলে আড়–য়াকান্দি গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে জামিরুল লস্করের কাছে দুই শতক, একই বছরের ৩০ সেপ্টম্বর ৫৮৮৮ দলিলে লুৎফর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমানের কাছে ১৪ শতক এবং ১৩ নভেম্বর ৭১৪১ নম্বর দলিলে আব্দুর রশিদের ছেলে রাশিদুলের কাছে আরও দুই শতক জমি বিক্রি করে দেন। রেজিস্ট্রিকৃত দাগগুলোর অস্তিত্ব জমাখারিজ কাগজপত্র ও খতিয়ানে নেই। শৈলকুপা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ইফতেখার ইউনুস মনে করেন ওই কাগজপত্রগুলো ছিল জাল। জাল কাগজপত্র তৈরী করে জমি রেজিষ্ট্রি হওয়ার পর ক্রেতারা ওই জমিতে ঘরবাড়িও তৈরী করেছেন। এলাকায় সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, জমি বিক্রেতা হাবিবর রহমানের ভাই আব্দুর রব ভায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে। শৈলকুপার উমেদপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের সহকারি ভূমি অফিসার সুবাস সাহাকে তদন্তের ভার দিলেও তিনি মালপানি খেয়ে ওইসব জমি ক্রেতাদের দখলে আছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। বিষয়টি আরও জটিল হলে আদালতের নির্দেশে শৈলকুপা থানাকে পুণরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। থানার একজন সাব ইন্সপেক্টর অধিকতর তদন্ত করে প্রকৃত বিষয় উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে একজনের জমি অন্যের নামে বিক্রি করার তথ্য প্রমানিত হয়। বিষয়টি নিয়ে উমেদপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারি ভূমি অফিসার সুবাস বলেন, তিনি যেটি করেছেন সঠিক করেছেন। উমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্লার সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, জমি বিক্রির ফলে এলাকায় সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে একাধিকবার তিনি ও তার মেম্বরা শালিস বৈঠক করেছেন। আদালতে ইউনিয়ন ভুমি অফিসারের দাখিল করা প্রতিবেদনের কারণে এই জটিলতা নিরসন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও চেয়ারম্যান সাব্দার মোল্লা মনে করেন। শৈলকুপার সাব রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আচার্যের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, প্রতিদিন কাজের চাপে কোনটি আসল আর কোনটি নকল তা চেনার উপায় থাকেনা। তাছাড়া, জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় কাগজপত্র যাচাই করে দেখার বিধান নেই। ফলে রেজিস্ট্রির জন্য যেসব কাগজপত্র দাখিল করা হয় তাতের ওপর ভিত্তি করেই তিনি রেজিস্ট্রি করে দেন। এব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল মালেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email