Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বান্দরবানে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপন্ন, পাহাড় ধসের আশংকা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে প্রশাসনের মাইকিং


বাসুদেব বিশ্বাস(বান্দরবান প্রতিনিধি)
কয়েকদিনের টানা বর্ষনে বান্দরবানে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষনে জেলা সদর ছাড়া ও লামা, রুমা, থানছি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সাংগু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
টানা বর্ষণে বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে জনসাধারণকে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
দুপুরে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা জেলা সদরের ইসলামপুর, কালাঘাটা, বালাঘাটা, ইসলামপুর, লাঙ্গীপাড়া, বড়–য়ার টেক, হাফেজঘোনাসহ বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানরত বাসিন্দাদের আশ্রয়স্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে গিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও রেড ক্রিসেন্টেরের মাইকিং এর ফলে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্র ফিরছে জনসাধারণ।
বান্দরবান হাফেজঘোনা সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নেয়া মোঃ কামাল মিয়া বলেন, মাইকিং শুনে আমরা বাসা থেকে সরে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসছি। আজ সকালে বাসায় গিয়ে দেখি আমাদের বাসার উপর মাটি পড়েছে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেছেন। আমরা এখন নিরাপদে আছি।
বান্দরবান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিতে আসা থুনুপ্রু মার্মা বলেন, আমাদের বাসায় পানি উঠছে তাই আমি আমার ছেলে মেয়েদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে আসছি।
এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নোমান হোসেন, রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি একেএম জাহাঙ্গীসহ রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা উপস্থিত থেকে এই অভিযানে অংশ নেয়।
রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, বান্দরবানের এই বন্যাকালীন ও পাহাড় ধ্বস মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন-উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, রেড ক্রিসেন্টসহ সকলে আমরা সম্মিলিত প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন-উপজেলা প্রশাসনের সাথে আমাদের রেড ক্রিসেন্টের ইয়ুথরা পাহাড়ের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং করছেন। জেলা প্রশাসন-উপজেলা প্রশাসন সেনাবাহিনী ও পৌরসভার সাথে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া সকলের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থার রেখেছি। ইতোমধ্যে বান্দরবান সদরে প্রায় ১৫০ পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। সাঙ্গুনদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডে রিপোর্ট আনুযায়ী এখনো ৩ সেন্টিমিটারের উপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এটি তারা নিশ্চিত করেছেন। যদি আবহাওয়া চলমান এভাবে থাকে তাহলে ৫-৬ ঘণ্টার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোর নিবে আমরা বুঝতে পারবো। আগাম কিছু বলা যাচ্ছেনা যেহেতু এটি প্রকৃতি নির্ভর। তাই আমরা আশা করি এই দূর্যোগ কালীন সময়ে সকলের সহযোগিতায় আমরা সকল কে নিরাপদে রাখতে পারবো এই আশা রাখি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জনসাধারণ কে সরিয়ে নিতে সর্তক অভিযান বলছে বলে জানান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম। এসময় তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সহ বিভিন্ন বিভাগের সর্তক মাইকিং এর পর থেকে এবং জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সর্তক অভিযানের ফলে পাহাড়ের পাদদেশে এখন তেমন একটা পরিবার ঝুঁিকপূর্ণ অবস্থায় নেই। বর্তমানে বান্দরবান সদরের ১০ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে । যার মধ্যে প্রায় ১৫০ পরিবার বর্তমানে অবস্থান করছে। আশা করছি আরো ১ দেড়শ পরিবার তাদের বিভিন্ন আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে। এসময় তিনি আরো বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে বান্দরবানে পাহাড় ধস, নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আশংকায় বান্দরবানের দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা সদরে ১০টি ও পুরো জেলায় ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email