Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

জরুরী আশ্রয়সামগ্রী বিতরণ বৃদ্ধি করেছে আইওএম

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেচলমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ৭তম দিনঃ
জরুরী আশ্রয়সামগ্রী বিতরণ বৃদ্ধি করেছে আইওএম

কক্সবাজার (১১.০৭.১৯)- দেশের দক্ষিণে অবস্থিত কক্সবাজারে টানা বর্ষণ ও ঝড়ো বাতাসের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাজার হাজার মানুষের আশ্রয় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, পাশাপাশি আশ্রয়ও হারাচ্ছে এসব শরনার্থীরা। একইসাথে এ বিশাল জনগোষ্ঠীর পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকাও বাড়ছে। গত ৪ জুলাই হতে শুরু হওয়া চলমান মৌসুমী বৃষ্টিপাতের কারণে গত বছরের তুলনায় বেশি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

আইওএম-বাংলাদেশ মিশনের উপ প্রধান ম্যানুয়েল পেরেইরা বলেনঃ “টানা বর্ষণ ও ঝড়ো বাতাসে ক্যাম্পে অবর্ণনীয় দুর্দশা বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের জরুরী সাহায্য প্রদান ও তাদের পুনরায় আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমাদের সবগুলো টিম দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। যদিও আমরা দুর্যোগের তাৎক্ষনিক ক্ষতি কাটানোর জন্য কাজ করছি কিন্তু আমাদের অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিতে হবে।“

তিনি আরো বলেনঃ “আইওএম গত দুইদিনে (৯ এবং ১০ জুলাই) প্রায় ৬,০০০ রোহিঙ্গাকে জরুরী সাহায্য প্রদান করেছে এবং ২০১৮’র শেষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৭০ মানুষকে জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কিন্তু আমরা দেখছি যে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি এই অঞ্চলের মানুষকে বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ করছে এবং আমরা সবে মাত্র এই মৌসুমের অর্ধেক সময় পার করছি।“

গত ৪৮ ঘন্টায় আইওএমের ক্যাম্পে থাকা টিমগুলো ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে প্রায় ৫,০৭৯ টি প্লাস্টিক ট্রিপল বিতরণ করেছে। কুতুপালং মেগাক্যাম্প এলাকায় গত ২৪ ঘন্টায় মোট ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আইওএম এবং এর পার্টনার সংস্থাগুলো চলমান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে প্রয়োজনমত তাৎক্ষণিক সাহায্য করছে। আজকে (১১ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে ফলে ক্যাম্প ও আশে-পাশের এলাকায় রাস্তাঘাট, সেতু এবং নালা-নর্দমা’র অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে বলে আশংকা করছেন আইওএম এর প্রকৌশলীরা।

গত ৯ জুলাই রাত থেকে ১০ জুলাই রাত পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ৯৯৮ জন মানুষ এবং ৯১২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আইওএমের টিমগুলো গত ২৪ ঘন্টায় মোট ৬টি মাটিধ্বস, ৮ বার ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত এবং ১৭৪ জন মানুষ গৃহহীন হওয়ার খবর রেকর্ড করেছে।

আইএসসিজি (ইন্টার সেক্টর কোর্ডিনেশন গ্রুপ) বলছে মৌসুমী দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এবছর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০১৮ সালের রেকর্ড ছাড়াতে পারে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ীঃ

• ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ৪৫ হাজারেরো বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ২০১৮ সালের মৌসুমে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫ হাজার।
• ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৫,৬০০ মানুষ গৃহহীন হয়েছে অথচ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬,২০০।
• এই বছর জুলাইয়ের প্রথম ১০ দিনে প্রায় ২২,০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অন্যদিকে ২০১৮ সালে গোটা জুলাই মাসে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল ১৯,০০০ মানুষ।

Print Friendly, PDF & Email