Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র সংলাপে ড. মুজাহিদ রহমান

মানসম্মত শিক্ষার প্রসার ও জেন্ডার সাম্য অর্জনে
সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে

মানসম্মত শিক্ষার প্রসার ও জেন্ডার সাম্য অর্জনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রামঠাকুর সরকারি কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল, ইতিহাসবিদ ড. মুজাহিদ রহমান। এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র উদ্যোগে ও ওব্যাট থিংক ট্যাংকের সহযোগিতায় অদ্য ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম’র খুলশীর প্রান্তিক অঞ্চল সেগুণবাগানস্থ ওব্যাট জুনিয়র হাই স্কুলে ‘প্রান্তিক পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা ও জেন্ডার সমতা’ শীর্ষক সংলাপ এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন ভারতের ত্রিপুরা রামঠাকুর সরকারি কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল ড. মুজাহিদ রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন, ওব্যাট হেল্পার্স’র প্রজেক্ট ম্যানেজার সোহেল আক্তার খান। অতিথি আলোচক ছিলেন নারীনেত্রী ও সংগঠক জেসমিন সুলতানা পারু, প্রিন্সিপাল ড. সানাউল্লাহ, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি)’র চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল, স্টেইজ পর ইয়ুথ’র অর্থ সম্পাদক লায়ন মো: কামরুজ্জামান, ডি ইঞ্জিনিয়ারর্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সৌমেন কানুনগো তুহিন, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’র ট্রান্সপোর্ট, ট্রাভেলস এন্ড লজিস্টিক্স’র ম্যানেজার শেখ ইমরান হোসেন, চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল, ওব্যাট কর্মকর্তা মোস্তাক রায়হান, পাওয়ার টু ব্লুম’র প্রতিষ্ঠাতা মিথেলা হক, ওব্যাট থিংক ট্যাংকের সম্পাদক ফারহা আক্তার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্টিফিক সোসাইটির সদস্য মিনহাজুর রহমান শিহাব, ইকো ফ্রেন্ডস’র সাংগঠনিক সম্পাদক কাইয়ুমুর রশিদ বাবু, এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র সদস্য তাসকিন হাবিবা, চন্দনাইশ ছাত্র সমিতি-চট্টগ্রাম’র সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মন্নান হৃদয়, লিও মো: মাসুদ প্রমুখ।
সংলাপে ড. মুজাহিদ রহমান বলেন, সকলের জন্য জীবনব্যাপী মানসম্মত শিক্ষার পথ প্রসারিত করা প্রয়োজন। বিশেষতঃ প্রান্তিক পর্যায়ের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী, নৃগোষ্ঠি, সংখ্যালঘু, অভিবাসী, শরণার্থী, বস্তি এলাকায় আনুষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে নিরক্ষরতা দূরকরণের প্রয়াস ও মৌলিক অধিকার শিক্ষার প্রসার ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। শৈশবে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উৎকর্ষতা আনয়ন, শিশু ও তরুণদের শৈশবকালীন সময়ে শারিরীক ও যৌনতা শিক্ষা, বহুভাষিকতা, আন্তঃ সাংস্কৃতিক সংলাপ, মানসম্পন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যক। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সকল ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষায় লিঙ্গ বৈষম্যগুলি দূরীকরণ, সকল স্তরে সকলের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সর্বোপরি কারিগরী, প্রযুক্তিগত ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের বহুমাত্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার উপর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নারীদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে নারী-পুরুষের সমতা আনতে হবে। নারীদেরকে পিছিয়ে রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। শিক্ষায় বাংলাদেশের মেয়েরা প্রাগ্রসর হলেও উচ্চ শিক্ষায় অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। মানুষের সামষ্টিক জীবনযাত্রার মানবৃদ্ধিতে নারীদের শিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জেন্ডার সাম্য অর্জনে আমাদের কাঙ্খিত সাফল্য আনতে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, মানসম্মত শিক্ষাকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করা দরকার। আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তথা যোগ্য শিক্ষকের সংকট, নি¤œ বেতন কাঠামো, দলীয় নিয়োগ, কোচিং বাণিজ্যের বিস্তার, প্রাযুক্তিক অদক্ষতা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের দ্রুত পাঠ্যবই ও পরীক্ষা পদ্ধতি বদল, শিক্ষকদের উপযোগী প্রশিক্ষণের ঘাটতি, গাইড বইয়ের উপর নির্ভরশীলতা, প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অশুদ্ধ উচ্চারণ, বহুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা, শিশুশ্রম প্রভৃতি দূর করতে শিক্ষাকে জাতীয়করণ ও পরিকল্পিতভাবে দক্ষতামূখী প্রশিক্ষণ সমৃদ্ধ মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email