Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বড়উঠানে সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (কঃ)এর বার্ষিক ওরশ শরীফে আলোচনা সভা

কর্ণফুলী প্রতিনিধিঃ২০জানুয়ারী

পবিত্র ঈদ-এ- মিলাদুন্নবী (সাঃ) ও উপমহাদেশের মাইজভান্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক শরাফতের প্রতিষ্টাতা ও মাইজভান্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী মাওলানা শাহ্্ সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্্ (কঃ) এর ১১৪ তম ওরশ শরীফ উপলক্ষে “সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন’র” ব্যবস্থাপনায় ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান’র সভাপতিত্বে কর্ণফুলী উপজেলা, বড়উঠান মৌলভী বাড়ীতে আলোচনা সভা গত বৃহস্পতিবার রাত্রে অনুষ্টিত হয়।
এতে প্রধান মেহমান হিসেবে মাইজভান্ডারী পরিষদে গাউছিয়া ওহাব মনজিলের পীরজাদা মাওলানা শাহ্ছুফি সৈয়দ ইকবাল ফজল আলহাসানী- আল- মাইজভান্ডারী, বিশেষ অতিথি ফটিকছড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও ডাঃ সৈয়দ আবুল ফরাহ, শিক্ষক, গবেষক ও লেখক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান আলোচক ছিলেন আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ জহির উদ্দিন আলক্বাদেরী, আরবী প্রভাষক, হালিশহর তৈয়্যবীয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী) মাদ্্রাসা ও খতিব, আবদুল কাদের জিলানী জামে মসজিদ, মির্জারপুল চট্টগ্রাম। বিশেষ ওয়ায়েজ ছিলেন বড়উঠান মৌলভী বাড়ী ওয়াইজ বিবি জামে মসজিদের খতিব, মাওলানা মোহাম্মদ সরওয়ার আলম। হালকা জিকির সেমা মাহফিল পরিচালনা করেন সোহরাফ হোসেন খান মাইজভান্ডারী গান ও কাওয়ালি পরিবেশন করেন মোহাম্মদ বেলাল। আমন্ত্রিত ওলামায়েকেরাম উপস্থিত ছিলেন -হাফেজ মাওলনা আবু তালেব, খতিব মাওলানা মুহিবুল্লা খান বাড়ী জামে মসজিদ, মাওলানা আবদুর রহমান, খতিব বড়উঠান ইলিয়াছ খান জামে মসজিদ কর্ণফুলী উপজেলা। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন-ফাউন্ডেশন’র ভাইচ-চেয়ারাম্যান মোহাম্মদ গোলাম ফারুক, ফাউন্ডেশন’র উপদেষ্টা খোরশেদুল আরম খান, সচিব মোঃ রেজাউল হক খান, কর্ণফুলি উপজেলার আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফাউন্ডেশন’র উপদেষ্টা মোঃ মেজবাহ উদ্দিন খান, ইউপি মেম্বার সাজ্জাদ হোসেন খান সুমন, কুতুব উদ্দিন খান, এরশাদ উল্লাহ খান, মাওলানা নেজাম উদ্দিন খান, মোঃ মিজানুল হক খান, মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী, ব্যাংকার এহতেশামুল হক খান, মিনহাজ উদ্দিন খান, মাইমুনুল ইমলাম খান, তৌফিক আহসান বায়জীদ, মোঃ নাসির ও জহির উদ্দিন টিপু।
প্রধান অতিথি হিসেবে পীরজাদা মাওলানা শাহ্ছুফি সৈয়দ ইকবাল ফজল আলহাসানী বলেন- ইসলামের নামে যারা ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করে তারা প্রকৃত মুসলমান নয়। নবী ওলীগণের প্রদর্শিত পথই ইসলামের মূলধারা। মানব জাতিকে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জ্বতের প্রেম-প্রীতিতে উদ্বুদ্ধ করে তাঁর মিলন পথে পৌছিয়ে দেওয়ার জন্য বেলায়তের দ্বার উন্মুক্ত করেন খোলাফায়ে রাশেদীনর পর হতে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে যুগে যুগে এই সমস্ত বেলায়েত প্রাপ্ত আউলিয়া কেরামগণই কোরআন ও হাদিসে পাকের মর্মবাণী প্রচার ও প্রতিফলন করে আসছেন এই মহান ব্যক্তি গাউছুল আজম শাহে দো আলম , রহুল আশেকীন, ছেরাজুল সালেকীন মাওলানা শাহ্্ সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্্ প্রকাশ হযরত কেবলা (কঃ) মাইজভান্ডারী। তিনি আরো বলেন দেয়াং পাহাড়সহ সারা দেশের অলি আল্লাহ নিদর্শন সংরক্ষণ ও পবিত্রতা রক্ষার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান এবং মাইজভান্ডারী আধ্যাত্মিক রিসার্চ সেন্টার করার দাবী জানান। তিনি উপস্থিত সকলকে ১০ মাঘ, মাইজভান্ডার দরবার শরীফে আমন্ত্রণ জানান।

মাওলানা মোহাম্মদ জহির উদ্দিন আলক্বাদেরী বলেন- জগতে শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসুল ও আউলিয়ায়ে কেরামের আগমন ঘটেছে। ইসলাম নির্দেশিত শান্তির পথ থেকে বিচ্যুতি ও গোষ্ঠীগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার রেশ থেকে সমগ্র বিশ্বে আজ হানাহানি, সংঘাত, জঙ্গিবাদ বেহায়াপনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আল্লাহ পাকের মনোনীত ও নৈকট্যধন্য আউলিয়ায়ে কেরামই মানবজাতির পথ প্রদর্শক। শাহ্্ সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্্ (কঃ) এর মতো মহান দ্বীনি সংস্কারক ও আধ্যাত্মিক মনীষীদের স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে আমরা মনজিলে মকসুদে পৌঁছার পথ সুগম ও নিশ্চিত করতে পারি। সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান সভাপতির বক্তব্য বলেন- বিশ্ব অলি শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি বাণী দিয়ে শুরু করেন। হালাল খাও, নামাজ পড়ো, আল্লাহ আল্লাহ জিকির কর। সব সমস্যা মিটে যাবে। আল্লাহর ওলীগণ আমাদের আধ্যাত্মিক দিশারী। তিনি অলি আল্লাহ’র চারন ভুমি খ্যাত চট্টগ্রাম’র ঐতিহাসিক দেয়াং পাহাড়ে আউলিয়াদের নিদর্শন সংরক্ষণের ইপিজেড আনোয়ারা কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাছেন। দেয়াং অঞ্চলে বার আউলিয়াসহ অসংখ্য আউলিয়া ইসলাম প্রচার করতে আসেন।

তাঁদের অন্যতম হল হযরত বদর শাহ্ (কঃ), হযরত মওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী (রাঃ) (প্রকাশ বাবা ভান্ডারী ) ও হযরত বাবা ভান্ডরী কেবলার সহোদর হযরত মওলানা সৈয়দ আবদুল ওহাব মাইজভান্ডারী (রাঃ)। বর্তমানে হযরত বদর শাহ্ (কঃ) যে আস্থানা শরীফ রয়েছে তার নিকটবর্তী ৩০০ গজ উত্তরে পুরতান যে বটবৃক্ষ রয়েছে সেখানে ১৮৯৮ ইং সালে কোন এক সময় চট্টগ্রাম’র ফটিকছড়ি মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রাণপুরুষ গাউছুল আজম হযরত মওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী (রাঃ) (প্রকাশ বাবা ভান্ডারী) দীর্ঘদিন ধ্যান মগ্ন ও বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাবলীর অন্যতম স্থান। আধ্যাত্মিক ও বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাবলীর কারণে দূর দূরান্ত থেকে অনেক ভক্তগণ ঐ স্থানে জিয়ারতের উদ্দেশ্য আসেন।

বর্তমানে এই স্থানটি কোরিয়ান ইপিজেড সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় ভক্তদের জিয়ারতের ক্ষেত্রে বিঘœ ও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। শান্তি প্রিয় ভক্তগণ, জনসাধারনের প্রবেশ অধিকার রক্ষার্থে ঐ পবিত্র স্থানটি সকল সম্প্রদায়ের জন্য উম্মুক্ত রাখা এবং ঐ স্থান বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাবলীর স্থানটি সংরক্ষণ, মসজিদ এবং মাইজভান্ডারী আধ্যাত্মিক রিসার্চ সেন্টার করার দাবী জানাচ্ছে।

মোহাম্মদ মনিরুজামান বলেন যুবসমাজ বিশেষ করে ছাত্রদেরকে এ সকল মাহফিলে অংশ গ্রহণ করে দ্বীনি শিক্ষায় উজ্জ্বীবিত হয়ে সুন্দর জীবন গড়ার পরামর্শ দেন। ডাঃ সৈয়দ আবুল ফরাহ বলেন-নবী প্রেম ঈমানের পূর্ব শর্ত । একজন মুমিন মুসলমানের নবীপ্রেম ও অলী আল্লাদের বক্তি থাকা অপরিহার্য।
কোরআন খতম, মিলাদ মাহ্্ফিল, জিকির সেমা মাহ্্ফিল, সকল মানব জাতির মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য মোনাজাত করেন ও নেয়াজ তবরুক বিতরণ মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

Print Friendly, PDF & Email