Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

ইপিজেডে হকার মাহফুজ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত মূল আসামীরা ধৃত….! গত২রা মে হকার নিহতের ঘটনায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধরে পুলিশ

বিশেষ প্রতিনিধির খবরঃ২৩মে
গত ২রা মে সকালে ভিকটিম মাহফুজুর রহমান (২৪), পিতা-আব্দুর রহমান (৭০),সোনাইমুড়ি,-নোয়াখালী এর মৃতদেহ ইপিজেড থানাধীন নিউমুরিংস্থ শাহীনশাহ টাওয়ারের পাশে বুলু মাঝির মায়ের দোতলা বিল্ডিং এর সিঁড়িতে থাকা লোহার গ্রিলের উপরের পাতাটনের সাথে নাইলনের রশি দিয়া গলায় ফাঁস দিয়া ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ভিকটিমের পিতা আব্দুর রহমান উক্ত ঘটনার সংবাদ দিলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন এবং জিজ্ঞাসাবাদদে জানান যে, তিনি ও তাহার ছেলে ভিকটিম মাহফুজুর রহমান (২৪) ইপিজেড থানাধীন নিউমুরিংস্থ শাহীনশাহ টাওয়ারের পাশে বুলু মাঝির মায়ের ত্রিপল ঘেড়া দেওয়া দোকানে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসা করেন। ভিকটিম মাহফুজ প্রতিদিন কাপড় বিক্রি শেষে রাতে উক্ত দোকানে ঘুমাতো। বাদী তাহার বর্তমান ঠিকানা-ইপিজেড থানাধীন ব্যাংক কলোনীস্থ রফিক মুন্সির টিনশেড ভাড়া ঘরে বসবাস করে।

রমজানের শুরু থেকে বাদী প্রতি রাত ৯টা দিকে দোকানে গিয়া ভিকটিমকে রাতের ও সেহেরির খাবার দিয়া আসিত। প্রতিদিনের ন্যায় ০১/০৫/২০২০ ইং তারিখ বাদী বর্তমান ঠিকানার বাসা হতে খাবার রান্না করিয়া রাত অনুমান ৯.৩০ ঘটিকার সময় দোকানে গিয়া তাহার ছেলে ঘটনায় নিহত মাহফুজুর রহমান (২৪)’কে রাতের ও সেহেরির খাবার দিয়া আসে। গত ০২/০৫/২০২০ ইং তারিখ সকাল অনুমান ০৯.৪৫ ঘটিকার সময় বাদী সংবাদ পান যে, ভিকটিম মাহফুজুর রহমান (২৪)’কে অজ্ঞাতনামা লোকজন হত্যা করিয়া ইপিজেড থানাধীন নিউমুরিংস্থ শাহীনশাহ টাওয়ারের পাশে বুলু মাঝির মায়ের দোতলা বিল্ডিং এর সিঁড়িতে থাকা লোহার গ্রিলের উপরের পাতাটনের সাথে নাইলনের রশি দিয়া গলায় ফাঁস দিয়া ঝুলাইয়া রাখিয়াছে। বাদী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া তাহার ছেলে মাহফুজুর রহমান (২৪)’কে ইপিজেড থানাধীন নিউমুরিংস্থ শাহীনশাহ টাওয়ারের পাশে বুলু মাঝির মায়ের দোতলা বিল্ডিং এর সিঁড়িতে থাকা লোহার গ্রিলের উপরের পাতাটনের সাথে নাইলনের রশি দিয়া গলায় ফাঁস লাগানো মৃত অবস্থায় ঝুলে আছে এবং নিহতের মুখে কাপড় গুজানো ও বায়ুরোধী পিচ্ছিল পলিথিন স্কসটেপ দ্বারা শক্তভাবে মুখ আটকানো, দুই পা রশি দ্বারা বাঁধা এবং ডান হাত রশি দিয়া বাঁধা ছিল। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইপিজেড থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০২/০৫/২০২০ ইং, ধারা-৩০২/৩৪ দঃ বিঃ রুজু করা হয়।

বন্দর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার হামিদুল আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আরেফিন জুয়েল, সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ কামরুল হাসান এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোঃ নূরুল হুদা এর তত্ত্বাবধানে ,(তদন্ত) মোহাম্মদ হোছাইনের নেতৃত্বে এসআই-নজরুল ইসলাম, এসআই- মোঃ জিল্লুর রহমান, এসআই- রাজীব দে সঙ্গীয় ফোর্সের সমন্বয়ে একটি চৌকশ টিম গঠন করা হয়। উক্ত টিম থানা এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের তদন্তে কিছুটা বেগপেতে হলেও গোপন সংবাদ ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৬মে ভিকটিম মাহফুজুর রহমান (২৪)’কে হত্যাকান্ডের সহযোগী আসামী মোঃ ইয়াসিন (২০), পিতা-আবুল কালাম, সাং-হামিদুল হক মুহুরী পাড়া, কৈয়ারবিল ইউপি,চকরিয়া-কক্সবাজার, বর্তমানে-সানু বিল্ডিং, কলসীদীঘি রোড, মোঃ ইয়াছিন (২০)’কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় সে ফ্রিপোর্ট মোড়স্থ কলসি দীঘির মুখে হোটেল আয়াত-এ প্লেট বয় হিসেবে চাকুরী করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত মূল আসামী মোঃ হৃদয় ও মোঃ সজিবের সহিত মিলে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি সংঘটন করিয়াছে বলিয়া স্বীকার করে। তাহার তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭/০৫/২০২০ ইং তারিখ হত্যাকান্ডের মূল আসামী মোঃ হৃদয় (২৬), পিতা-মোঃ বেলাল, সাং-ওয়াশীল চৌধুরী পাড়া, ফেলা গাজীর বাড়ী, থানা-বন্দর, । আসামী মোঃ হৃদয় (২৬)’কে গ্রেফতার পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের সে জানায় সে বিভিন্ন তাজা মাছের ব্যবসা তৎপরবর্তীতে ভ্যানগাড়ী যোগে বিভিন্ন জায়গায় পেঁয়াজ বিক্রয় করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যাকান্ডের রহস্যের জট খুলতে শুরু করে এবং সে সহ আসামী মোঃ সজীব (৩২) ও ইয়াছিন মিলে হত্যাকান্ডটি সংঘটন করে বলিয়া স্বীকার করে। এরপর আসামী মোঃ হৃদয় (২৬) এর তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯/০৫/২০২০ ইং তারিখ হত্যাকান্ডের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও মাস্টারমাইন্ড আসামী মোঃ সজীব (৩২), পিতা-সাহাব উদ্দিন, ওয়াসিল চৌধুরী পাড়া, ঝনক প্লাজার পিছনে, থানা-বন্দর, মোঃ হৃদয় আসামী সজিবের আপন চাচাতো ভাই।
ইয়াছিনের সাথে হোটেল আয়াতে পরিচয় হওয়ার সুবাদের আসামী মোঃ সজিব ও মোঃ হৃদয়ের সাথে ভাল বন্ধুত্ব হয়। মোঃ হৃদয় (২৬) গত ২৯/০৪/২০২০ ইং তারিখের পূর্বে ফ্রিপোর্ট মোড়স্থ মাহাফুজের দোকানে কাপড় কেনাকাটা করার জন্য যায়। সেখানে আসামী মোঃ হৃদয়ের সাথে ভিকটিম মাহফুজের কাপড় কেনাকাটা নিয়া বাকবিতান্ড ও তর্কাতর্কি হয়। ভিকটিম মাহাফুজুর রহমান (২৪) আসামী মোঃ হৃদয়কে অপমানিত করিলে আসামী মোঃ হৃদয় বাসায় গিয়া ঘটনার বিষয়টি আসামী মোঃ সজীব (৩২)’কে জানায়। তখন আসামী মোঃ সজীব (৩২) আসামী মোঃ হৃদয়কে বলে বিষয়টি সে দেখবে। গত ২৯/০৪/২০২০ ইং তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬.৪৫ ঘটিকার সময় ইফতারের পরপর আসামী মোঃ সজীব (৩২) ও আসামী মোঃ হৃদয় বাসা হইতে বাহির হইয়া ঝণক প্লাজার সামনে ভাসমান দোকানে চা ও সিগারেট খাওয়ার সময় উভয়ের পূর্ব পরিচিত আসামী মোঃ ইয়াসিন (২০) সেখানে আসে। আসামী মোঃ ইয়াছিনও চা খায়।
পরের দিন অর্থাৎ ৩০/০৪/২০২০ ইং তারিখ ইফতারের পর আসামী মোঃ সজিব ও হৃদয় চা খাওয়ার জন্য আলী প্লাজার সামনে গেলে সেখানে ইয়াছিনকে দেখে। তিন জনে মিলে চা সিগারেট খায় এবং আসামী মোঃ সজিব আসামী মোঃ হৃদয়কে ভিকটিম মাহাফুজের দোকানে পাঠায় মাহাফুজ কি করতেছে তাহা দেখার জন্য। আসামী মোঃ হৃদয় সব দেখে শুনে এসে আসামী মোঃ সজিবকে বলে, “ইতে আছে, চল এখন যাই ইতারে মারি ফেলাই।

” তখন আসামী মোঃ সজিব বলে এখন নয় পরে বলব। এরপর আসামীগণ কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়ার পর যার যার মত চলে যায়। গত ০১/০৫/২০২০ ইং তারিখও ইফতারের পর প্রতিদিনের ন্যায় আসামী মোঃ সজিব, মোঃ হৃদয় ও মোঃ ইয়াছিন চা সিগারেট খাওয়ার জন্য ঝণক প্লাজার পাশে আলী প্লাজার সামনে যায়। দীর্ঘক্ষণ আসামীগণ আলী প্লাজার সামনে ছিল। এরমধ্যে ০১/০৫/২০২০ ইং তারিখ দিবাগত রাত অনুমান ০১.০০ ঘটিকার সময় আসামী মোঃ সজিব আসামী মোঃ হৃদয় ও মোঃ ইয়াছিনকে ভিকটিম মাহাফুজের দোকানে পাঠায় এবং আসামী মোঃ সজিব নিজ বাড়ীতে গিয়ে একটা শপিং ব্যাগে করে একটা নাইলনের রশি, কিছু কাপড়ের রশি, কিছু সুতলি রশি ও একটি কালো স্কস ট্যাপ নিয়ে আলী প্লাজার সামনে আসে। আসামী মোঃ হৃদয় ও মোঃ ইয়াছিন ভিকটিম মাহাফুজের দোকান থেকে এসে আসামী মোঃ সজিবকে জানায় যে, “মাহফুজ দোকানের ভিতর ঘুমাইতেছে।” তখন মোঃ সজিব আসামী মোঃ হৃদয় ও মোঃ ইয়াছিনকে বলে, “চল মাহাফুজকে আজকে মেরে ফেলব।

” তখন আসামী মোঃ সজিব, মোঃ হৃদয় ও মোঃ ইয়াছিন ০৩ জন মিলে হেঁটে হেঁটে ফুট ওভার ব্রিজ পার হয়ে ফ্রিপোর্ট মোড়স্থ ভিকটিম মাহফুজের দোকানের পেছনে আসে। এরপর আসামীগণ চতুর্দিকে কেউ আছে কিনা দেখার পর ভিকটিম মাহাফুজের দোকানের পেছনের ত্রিপল আল্গা করিয়া আসামী মোঃ সজিব মোবাইলের লাইট জ¦ালিয়ে প্রথমে দোকানে প্রবেশ করে। আসামী মোঃ সজিবের পেছনে পেছনে আসামী মোঃ হৃদয় ও মোঃ ইয়াছিন দোকানে প্রবেশ করে। মোঃ সজিব অপর আসামী হৃদয় কে মাহাফুজের গলা চেপে ধরার জন্য বলে এবং আসামী ইয়াছিন হাত-পা চেপে ধরার জন্য বলে। তারা দুইজনে আসামী মোঃ সজিবের কথামত ভিকটিম মাহাফুজের গলা ও হাত পা চেপে ধরলে আসামী সজিব ভিকটিম মাহাফুজের মুখে একটি রুমাল ডুকাই দিয়া শপিং ব্যাগে করে আনা স্কচ ট্যাপ মুখে লাগিয়ে দেয়। অনেকক্ষন ধস্তাধস্তির পর ভিকটিম মাহাফুজ অজ্ঞান হয়ে গেলে আসামী মোঃ সজিব শপিং ব্যাগ থেকে কাপড়ের রশি ও সুতলি রশি বের করে ভিকটিম মাহাফুজের দুই হাত ও দুই পা বেঁধে ফেলে।

ইতিমধ্যে ভিকটিম মাহাফুজ মারা যায় বলিয়া আসামীদের মনে হয়। এরপর আসামী মোঃ সজিব, আসামী মোঃ হৃদয়কে মাহাফুজের স্যান্ডেলগুলি পরাই দেওয়ার জন্য বলে এবং আসামী মোঃ সজিব নাইলনের রশিটা নিয়ে ভিকটিমের মাহাফুজের দোকানের পাশর্^বর্তী কলাপসিবল গেইটের উপরে ঝুলাই দেয়।

এরপর আসামীগণ ভিকটিম মাহফুজের লাশকে নিয়ে কলাপসিবল গেইটের সাথে ঝুলানো রশির সাথে ভিকটিম মাহাফুজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে দেয়। তখন আসামী মোঃ সজিব আসামী মোঃ হৃদয় ও মোঃ ইয়াছিনকে বলে সবাই মনে করবে মাহফুজ আত্মহত্যা করিয়াছে। পরবর্তীতে আসামী মোঃ সজিব ভিকটিম মাহাফুজের দোকান হইতে একটি সাদা রংয়ের মোড়া এনে ভিকটিম মাহাফুজের পায়ের নিচে রাখে। তিন জন আসামী ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করিয়া বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলার তদন্ত অব্যাহেত আছে।

Print Friendly, PDF & Email