Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বাড়ছে যাত্রীবাহী ট্রেন, কাউন্টারে নেই টিকেট বিক্রির সিস্টেম!

 

সরকারী নির্দেশনা মেতাবেক স্বাস্থ্য বিধি মেনেই দফায় দফায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত পুরো টিকেটই (৫০ শতাংশ) অনলাইনে দেয়া হচ্ছে।

টানা ৬৭ দিন বন্ধ থাকার পর ধীরে ধীরেই বাড়ছে সব শ্রেণি পেশার মানুষের প্রিয় পরিবহণ ট্রেন। তবে নিম্ন শ্রেণিসহ শত শত ট্রেন যাত্রী এখনও অনলাইন টিকেট বুঝে উঠতে পারছেন না। করোনাকালীন সময়ে সীমিত পরিসরে হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই (নূন্যতম ১০-১৫ শতাংশ) কাউন্টারে টিকেট দেয়ার অনুরোধ জানান শত শত সাধারণ যাত্রী। আগামী ১৬ আগষ্ট থেকেই আবারও ৩য় দফায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করছে রেলওয়ে প্রশাসন।

রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাজার হাজার যাত্রীর ট্রেন ভ্রমণের শত ইচ্ছা থাকা সত্বেও অনলাইনের কারণে সেই প্রিয় ট্রেনের ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নিম্ন-মধ্যবিত্ত চাকুরিজীরাই ট্রেনেই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন প্রতিনিয়ত। ট্রেনের টিকেটের চাহিদা প্রচুর থাকলেও শুধুমাত্র অনলাইন সিস্টেমের কারণেই সেই নিম্ন-মধ্যবিত্তরাই ট্রেন ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করোনাভাইরাসের কারণে বা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক বন্ধ রাখার পর দফায় দফায় দফায় ট্রেন চলাচল শুরু করে। এতে নিয়মে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই সক্ষমতার ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করছে সব যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো।

ইতিমধ্যে আরো বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর আগে দীর্ঘদিন নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ২৫ মার্চ থেকে সারাদেশের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ের উর্ধ্বতন সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কিছু টিকেট কাউন্টারে টিকেট দেয়া দরকার। সবখানে যেভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে, সেখানে কাউন্টারে একইভাবে সামাজিক দূরত্ব শতভাগ নিশ্চিত করবে দায়িত্বশীলরা। অনলাইনে টিকেটের বিষয়ে ধীরে ধীরেই করতে হবে। তাছাড়া ট্রেনের যাত্রীরা কেমন তাও বিবেচনা করতে হবে বলে জানান তাঁরা।

পূর্বাঞ্চলের চীফ অপারেটিং সুপারেন্টেন্ড (সিওপিএস) মো. শাহনেওয়াজ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সীমিত পরিসরে চালু হলেও বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বাকি ট্রেনগুলো চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৬ আগস্টের পর ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের শর্তে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবগুলো ট্রেন পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। তবে কাউন্টারে টিকেট দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে, সে বিষয়ে সরকারেই বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে দুই দফায় ১৯ জোড়া ট্রেন চালু করা হয়। করোনাকালীন সময়ে এবার ৩য় দফায় ১৬ আগস্ট থেকে আরো ১৩ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করছে। পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু করা হবে।

গত রবিবার রেল ভবনের দেয়া চিঠিতে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে উল্লেখ রয়েছে ১৬ আগস্ট থেকে চালু হতে যাওয়া আন্তঃনগর  ট্রেনগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১/৭২২), চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটের বিজয় এক্সপ্রেস (৭৮৫/৭৮৬), ঢাকা-নোয়াখালী-ঢাকা রুটের উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১/৭১২), পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড় রুটের একতা এক্সপ্রেস ট্রেন (৭০৫/৭০৬), খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস (৭২৫/৭২৬), রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটের পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৬০/৭৫৯), ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের পারাবত এক্সপ্রেস (৭০৯/৭১০), ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটের হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৭/৭৭৮), ঢাকা-তারাকান্দি-ঢাকা রুটের অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস (৭৩৫/৭৩৬), রাজশাহী-চিলাহাটি-রাজশাহী রুটের তিতুমীর এক্সপ্রেস (৭৩৩/৭৩৪), খুলনা-চিলাহাটি-খুলনা রুটের সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭/৭৪৮), গোবরা-রাজশাহী-গোবরা রুটের টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস (৭৮৩/৭৮৪)। এছাড়াও একই দিন ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটের জামালপুর কমিউটার (৫১/৫২) নম্বর ট্রেনও চালু করা হবে।

প্রসঙ্গত, রেলওয়ের দৈনিক চলাচলরত ট্রেনের সংখ্যা ৩৪৮টি। এর মধ্যে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি মালবাহী ট্রেন ও গড়ে ৬টি কনটেইনারবাহী ট্রেন ছাড়া বাকিগুলো যাত্রীবাহী ট্রেন। যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেন ৮৬টি, মেইল এক্সপ্রেস-কমিউটার-ডেমু ১৩২টি এবং লোকাল ট্রেন সংখ্যা ৯৫টি। এছাড়া আন্তর্জাতিক ট্রেন রয়েছে ৫টি।

Print Friendly, PDF & Email