Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

সাদা ছড়ির উন্নতি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অগ্রগত বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস - ২০২০

সারাবিশ্বে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের সম্পূর্ন স্বাধীন ও সক্ষমতাঅর্জনকরারউপকরণটিহচ্ছে- সাদাছড়ি। সাদাছড়িব্যবহারকরেএকজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় (কর্মস্থল, স্কুল, প্রতিবেশীর বাড়ি)চলাফেরা করতে পারে। বিশেষ পদ্ধতি (ব্রেইল)ব্যবহারকরে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়াকরেতারাসমান দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন হেলেন কেলার ছিলেন একজনশ্রবন – দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের জীবনে এই সহায়ক উপকরণটি কতটুকু ভুমিকা রাখছে, তা জনসাধারন কে জানাতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্বব্যাপী সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উদযাপন করা হয়। একজন গাড়িচালক সাদা ছড়ি হাতে রাস্তা পার হতে দেখলে হর্ণ না বাজিয়ে ৫(পাঁচ) ফুট দূরত্বে গাড়ী থামিয়ে তাকে নিরাপদে রাস্তা পার হতে সুযোগ দেবেন। এভাবে আমরা সাদাছড়ি ব্যবহারকারি ব্যক্তির প্রতি আমাদের করণীয় সম্পর্কে এই দিবসকে কেন্দ্র করে সচেতনতা মুলক কার্যক্রম পরিচালনা করব।
চট্টগ্রামে সরকারি -বেসরকারি সংস্থাসমূহ যৌথ ভাবে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর র‌্যালি, আলোচনাসভা, সাদা ছড়ি বিতরণ ইত্যাদি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জনসাধারনের মাঝে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিকরার লক্ষ্যে দিবসটি উদযাপন করে আসছে।

ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী তৈরী হচ্ছে।এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে “সাদা ছড়ির উন্নতি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অগ্রগতি।”
আগেরসাধারণসাদাছড়িটিতেডিজিটাল প্রযুক্তি সংযুক্ত করাহয়েছে। ফলেডিজিটাল প্রযুক্তিটিসামনেরবিভিন্নবাধাসম্পর্কে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সংকেতপ্রদানকরতেপারে। এরফলেএকজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি সামনেরদেয়াল, কোন ব্যক্তি, বিভিন্ন গর্ত ইত্যাদি সম্পর্কে তরিৎসংকেত পেয়েসতর্কতামূলকব্যবস্থা নিয়েনিরাপদে চলাচলকরতেপারে। আমাদেরমত দরিদ্র দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তিসম্পন্ন এই সাদাছড়ি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের মাঝেবিনামূল্যে বিতরনকরাপ্রয়োজন।

১৯৬৪ সালের ৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসেপ্রতিবছর ১৫ অক্টোবরসাদাছড়িনিরাপত্তাদিবসউদযাপনকরারজন্য একটিবিলপাশ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের সক্ষমতাগুলোসকলেরসামনেতুলেআনাএবংঅন্যান্য নাগরিকদের সাথে সমতারভিত্তিতেজীবনযাপনকরারসুযোগসৃষ্টিকরারজন্য এ উদ্যোগগ্রহণকরেন।

সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উদযাপনের মাধ্যমে সকল কে জানানো হয় যে, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীতা কিএবং কিভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ জীবন যাপন করেন, তারা তাদের সক্ষমতা এবং সফলতার মাধ্যমে সমাজের মূলশ্রোত ধারায় কি অবদান রাখছেন এ সকল বিষয় সকলের সামনে তুলেধরা হয়।
১৮৯৪ সালে কলকাতায় অন্ধ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ১৯৩৫ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম বঙ্গীয় বধিরসংস্থা গঠিত হয়। ১৯৫৭ সালে রোটারী ক্লাবের উদ্যোগে ঢাকায় প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশু বিদ্যালয়প্ রতিষ্ঠা হয়। ১৯৬২ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর চারটি বিভাগে ৮টি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও বাক-শ্রবণ বিদ্যালয় চালু করে। ১৯৭৪ সালে ৪৭টি সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় চালু হয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের শিক্ষা ক্ষেত্রে বাধাসমুহ (বিশ্ব বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল বই সরবরাহ, টকিং সফটওয়ারযুক্ত বই সহজলভ্য করা, পরীক্ষায় শ্রুতি লেখক নিয়োগ, শব্দযুক্ত ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা স্থাপন ইত্যাদি)দূর করার জন্য সরকার কে বিভিন্ন উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ইতিমধ্যে সরকার দশম শ্রেণী পর্যন্ত তাদের জন্য ব্রেইল বই সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে।
বাংলাদেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাস্কর ভট্টাচার্য প্রধানমন্ত্রীর আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দক্ষতার সাথে কাজ করে আন্তর্জাতিক ভাবে সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শেষে‘ইউনাইট্ থিয়েটার ফর সোশাল অ্যাক্শন্ (উৎস )’এর থিয়েটার ইউনিট সাথে পেশাগত জীবন শুরু করে ছিলেন।

উৎস এ কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি উৎস এর আওতায় বিশেষায়িত উন্নয়ন ইউনিট‘চিটাগাং কম্পিউটারাইজড ব্রেইল প্রোডাকশন সেন্টার (সিসিবিপিসি)’ এবং ‘ দি বাংলাদেশ ব্রেইললাইব্রেরী (বিবিএল)’গড়েতুলতে রেখেছিলেন অগ্রগণ্য ভূমিকা। উৎস পরিবারের পক্ষ থেকে আজকের এই বিশেষ দিবসেতার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।
তাই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গের প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরকরার লক্ষ্যে এ বছরের প্রতিপাদ্যঃ “সাদা ছড়ির উন্নতি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির অগ্রগতি”- এরব্যাপক প্রচারচালিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তবেই একটা সমতা ভিত্তিক সমাজ তৈরী হবে। আসুনসকলেমিলেদিবসউদযাপনে অংশ নিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি আমাদের করণীয় পালন করে একজন সচেতন নাগরিকের ভুমিকা রাখি। তবেই দিবস উদযাপন সার্থক হবে।

লেখক//মো:আবুল হাসেম খান, মনিটরিং অফিসার, উৎস।

Print Friendly, PDF & Email