Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

‘অগ্রজ’-এ সংস্কৃতি ও জীবনের গল্প শোনালেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার

আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড আয়োজিত ‘অগ্রজ’-এর একাদশ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনে বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা অগ্রজ গুণী ব্যক্তিত্বরা আমন্ত্রিত হয়ে তাদের কর্মজীবনের মূল্যবান অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সেই ধারাবাহিকতায় ‘অগ্রজ’-এর এই পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। বরাবরের মতো দেশের ব্যাংকিং জগতের সুপরিচিত নাম আনিস এ খানের সঞ্চালনায় পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের মঞ্চনাটককে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে যে কজন গুণী ব্যক্তিত্ব অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন রামেন্দু মজুমদার তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। সাংস্কৃতিক অঙ্গণের প্রিয়মুখ রামেন্দু মজুমদার তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনজুড়ে বাংলাদেশের মঞ্চনাট্যকে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব পরিমণ্ডলেও পরিচিতি দিতে নিরলস শ্রম দিয়েছেন।

অগ্রজ এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঢাকার মঞ্চ নাটক আন্দোলনের পথিকৃৎ ও বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মঞ্চ নাটকের দল ‘থিয়েটার’-এর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। এছাড়া, বাংলাদেশের মঞ্চনাট্যের নানান দিক ও বিস্তার নিয়ে কয়েকযুগ ধরে প্রকাশিত বিখ্যাত ‘থিয়েটার’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে মঞ্চনাট্যের ইতিহাস সংরক্ষণে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখছেন তিনি।

১৯৪১ সালে লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণ করেন রামেন্দু মজুমদার। তিনি উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে অতঃপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইংরেজি বিভাগ থেকে অধ্যয়ন শেষে কর্মজীবনে পদার্পণ করেন চৌমুহনী কলেজের অধ্যাপক হিসেবে। বছর তিনেক পর ১৯৬৭ সালে পেশা পরিবর্তন করে যুক্ত হলেন বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। ১৯৯৩ সালে তিনি নিজে বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘এক্সপ্রেশানস’ প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৫৮ সাল থেকেই মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় ও নির্দেশনার কাজ করতে শুরু করেন এই মানুষটি। অভিনয় তাঁর মজ্জাগত। ছাত্রাবস্থায় স্কুলমাঠে তাঁকে দেখা গেছে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ইংরেজ সেনাপতি ওয়াটস-এর ভূমিকায় অভিনয় করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে তিনি প্রখ্যাত নাট্যকার মুনীর চৌধুরী নির্দেশিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকে ইব্রাহিম কার্দির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এভাবেই তাঁর জীবনে শিল্পকলার এই সৃজনশীল মাধ্যমটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায়।

১৯৬১ সালে বেতারে ও ১৯৬৫ সালে টেলিভিশনে নাট্যশিল্পী হিসেবে যুক্ত হন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটক ‘একতলা দোতলা’য় অভিনয় করেছেন তিনি। একাত্তরের উত্তাল সময়ে রামেন্দু মজুমদার অবদান রেখেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে; বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন বক্তৃতা, বিবৃতির একটি ইংরেজি সংকলন সম্পাদনা করে দিল্লি থেকে প্রকাশের কাজও করেন তিনি।

গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার দুবার দায়িত্ব পালন করেছেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) সভাপতি হিসেবে। বর্তমানে তিনি আইটিআই-এর অনারারি প্রেসিডেন্ট। ২০০৯ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন। বরেণ্য এই নাট্যজন তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের কর্মী হিসেবে কর্মজীবনের নানান অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়েছেন ‘অগ্রজ’-এর এই পর্বে।

আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মমিনুল ইসলাম ‘অগ্রজ’-এর আয়োজন সম্পর্কে বলেন, “আইপিডিসি ‘অগ্রজ’-এর মাধ্যমে বিভিন্নক্ষেত্রে অবদান রাখা দেশের অগ্রজদের কর্মমুখর জীবনের গল্প ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষের মাঝে তুলে ধরতে চায় এবং মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে চায়।

প্রখ্যাত নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার সাংস্কৃতিক অঙ্গণে আমাদের সকলের প্রিয়মুখ। নিজক্ষেত্রে সৃজনশীলতার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপনে তাঁর দৃঢ়তা, মনোবল ও উদ্দীপনা থেকে আমরা অনুপ্রেরণা পাই। সাংস্কৃতিক অঙ্গণের এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে ‘অগ্রজ’-এ পেয়ে আমরা সমৃদ্ধ হয়েছি। আজকের প্রজন্ম রামেন্দু মজুমদারের মতো গুণী অগ্রজ-এর জীবনের গল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

‘অগ্রজ’ একটি ওয়েবিনার সিরিজ যা প্রতি মাসের প্রথম ও তৃতীয় বৃহস্পতিবার আইপিডিসি’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বই অতিথিদের ব্যক্তিগত ও পেশাদারি জীবনের নানা বাঁক ও চড়াই-উৎরাই দর্শকদের সামনে তুলে আনে। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক আনিস এ খান প্রায় চার দশক ধরে ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ার পর সম্প্রতি এই খাত থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অনলাইন এই অনুষ্ঠানে বিখ্যাত ব্যক্তিরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র যেমন অর্থ, ব্যবসা, শিল্প, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং মিডিয়া ইত্যাদির নানা উল্লেখযোগ্য বিষয় আলোচনা করেন। লাইভ এই অনুষ্ঠানটি রেকর্ডকৃত রূপে আইপিডিসি’র ফেসবুক পেজ, আইপডিসি’র অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ও www.ogroj.com.bd এই ঠিকানায় পাওয়া যাবে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.ipdcbd.com.

Print Friendly, PDF & Email