Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের স্মারকলিপি


২৭ জানুয়ারী চসিক নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য
ইভিএম সুরক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি
আজ বেলা ১.৩০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে জোটের চেয়ারম্যান মোস্তফা মাসুমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামানের হাতে ১১ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন চট্টগ্রাম মহানগর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রামের নগরবাসী চট্টগ্রামকে শান্তি, শৃঙ্খলায় এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেখতে এবং রাখতে চায়। এই লক্ষে ২৭ জানুয়ারী চসিক নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করা সময়ের দাবী। ১১ দফা দাবীগুলোর মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরবাসীকে ভোটারদের উপস্থিতিতে এবং প্রার্থীদের নিজ জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের মাইলফলক হতে পারে। দাবীগুলো যথাক্রমে নি¤œরূপ: প্রথমত: সকল দলের প্রার্থীর প্রচার প্রচারণা সমান সুযোগ রাখা এবং তাদের সাম্প্রতিক পারস্পরিক অভিযোগগুলোকে আমলে নিয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে অঞ্চল ভিত্তিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। উচ্চ পদস্থ সরকারী সুবিধা ভোগকারী মন্ত্রী মহোদয়, সংসদ সদস্য বর্গ যাতে নির্বাচনে প্রভাব খাটাতে না পারে সেদিকে নজরদারী রাখা। দ্বিতীয়ত: বর্তমানে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসার জন্য আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষে প্রচারণা চালানো জর”রী। তৃতীয়ত: বিভিন্ন এলাকায় ভোট কেন্দ্রে না আসার জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতিহিংসামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা গণমাধ্যমে (দৈনিক পত্রিকায়) প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপানো হয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি অনেক কমে যাবে। তাই এ বিষয়গুলো গুর”ত্বের সাথে কার্যক্রম চালানো জর”রী। চতুর্থত: ভোটের দিন গণমাধ্যম কর্মীরা (প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া) এবং প্রতিষ্ঠিত এনজিও কর্মীরা যাতে ভোট কেন্দ্রের সংবাদ পরিবেশন করতে পারে তার সুযোগ করে দেয়া এবং তাদের নিরাপত্তা প্রদান করা। পঞ্চমত: ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রের আসে-পাশের অলি-গলির প্রবেশ মুখে কিছু বিপদগামী অনাকাঙ্খিত ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করে যার কারণে ভোটারা ভোট কেন্দ্রে আসতে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগে। এ নিরাপত্তাহীনতা দূর করার জন্য সেনা কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর দায়িত্ব প্রদান এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি-কে দায়িত্ব দেয়া জর”রী। ষষ্ঠত: ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে যাতে সকল প্রার্থীর পুলিং এজেন্ট নির্ভয়ে তার নির্ধারিত আসনে বসতে পারে, তা তদারকি করা এবং কোন কেন্দ্রে প্রার্থীর এজেন্টকে প্রবেশ করতে বাঁধা দিলে ঐ কেন্দ্রে নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা। সপ্তমত: ভোটের দিন ইভিএম এর পাশে কোনো প্রার্থীর পক্ষের কোনো ব্যক্তিকে অবস্থানের সুযোগ না দেয়া। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের বুথে যাতে কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে না পারে সেই দিকে নজরদারী রাখা। অষ্টমত: প্রিজাইডিং অফিসার সহ ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা যাতে নির্ভয়ে, কারো চাপে বষীভুত না হয়ে ঈমানী দায়িত্ব পালন করতে পারে সেই দিকে নজরদারী রাখা। নবমত: নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে ইভিএম মেশিনের যে পিন কোড/ পাসওয়ার্ড প্রদান করা হয় তা যেন কোনো প্রার্থীর অনাকাঙ্খিত ব্যক্তির হাতে না যায়, সেই দিকে নজরদারী রাখা এবং প্রিজাইডিং অফিসারের যে সংরক্ষিত ভোটিং ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে তা যেন কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে প্রয়োগ না করা, প্রয়োগ করতে হলে যত প্রার্থী রয়েছে সমানভাবে ঈমানদারীত্বের সাথে প্রয়োগ করা। দশমত: ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ভোটারকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে অহেতুক হয়রানি, অপমান, অপদস্ত, হুমকি প্রদর্শন করা না হয় সেই দিকে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা। একাদশ: ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে কেন্দ্রের প্রার্থীর পুলিং এজেন্টদের হাতে প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল হস্তান্তর করা। সর্বোপরি ইভিএম সুরক্ষা, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা এবং চট্টগ্রাম এর সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার এ নির্বাচন। স্মারকলিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের নেত্রী আফরোজা বেগম জলি, এড. এনামুল হক এনাম, এড. ইকবাল আহমেদ, আরেফিন রিয়াদ, মোঃ আওরঙ্গজেব খান স¤্রাট, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন খান, মোঃ খালেদ হোসেন, ফরিদা ইয়াসমিন, আব্দুল খালেক, আফসানা আক্তার, মারিয়া সুলতানা প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email