Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

কধুরখীলে লাকী সেভেন বিয়ের আলাপ ফাঁস দিদারের

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ০৮জুলাই(বোয়ালখালী)

মানুষের কত রকম নেশাই থাকে। তাই বলে বিয়ের নেশা।সত্যিই বিয়ের নেশা একে একে ৭ বিয়ে করেই এখন ১৪নম্বর কেইচের আসামী । ৭ নাম্বারেই ধরা খেলেন বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল গ্রামের দারোগার বাড়ির বিয়ে পাগল দিদারুল ইসলাম।মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে থাকেন দিদারুলইসলাম। ছুটিতে একেকবার দেশে আসলে একটা করে বিয়ে করা তার নেশা। তবে কথিত ‘বিয়ে’র কোনোটি টেকে ১০ দিন, কোনোটি তার একটু বেশি!

সর্বশেষ অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এক রোহিঙ্গা নারীকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে আসেন দিদারুল।
এরপর বিয়ে ছাড়াই ওই নারীর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন তিনি। পরে ২০১৮ সালের ২১ জুন ওই নারীকে ২০০ টাকা স্ট্যাম্পের হলফনামায় স্বাক্ষর করে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু ১০ দিনের মাথায় হঠাৎ তাকে দেন তালাকও। তালাকের কিছুদিন পর আবারও ওই নারীর সঙ্গে ‘সংসার’ শুরু করেন তিনি।

বিষয়টি জানাজানি হলে পরে আবারও তিনি বিয়ে করতে বাধ্য হন ওই রোহিঙ্গা নারীকে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর নগরীর পাঁচলাইশ থানার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি পুত্রসন্তান।

নগরীর জামালখান রোড এলাকায় থাকেন দিদারুল। জানা গেছে, চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার প্রথম বিয়ে করেন দিদারুল। তার ওই সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও তিন মেয়ে। অন্যদিকে নগরীর জামালখান রোডের সানমার স্প্রিং গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন দিদারুলের দ্বিতীয় স্ত্রী। ওই সংসারে রয়েছেন তিন ছেলে ও এক মেয়ে। আবার চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট ব্রিজ এলাকায় থাকেন তার তৃতীয় স্ত্রী। ওই ঘরে রয়েছে দুই মেয়ে ও এক ছেলে।

এদিকে পটিয়া উপজেলার আমজার হাট এলাকার বাসিন্দা আরেক নারী হলেন তার চতুর্থ স্ত্রী। তিনি জামালখান এলাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। বোয়ালখালী এলাকার ২৮ বছর বয়সী এক নারী দিদারুলের পঞ্চম স্ত্রী। ওই নারীর কোনো সন্তান ছিল না। বিয়ের এক বছরের মাথায় ওই নারীকে তালাক দেন দিদারুল। মোহরানা বাবদ শুধুমাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদায় করেন ওই নারীকে।
অভিযোগে জানা গেছে, বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার এক নারীর সঙ্গে প্রায় তিনি বছর ধরে অবৈধভাবে মেলামেশা করেন দিদারুল ইসলাম। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যান। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলেও পরে তাকেও বিয়ে করতে বাধ্য হন দিদার। তবে বিয়ের পরপর ওই নারীর গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করা হয়। তালিকার ছয় নম্বরে থাকা এই স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় চার বছর সংসার করার পর তাকে তালাক দেন দিদারুল।

তবে বিয়ের নামতায় সাত নম্বরে থাকা এক রোহিঙ্গা নারীকে পর পর দুবার বিয়ে করে তিনি ধরা পড়েন দুদকের জালে।দিদারুল ইসলামের মোবাইলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার শ্যালক পরিচয়ে একজন বলেন, ‘আপনার যা মন চায়, তাই লিখে দেন।’

দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘দিদারুলের বিয়ের কাবিননামায় তার স্ত্রীর ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে কক্সবাজার সদর থানার ১২ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ কলাতলী এলাকা। ওই নারীর বাবার নাম হিসেবে যার উল্লেখ রয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে ওই নামের ব্যক্তির সঙ্গে রোহিঙ্গা নারীটির কোনো সম্পর্কই নেই। অর্থের বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করতে এই সম্পর্ক বানিয়েছেন দিদার।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর তদন্ত করে কমিশন বরাবরে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Print Friendly, PDF & Email