Download WordPress Themes, Happy Birthday Wishes

বাঁশখালীতে রমজান এলেই বাড়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম

রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ,বাঁশখালী।
আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এরইমধ্যে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, তেল, আটা, ময়দাসহ অন্তত ১৫ ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে আকাশছোঁয়া। বিশেষ করে চাল ডাল ও তেলের দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষেরা।
মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বাঁশখালীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মোটা চাল প্রতিকেজি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা এক মাস আগে ছিল মাত্র ৪৪ টাকা। তা ছাড়া পিয়াজ,রশুন,খেজুর,
মুড়ি,তৈল,আলু,গরুর মাংস,দেশি মুরগী সহ আর কয়েক,টি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে আগের মতো পণ্য সরবরাহ হচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে মানুষকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে রমজানকে কেন্দ্র করে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, অস্বাভাবিক বেড়েছে পেঁয়াজ-আদা ও রসুনের দাম। ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন ৪০ টাকা। ৮০ টাকার রশুন বিক্রি হচ্ছে ১২০টাকা।মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। আর সরু বা চিকন দানা চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকায়। ভালো ব্র্যান্ডের চাল এখন বাজারে পাওয়াই যাচ্ছে না।
বর্তমানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা কেজি, যা এক মাস আগে ছিল ৫৫-৬০ টাকা কেজি। অর্থাৎ চিকন চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে আট টাকা এবং এক মাসের ব্যবধানে ১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বাড়ার এই তালিকায় রয়েছে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালও। বর্তমানে মাঝারি মানের লতা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫২-৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০ -৫৫ টাকার মধ্যে। আর এক মাস আগে ছিল ৪৫-৫০ টাকার মধ্যে।তবে ডিম ও সবজির দাম কিছুটা কমেছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজের দাম দফায় দফায় বাড়লেও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে সবজি। বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। বরবটি ৬০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, পটল, ঝিঙা ৫০ টাকা কেজি। চিচিংগা, ঢেঁড়শ ৫০-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকার মধ্যে।
করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর (খোলা) সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা পর্যন্ত। আর এক লিটারের বোতলের সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৩৫ টাকা। পাম অয়েলের দাম বেড়েছে লিটারে ২৫ টাকা পর্যন্ত।
বড় দানার মসুরের ডাল খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৮০-৯৫ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৬০-৭০ টাকা। আর ছোট দানার মসুরের ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ১০০-১০৫ টাকার মধ্যে।
দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে অ্যাংকর, ছোলা ও মুগ ডাল। বাজার ও মানভেদে অ্যাংকর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৩৫-৪০ টাকা। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৬৫-৭০ টাকা। আর ১২০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মুগ ডালের দাম বেড়ে ১৪০-১৫০ টাকা হয়েছে।
Print Friendly, PDF & Email