আঞ্চলিকশীর্ষ নিউজ

যশোর জুড়ে নজরদারি প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বলয়


মালিক উজ জামান, যশোর : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যশোর আগমনকে ঘিরে নিচ্ছিদ্র নিরপত্তার বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছে। আগামী ২৪ নভেম্বর জনসভাস্থল শামস উল হুদা স্টেডিয়ামসহ গোটা শহরে চারস্তরের নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। যশোর স্টেডিয়ামের জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে করার জন্য ঢাকা ও যশোরের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গুলো সকাল টু সন্ধ্যা, সন্ধ্যা টু সকাল শিফটে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আগমন ও তার বিশাল জনসভা উপলক্ষে গোটা যশোর জেলার ৮টি উপজেলায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার গোয়েন্দা ইউনিটগুলো নজরদারিতে রাখছে সবকিছু। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসার আগের দিন ও জনসভার দিন কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে গোটা যশোর শহর ও শহরতলী। জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আর মাত্র চার দিন। সেই কাঙ্খিত দিন ২৪ নভেম্বর। যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তাকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কর্মযজ্ঞ চলছে দলীয় ফোরামে এবং প্রশাসনে। তাকে এক নজর দেখতে এবং কথা শুনতে অধির আগ্রহে থাকা যশোরাঞ্চলের গণমানুষ সভাস্থলে আসতেও নিচ্ছেন প্রস্তুতি। যশোরে একদিকে এগিয়ে চলেছে সভাস্থল সাজ সজ্জার কাজ। অন্যদিকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়েও বসছে দফায় দফায় বৈঠক।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই বিশাল গণসমাবেশে ৫ লাখ মানুষ সমাগমের টার্গেট করা হচ্ছে। তবে সূত্র জানায় এ সংখ্যা অতিক্রম করবে। কেননা দীর্ঘ ৫বছর পর প্রিয় নেত্রীকে দেখার ও তার কথা শোনার জন্য উদগ্রীব। জন সমাবেশে ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যশোর জেলা পুলিশ প্রশাসন। যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়াদারের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের দফায় দফায় বৈঠক চলছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যশোরস্থ প্রধানদের সাথে। ঢাকা থেকে এসেও সভাস্থল পরিদর্শন করাসহ যশোর পুলিশের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে। ১৭ নভেম্বর রাত পর্যন্ত তথ্য মিলেছে, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে প্রাথমিকভাবে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বেস্টনি প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রশিক্ষিত ও চৌকস ফোর্স এবং অফিসারদের সমন্বয়ে গঠন করা হচ্ছে এ নিরাপত্তা বেস্টনি।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনা হচ্ছে গোটা জেলাকেই। এরমধ্যে সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পথ থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা বেস্টনিতে। সভার আগের দিন এবং সভার দিন শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হবে। সভা মাঠের অদুরে ওয়াচ টাওয়ার থেকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে জনসভাস্থল ও জনসভা মঞ্চ পর্যবেক্ষণ করা হবে। পোশাকধারী ছাড়াও সাদা পোশাকধারী পুলিশ থাকবে গোটা শহর জুড়ে। পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট ও র‌্যাবসহ আরো কয়েক সংস্থা এই নিরাপত্তা বলয়ে থাকবে। এই চার স্তরের বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর নিরপত্তায় থাকবে ঢাকা থেকে আসা বিভিন্ন সংস্থার কয়েকটি বিশেষায়িত ইউনিট। স্যাটেলাইট সহায়তা নিয়েও তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
জনসভার সিংহভাগ মানুষ আসবে শহরের বাইরে থেকে। বৃহত্তর যশোরের ৪ জেলা, ৮টি উপজেলা ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলো থেকে আসবে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী এবং সমর্থক। এ কারণে জনসভার দিন জেলা জুড়ে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি। পথে যে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা রোধ করবে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রী এমপি ভিআইপিদের বিশেষ নিরাপত্তা দেয়া হবে। সভার এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়েছে এ নজরদারি। আগামি ২৪ নভেম্বরের আগেই যশোর শহরের বিমানবন্দর রোড, শিক্ষা বোর্ড রোড, জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকা দড়াটানা, উপশহর, মণিহার এলাকা, চাঁচড়া চেকপোস্ট, ধর্মতলা, আরবপুর মোড়, পালবাড়ী মোড়, মুজিব সড়ক, গাড়ীখানা রোড, এম.কে রোড, আর এন রোড, রেলরোড, সদর হাসপাতাল রোড, চিত্রামোড়, জজকোর্ট মোড়, জেলখানা মোড়, কাঠেরপুল-বড়বাজার এলাকাসহ আরও কয়েকটি এলাকায় সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছে পুলিশ। ওইসব এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি ও অভিযান চলছে ।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা পুলিশের (মুখপাত্র) ডিবির অফিসার ইনচার্জ রুপন কুমার সরকার জানান, প্রতিদিনই নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে দফায় দফায় সভা হচ্ছে উর্ধŸতন অফিসারদের সমন্বয়ে। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বেস্টরির বিষয়ে। গোটা যশোর জেলার ৮ উপজেলা গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভা উপলক্ষে শহর ও শহরতলীতে কিংবা গ্রামাঞ্চলেও কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। বিভিন্ন পর্যায়ের চৌকস অফিসার এবং ফোর্স দায়িত্ব পালন করছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রতিদিনই সভা হচ্ছে। দ্রুতই ব্রিফিং করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এছাড়া আজকালের মধ্যে আরো স্পেসেফিক তথ্য দেয়া যাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button