অর্থ ও বাণিজ্যশীর্ষ নিউজ

বাংলাদেশের ‘ক্ষুদ্রঋণ মডেল’ অনুসরণে আগ্রহী মালদ্বীপ

 

জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ক্ষুদ্রঋণ বা মাইক্রোক্রেডিট মডেল’ ও ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মডেল’ মালদ্বীপে প্রয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির ব্যবসায়িক খাতের শীর্ষ সংগঠন মালদ্বীপ ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমএনসিসিআই)। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল মালদ্বীপ সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপ ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি মোহাম্মদ মামদুহ এবং চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ব্যবসায়িক খাতের নেতৃবৃন্দ জানান, মালদ্বীপে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা বাংলাদেশের সফল ক্ষুদ্রঋণ মডেলটি ব্যবহার করতে তারা আগ্রহী। বাংলাদেশের এই মডেলটি বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনে একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত, যা মালদ্বীপের স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করেন।

মালদ্বীপের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে তারা গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল নিয়ে দ্রুত বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এছাড়া যৌথ বাণিজ্য মেলা ও বাণিজ্য প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের বেসরকারি খাতের যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে লজিস্টিকস ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করছে। তিনি বাংলাদেশের বিস্তৃত শিল্পভিত্তি ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন খাতকে কাজে লাগিয়ে মালদ্বীপে বাংলাদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

বৈঠকে সংকটকালীন সময়ে মালদ্বীপে পানীয় জল সরবরাহে বাংলাদেশের দ্রুত সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মালদ্বীপের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ। এসময় হাইকমিশনার মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং মালদ্বীপের অর্থনীতিতে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button