ফের সিএমপিতে ওসি হতে মরিয়া বিতর্কিত ওসি জায়েদ নূরের!
বিশেষ প্রতিবেদক
ফের সিএমপিতে ওসি হতে মরিয়া ওসি আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূরের। পটিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রত্যাহার হওয়া বহুল আলোচিত ও সমালোচিত সাবেক এই ওসি আবারও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) যোগদান করেছেন।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি সিএমপির যে কোনো থানায়, বিশেষ করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পদায়নের জন্য রাজনৈতিক তদবির ও জোর লবিং চালাচ্ছেন। তবে তাকে সিএমপির কোনো থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিকবার বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের ২২ আগস্ট তিনি পতেঙ্গা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে মাত্র তিন মাস ২২ দিনের মাথায় ২০২৩ সালের ২ মে পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি পটিয়া থানার দায়িত্ব পান। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৫ সালের ১ জুলাই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দুই দফা সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৯ জন আহত হওয়ার দাবি ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করে আন্দোলনকারীরা থানায় নিয়ে গেলে তাকে গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিতীয় দফায় আবারও সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর আন্দোলনকারীরা পটিয়া থানার সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দু-একদিন পরই আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে পটিয়া থানা থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট তাকে টেকনাফ মডেল থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এরপর গত বছরের ৯ ডিসেম্বর তিনি সন্দ্বীপ থানায় যোগ দেন।
সম্প্রতি তিনি আবারও চট্টগ্রাম রেঞ্জ থেকে বদলি হয়ে সিএমপিতে যোগ দিয়েছেন। এরপর থেকেই ওসির পদে বসতে তৎপরতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএমপির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, “আগে অনেকে লীগের পরিচয় দিতেন, এখন খোলস পাল্টে বিএনপি পরিচয় দিচ্ছেন। অথচ দুই আমলেই ওসি হতে চান। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ বলেন, “বিতর্কিত কর্মকর্তাদের রেঞ্জ হোক বা মেট্রো, কোথাও ওসির চেয়ারে বসানো উচিত নয়। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সৎ ও বিতর্কহীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া দরকার।”
সিএমপির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, থানার ওসি পদায়নের ক্ষমতা পুলিশ কমিশনারের হাতে। নতুন কমিশনার চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় যোগ্য ও বিতর্কহীন কর্মকর্তাদেরই পদায়ন করবেন বলে সবার প্রত্যাশা। তবে নগরবাসীর দাবি, বিতর্কিত কোনো কর্মকর্তাকে যেন সিএমপির গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলোতে ওসি হিসেবে দায়িত্ব না দেওয়া হয়।




