শীর্ষ নিউজ

সুনামগঞ্জে বলপ্রয়োগে ভাসমান টং দোকানী বাচ্চুকে উচ্ছেদের ঘটনায় নিন্দা


সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ পৌরসভার জেলরোড মার্কেটের সর্বশেষ দোকানকোটার উত্তরে পাকা ড্রেইনের উপর একটি ভাসমান টং দোকানকে ভেঙ্গে ঘুরিয়ে দিয়ে একজন নিরিহ দোকানদারকে পথে বসানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা। জানা যায়,সুনামগঞ্জ পৌরসভার তেঘরিয়া মৌজার ১৪৪নং জেএলস্থিত ১০ নং খতিয়ানের ৪০১ নং দাগের মধ্যে অবস্থিত ২২০ বর্গফুটের সর্বশেষ দোকানটির মালিক শহরের বিলপাড় নিবাসী সতীশ চন্দ্র পালের পুত্র নান্টু পাল। কাগজেপত্রে মাত্র ১২ লক্ষ টাকা পৌরসভা বরাবরে অফিসিয়েল সেলামী,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে নগদ ২ লাখ টাকা,নন অফিসিয়েলি দুই কর্মকর্তাকে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দীর্ঘদিনের দখলকৃত ঐ দোকানটি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত ভাগিয়ে নেন ঐ মার্কেটের একাধিক দোকানকোটার মালিক নান্টু পাল। দোকানটির উত্তরেই গত ৪ বছর ধরে ভাসমান টং দোকান দিয়ে চা-পানের ব্যবসা করতেন শহরতলীর সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর নিবাসী মখলিছ মিয়ার পুত্র মোঃ অহিদুর রহমান (বাচ্চু)। মাত্র ৫ ফুট প্রস্থ এবং ১০ ফুট দীর্ঘ বিশিষ্ট চা-পানের টং দোকানটির পূর্বে সরকারি রাস্তা,পশ্চিমে পৌরসভার ড্রেইন ও স্কাউট ভবন,দক্ষিণে পৌরসভা মার্কেট এর নতুন বন্দোবস্ত গ্রহীতা নান্টু পাল ও উত্তরে পুরাতন হাসপাতাল রোড অবস্থিত। উক্ত জায়গায় চা-পানের টং দোকান দিয়ে ২০২২ সাল হতে ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার পরিচালনা করেন অসহায় এই ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে ও বিদ্যমান ড্রেনের কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে পুরাতন জেলরোড এলাকার পরিত্যক্ত ড্রেনের উপর দোকানটি বসিয়ে গত ৪ বছর যাবৎ ব্যবসা পরিচালনার ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক পৌর প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম ড্রেনের পাশের পৌরসভার জায়গায় নতুন দোকানকোটা নির্মাণের প্রয়োজনে ঐ দোকানটি বন্ধ করে পৌরসভার অবকাঠামোগত কাজে অহিদুর রহমান বাচ্চুর সহযোগীতা নেন। পরে পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এর মৌখিক অনুমতি নিয়ে আবারো পূর্বের পরিত্যক্ত জায়গায় তার ভাসমান টং দোকানটি বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করত: জীবিকা নির্বাহ করার একপর্যায়ে জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত পোষ্য সাংবাদিক ও “র” এর এজেন্ট হিসেবে পরিচয়ধারী দুব্যক্তি ঐ দোকানটি উচ্ছেদ করানোর পায়তারা করেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) নিরিহ ব্যবসায়ী মোঃ অহিদুর রহমান (বাচ্চু) “চা-পানের ভাসমান টং দোকান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক কর্তৃক দরখাস্তকারীকে সদয় অনুমতি প্রদানের জন্য পৌরসভার প্রশাসক মহোদয়কে সদয় আদেশ প্রদান“ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। নিরিহ ব্যবসায়ী বাচ্চু ও তার আবেদনের পক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন বিজ্ঞ আইনজীবী জেলা প্রশাসককে মানবিক তদবীরও করেন। কিন্তু সকল মানবিকতাকে উপেক্ষা করে পোষ্য সাংবাদিক ও ঘুষের বিনিময়ে বেআইনীভাবে নেয়া দোকান মালিক নান্টু পালের স্বার্থে লিখিত আবেদনের মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বুধবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় বলপ্রয়োগ করে ভাসমান টং দোকানটি একেবারে ভেঙ্গে ঘুরিয়ে দিয়ে দোকানীকে পথে বসানো হয়। বাজারের ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেন,বন্ধু মহলের কাছ থেকে ধারদেনা করে ঐ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্টিলবডি ও এঙ্গেল দ্বারা সুন্দর করে তার ভাসমান টং দোকানটি স্থাপন করেছিলেন। এটি অনায়াসে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে স্থানান্তর করা সহজ ছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকগন এতটাই কঠোর হলেন যে,গ্রিল মেশিন দ্বারা কেটে একেবারে ভেঙ্গে ঘুরিয়ে দিয়ে ট্রাকে মালামাল নিয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কঠোরতা প্রদর্শন করায় ঐ অসহায় দোকানীকে একেবারে পথে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। জেল রোডের ব্যবসায়ীরা বলেন,জেলা প্রশাসকের বাসভবনের দক্ষিণ ও পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় শতাধিক ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে যাচ্ছে। ঐসব ব্যবসায়ীদের কারণে মহিলা কলেজের বর্ধিত ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের আসাযাওয়া এবং রাস্তায় যান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেও এ ব্যাপারে কারো কোন মাথাব্যথা নেই। অথচ অহিদুর রহমান বাচ্চুর টং দোকানটি পরিবেশ প্রতিবেশ ও সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা সাধারণ লোকজনের চলাচলে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। তারপরও রহস্যজনক কারণে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। দোকানীর পক্ষের লোকজন বললেন,আমরা দেখেছি জেলা প্রশাসকের অফিস ও বাসভবনে কর্মরত কর্মচারীরা ঐ দোকানে বসে চা খেতেন ও নিয়মিত আড্ডা দিতেন। এতে কারো কোন অসুবিধা ছিলনা বা হয়নি। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” এর একজন স্থানীয় এজেন্ট ও আরেকজন সাংবাদিক স্কাউট ভবন ও ব্যবসায়ী নান্টু পালের স্বার্থ রক্ষায় গত ৬ মাস ধরে ঐ ভাসমান টং দোকান ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন।
বাংলাদেশ স্কাউট সুনামগঞ্জ জেলা সেক্রেটারী মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন,ভাসমান টং দোকানটি আমাদের জায়গা বা সীমানায় ছিলনা। বর্ণিত স্থানে দোকানটি থাকায় আমাদের সুবিধা ছিল। আমরা নিজেরাও অনেক সময় ঐ দোকানটি থেকে চা পান করতাম। আমরা জেলা স্কাউটস এর পক্ষ থেকে দোকানীর বিরুদ্ধে কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করিনি। একই বক্তব্য ব্যবসায়ী নান্টু পালের। তিনি বলেন,আমি জেনেশুনে কারো কোন ক্ষতি করার প্রশ্নই আসেনা। বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন,যেহেতু ভাসমান টং দোকানটি অনায়াসে স্থানান্তর করা যেত সেহেতু এটি গ্রীল মেশিন দ্বারা কেটে,ট্রাকে মালামাল উঠিয়ে একেবারে ভেঙ্গে ঘুরিয়ে দিয়ে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ক্ষতি না করলেও চলতো। কিন্তু উচ্ছেদ প্রক্রিয়া দেখে মনে হয়েছে কোন ব্যক্তি বিশেষের আক্রোশে অতিমাত্রায় আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে একজন নিরিহ ভাসমান ব্যবসায়ীর চরম সর্বনাশ করা হয়েছে। উচ্ছেদ এর ব্যাপারে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোঃ মতিউর রহমান খান (পরিচিতি নং-১৭৪০৫) বলেন,নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম সাকিব খান (পরিচিতি নং ৪১০০০০৭) ও সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে উচ্ছেদ করতে হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানকারী এই কর্মকর্তা আরো বলেন,এক সপ্তাহ পূর্বে ঐ দোকানীকে তার অবৈধ স্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত না করায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশের প্রেক্ষিতে তাকে উচ্ছেদ করা হয়। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অহিদুর রহমান বাচ্চু তার মোট দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন,যে জুলুমবাজ কর্মকর্তা,আমাকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করার আগে কোনপ্রকার নোটিশ না দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার পেটে লাথি মেরে চরম ক্ষতিসাধন করেছেন সমাজের বিবেকমান মানবতাবাদী মানুষ সেটি দেখেছেন। আমি এ ব্যাপারে স্বয়ং ¯্রষ্টার কাছে এর ন্যায়বিচারের ভার ছেড়ে দিলাম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button