শীতে দূষণের পাল্লা ভারী, খুব ভোরে বা সন্ধ্যায় হাঁটা কেন ক্ষতিকর? কোন সময়ে হাঁটবেন?
খুব ভোরে উঠে হাঁটেন? সময় না পেলে সন্ধ্যায়? এই দুই সময়েই হাঁটাহাঁটি করা ক্ষতিকর বলে জানাচ্ছেন গবেষকেরা। কেন?
শীত পড়তেই দূষণের পাল্লা ভারী। খবরে চোখ রাখলেই এখন ধোঁয়াশা ঢাকা রাজধানীর ছবি। কলকাতার অবস্থা ততটা খারাপ না হলেও বাতাসের গুণমান নির্ধারক সূচক (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স)বলছে, সতর্ক হওয়া জরুরি। সমীক্ষা বলছে, এ শহরও বায়ুদূষণের নিরিখে খুব একটা পিছিয়ে নেই। যানবাহনের ধোঁয়া, আবাসনগুলিতে দেদার এসির ব্যবহার, সব মিলিয়ে বাতাসে দূষণবাহী কণার পরিমাণ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সকাল-সন্ধ্যায় হঁটাহাঁটি করতে বারণই করছেন চিকিৎসকেরা। প্রাতর্ভ্রমণের অভ্যাস যাঁদের আছে, তাঁদের খুব ভোরে বা সন্ধ্যার পরে হাঁটতে নিষেধ করা হচ্ছে।
কেন ভোরে ও সন্ধ্যায় হাঁটা এখন ক্ষতিকর?
ভোরবেলায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে হাঁটাহাঁটি করতেই তো বলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্য। শীতের সময়ে এমনিতেই দূষণবাহী কণার পরিমাণ বাড়ে, তার উপরে কলকাতার দূষণের প্রধান উৎস যানবাহনের ধোঁয়া ছাড়াও শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা রাস্তার ধুলো। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (ডব্লিউবিপিসিবি) সমীক্ষায় কিছু দিন আগেই বলা হয়েছিল, বাতাস বা যানবাহনের চলাচলে যে ধুলো বাতাসে মিশে যায়, তা অত্যন্ত ক্ষতিকর। খুব ভোরে যখন বাতাস ঠান্ডা থাকে, তখন ধুলো ও দূষণবাহী কণা মাটির কাছাকাছি থাকে। তার উপরে মানুষজনের চলাচল, গাড়ি চলাচল শুরু হলে ধুলো বাতাসে মিশে সর্বত্র ছড়িয়ে যায়। এই ধুলো শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকলে তা শ্বাসনালির প্রদাহ মারাত্মক বাড়িয়ে তোলে। ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানির সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যালার্জি, সিওপিডি দেখা দিতে পারে। ফুসফুসের অসুখও হতে পারে। আবার শ্বাসের সঙ্গে ক্রমাগত ধূলিকণা, দূষিত বাতাস শরীরে ঢুকলে তা হৃদ্রোগের কারণও হয়ে উঠতে পারে।





