চট্টগ্রামশীর্ষ নিউজ

নগর নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জিং, কোতোয়ালিতে ওসি আফতাব উদ্দিন

 
chatganews image – 1

বিশেষ প্রতিবেদক

পদবী বা প্রচারের চেয়ে অপরাধ দমনে বাস্তব কাজ ও মাঠে দৃশ্যমান ফলাফলেই নিজের অবস্থান গড়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন। চট্টগ্রাম নগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যাঁরা নীরব কিন্তু কার্যকর ভূমিকা রাখেন, সেই তালিকায় তাঁর নাম উঠে এসেছে ধারাবাহিক সাফল্য ও পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গির কারণে।

চান্দগাঁও, বন্দর ও বাকলিয়া থানায় তাঁর সময়ে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হ্রাস পায় এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের একটি মডেল গড়ে ওঠে, যা তাঁকে নগর পুলিশের ভেতরেই ‘সাইলেন্ট পারফর্মার’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বে অভিষেক

গত ২৬ ডিসেম্বর তিনি নগরের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ থানা কোতোয়ালির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক দিক থেকে চট্টগ্রামের হৃৎস্পন্দন বলা যায় এই থানাকে। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চট্টগ্রাম জজ কোর্ট, রেলওয়ে স্টেশন, নিউ মার্কেট, রেয়াজউদ্দিন বাজার, লালদিঘি ময়দান, সিআরবি, সার্কিট হাউস এবং অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম কেন্দ্র এই থানার আওতায় পড়ে। এমন একটি ‘হটসিটে’ দায়িত্ব সাধারণত সর্বাধিক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদেরই দেওয়া হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আফতাব উদ্দিনের পূর্ববর্তী কর্মপরিচালনা, কৌশলগত পুলিশিং দক্ষতা এবং স্থিতিশীল ফলাফলই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

চান্দগাঁও: যাত্রা শুরু যেখানে

চান্দগাঁও থানায় তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের সময়টি ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি তিনি একইসঙ্গে মোকাবেলা করেন পুলিশ সদস্যদের মনোবল পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দুরূহ কাজ। তাঁর এই ত্রিমুখী পদক্ষেপ অচিরেই ফল দেয়। ওই থানায় দ্রুতই একটি কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশিং পরিবেশ তৈরি হয়, যা নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টিও আকর্ষণ করে। স্থানীয়দের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, সমস্যা শোনা এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা তাঁর কাজের ধরনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

বন্দর থানায় কঠোরতা ও মানবিকতার সমন্বয়

পরবর্তীতে বন্দর থানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি অপরাধ দমনে দৃঢ় ও অনড় অবস্থান নেন। একইসঙ্গে, তিনি চেষ্টা করেন কঠোরতা ও মানবিকতার সুনিয়ন্ত্রিত সমন্বয় ঘটাতে। সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর আচরণে দায়িত্বশীলতা এবং অপরাধীর প্রতি আইনের কঠোর প্রয়োগ—এই দ্বৈত নীতি তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে। এই ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে আন্তর্জাতিক পুলিশ প্রশিক্ষণের জন্য চীনে পাঠানো হয়। এটি তাঁর পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতার একটি আনুষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাকলিয়ায় সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান

বাকলিয়া থানায় দায়িত্বকালে অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তিনি কার্যকর ও দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনা করেন। নানা চাপ ও তদবির উপেক্ষা করে শুধুমাত্র আইনানুগ প্রক্রিয়া ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাওয়াকে তাঁর দায়িত্ব পালনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেন স্থানীয় সূত্রগুলো। তবে অন্যান্য অফিসারের কিছু অনিয়ম-অভিযোগও সম্প্রতি গুঞ্জন রয়েছে। যা সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বে উপরস্থ কর্মকর্তারা তদস্তও করছেন।

কোতোয়ালিতে প্রত্যাশা

বর্তমানে কোতোয়ালি থানার দায়িত্বে থেকে তিনি অপরাধ দমনে দৃঢ় অবস্থান, সাধারণ নাগরিকের সাথে সদাচরণ এবং নিজেদের সারিতে পেশাদার কর্মপদ্ধতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। তাঁর সহকর্মীরা জানান, দায়িত্ব পালনের পথে কোনও সমালোচনা বা নেতিবাচক বক্তব্য এলেও তিনি সেটির জবাবও দেন তাঁর কাজের মাধ্যমেই—মিডিয়া ট্রায়াল বা প্রচারণার মাধ্যমে নয়।

নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সামাজিক বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, আফতাব উদ্দিনের এই বিপুল অভিজ্ঞতা, স্থিতিশীল কর্মপদ্ধতি এবং নাগরিক-পুলিশ সম্পর্ক উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি কোতোয়ালি থানার জটিল ও সংবেদনশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও সহনীয় ও নিরাপদ করতে সক্ষম হবে।
চট্টগ্রাম নগরীর কেন্দ্রবিন্দুর নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করাই এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এবং এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাঁর পূর্বের ট্র্যাক রেকর্ডই নগরবাসীর মাঝে আশার সঞ্চার করবে বলে ওসি আফতাব নিজেও প্রত্যাশা করেন। চট্টগ্রাম মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য একাধিকবার তিনি ‘সেরা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’ নির্বাচিত হয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button