বিশেষ খবররাজনীতি

তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গড়তে এগিয়ে আসার আহ্বান সংস্কৃতিমন্ত্রীর

 

ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী একটি উন্নয়নশীল দেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্ত্রী আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘একুশের কবিতা’ শীর্ষক কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকের পৃথিবীতে তথা বিশ্ব রাজনীতিতে যখন সংঘাত, ঘৃণা-বিদ্বেষ এবং বিভাজনে ভরা, সেখানে আমরা স্বপ্ন দেখছি বাংলাদেশ নিয়ে। কোনো বিভাজন ও অনৈক্য নয়, আমাদের শক্তি হচ্ছে মানুষের মানবতা ও শান্তি।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই স্বপ্নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, একটি বাংলাদেশ গড়তে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসাম্যের বিরুদ্ধে একটি ন্যায়সংগত সুখী ও সমৃদ্ধিশালী, গতিশীল, আধুনিক, নিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছি।

তিনি আরো বলেন, একটি নতুন পরিবর্তনের জন্য আমরা একত্রিত হয়েছি। পিছনের দিকে তাকালে দেখতে পাবো— জুলাই গণঅভুত্থানের যে সমস্ত ছাত্র-জনতা, কবি ও সাহিত্যিকবৃন্দ আত্মাহুতি দিয়েছেন, আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত এবং শান্তি কামনা করছি। গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে গভীরতা ও তাৎপর্য দেখেছি— যদি গভীরভাবে সেই অবদান অনুধাবন করি, তাহলে দেখবো যে, তখনকার সময়ে এটা ছিল একটা অনিবার্য পরিণতি এবং নিয়তির বিধানমতেই এই অনিবার্যতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারেননি।

তিনি আরো জানান, আমরা যদি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করি, তাহলে দেখতে পাবো— সমস্ত অস্ত্র ছিল গান ও কবিতা। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব। ২৪ এর যে জুলাই আন্দোলন, সেটা ছিল তরুণ-তরুণী, চাকরিজীবী, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসেছিল। তারা কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। তাদের দেশ নিয়ে ভাবনা ছিল, তাই মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করেছে নিরস্ত্রভাবে। জীবন দিয়েছে, রক্তে ভেসেছে আরেকটা নতুন পরিবর্তনের জন্য। আমরা এই পরিবর্তনে আধুনিক ও যুগোপযোগী বিশ্বের সাথে একাত্মতা জানাতে চাই।

তিনি বলেন, কবিতা শুধু মানুষকে কাঁদায় না, মানুষকে জাগিয়ে তোলে। কবিতা সংগ্রামমুখর করে। কবিতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটা শক্তিশালী উচ্চারণ ও কবিতা একটি প্রতিবাদের নাম।

এসময় তিনি কবি ও সাহিত্যিকদের সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে একটি পতাকা নিয়ে সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন জাফরান।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংস্কৃতিকে আমরা আরো বেগবান ও গতিশীল করতে চাই। দেশের জাতীয় কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম বাড়াতে পারি সেজন্য মানুষ, মানবিকতা, কল্যাণ এবং সর্বোপরি দেশ গঠনে সবাই মিলে কাজ করতে পারি— সে লক্ষ্যে এ নতুন যাত্রা আমাদের।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে আহ্বান, তা নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশকে একটা নতুন মাত্রায় এগিয়ে নিতে সবাই মিলে নতুন করে যাত্রা শুরু করবো।

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, সারাবিশ্বের আন্দোলনের যে ইতিহাস, স্বাধীনতার যে ইতিহাস, এখানে কবিদের যে অবদান, তা আমরা সবাই জানি। ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল সরকার। সেই ১৪৪ ধারা ভাঙার জন্য যে চারজন কবি প্রথম ভূমিকা রেখেছিলেন, তারা হলেন— আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবুল হোসেন এবং হাসান হাফিজুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, তারা ১৪৪ ধারা ভাঙার জন্য শপথ গ্রহণ করেন এবং তাদের সাথে ভাষাসৈনিক গাজীউল হক এবং ভাষাসৈনিক মতিনসহ অনেকে এগিয়ে এলে রাজনীতিবিদরাও এগিয়ে এসেছিলেন সেই আন্দোলন সফল করতে।

মহাপরিচালক বলেন, কবিদের যে অবদান ভাষা আন্দোলনে, সেজন্য আমি কবিদের প্রতি আমার অতল শ্রদ্ধা জানাই। ১৯৫২ সাল থেকে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত দেশের যে কোনো লড়াই ও আন্দোলনে কবি সাহিত্যিকরাই প্রথমে প্রতিবাদ করেছিল। তারা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিপ্লব ঘোষণা করেছিল।

তিনি বলেন, আমরা শ্রদ্ধা জানাই সেই অকুতোভয় বীর সেনানীদের, বীর সন্তানদের, যাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে সফল করেছিল, আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করেছিল। ১৯৫২ সাল থেকে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত যত শহীদ আছে, যত আহত যোদ্ধা আছে, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠানে আগত কবি ও সংস্কৃতিজন উপস্থিত ছিলেন এবং কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠসহ স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button