বিশেষ খবরবিশ্ব

গ্রিনল্যান্ডে হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

 

ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডে একটি হাসপাতাল জাহাজ পাঠাচ্ছেন। স্বায়ত্তশাসিত ড্যানিশ অঞ্চলটিকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের অধীনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন এবং শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়েছেন।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলকে আবারও বৈশ্বিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

তিনি দাবি করছেন, খনিজসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প বলেন, জাহাজটি গ্রিনল্যান্ডের বহু ‘অসুস্থ’ মানুষের চিকিৎসা দেবে। তবে কাদের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন বা কতজন এতে সেবা পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা গ্রিনল্যান্ডে একটি দারুণ হাসপাতাল জাহাজ পাঠাচ্ছি। সেখানে বহু অসুস্থ মানুষের সেবা ও যত্ন নেওয়ার জন্য, যাদেরকে দেখভাল করা হচ্ছে না।’

তিনি আরও লেখেন, ‘এটি রওনা হয়ে গেছে!!!’

তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বলে ধারণা করা একটি ছবি ছিল।

সেখানে দেখা যায়, ৮৯৪ ফুট দীর্ঘ ইউএসএনএস মার্সি তুষারঢাকা পর্বতমালার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জাহাজটি সাধারণত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থান করে।

তবে সেটিই প্রকৃতপক্ষে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প বলেন, লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সঙ্গে জাহাজটি পাঠানো হবে। ডিসেম্বর মাসে তাকে আর্কটিক দ্বীপটিতে ট্রাম্পের দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ মাসে নিউ অরলিন্সে মার্ডি গ্রা উদযাপনের সময় ল্যান্ড্রি একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে শহরের এক বিখ্যাত নৃত্যানুষ্ঠানে তিনি ও আরও দুজনকে একসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের পতাকা হাতে দেখা যায়।

তিনি লেখেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের কিছু চমৎকার মানুষের আতিথ্য দিতে পেরে ভালো লাগছে।’

এ সপ্তাহের শুরুতে ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক দশম গ্রিনল্যান্ড সফর করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।

ট্রাম্পের আগ্রহ ঘিরে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এই সফর গুরুত্ব পায়।

গত মাসে ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তিতে পৌঁছানোর পর গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।

ওই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button