বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তন সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

মার্চ, ২০২৬ (বাসস): বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দেশে প্রত্যাবর্তন বা রিপ্যাট্রিয়েশন প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে একটি নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বেসরকারি ও পাবলিক লিমিটেড কিন্তু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোম্পানিতে অ-নিবাসী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রয়মূল্য প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে এ সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ৮ মার্চ ইআইডি সার্কুলার নং-১ জারি করে নতুন মাস্টার সার্কুলার প্রকাশ করেছে। এতে ২০১৮ ও ২০২০ সালে জারি করা পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলো হালনাগাদ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও পূর্বানুমানযোগ্য, কার্যকর ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সুরক্ষাও বজায় রাখা হয়েছে।
সার্কুলারে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি, লেনদেনের সীমা বাড়ানো, মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন পদ্ধতি সহজ করা এবং দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের অভ্যন্তরে মূল্যায়ন ও অর্থ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্চ পর্যায়ের ক্যাপিটাল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি গঠন করা হয়। বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচির নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটি গত বছরের ১৯ নভেম্বর সংস্কার প্যাকেজটি চূড়ান্ত করে।
এ প্রসঙ্গে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তখনই তৈরি হয় যখন বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের প্রতিটি ধাপে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোতে পারেন। অনুমোদনের জটিলতা কমানো, বিক্রয়লব্ধ অর্থ সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা, মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের প্রক্রিয়া সরল করা এবং বিনিয়োগ থেকে প্রস্থানের ধাপ সহজ করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাধীন মূল্যায়ন ছাড়াই ক্রেতা ও বিক্রেতার যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে এডি ব্যাংকগুলো এখন ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারবে।
এ ছাড়া অডিট করা আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) অনুযায়ী চুক্তির মূল্য নির্ধারিত হলে অনেক ক্ষেত্রেই এডি ব্যাংক সরাসরি লেনদেন প্রক্রিয়া করতে পারবে।
মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি), বাজারমূল্য অথবা ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো (ডিসিএফ) পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
নতুন সার্কুলারে প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ থাকলে শেয়ার হস্তান্তর ৪৫ দিনের মধ্যে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবর্তন পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
পাশাপাশি প্রতিটি এডি ব্যাংককে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে এসব মূল্যায়ন ও অর্থ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনা করতে হবে।
এডি ব্যাংকগুলো যেসব লেনদেন প্রক্রিয়া করবে, সেগুলোর বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পদক্ষেপের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত হবে।




