অর্থ ও বাণিজ্যশীর্ষ নিউজ
গুমাই বিলে ধান কাটা শুরু: শ্রমিক সংকট ও চড়া মজুরিতে দিশেহারা কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গুনিয়া : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার শস্যভাণ্ডার খ্যাত গুমাই বিলে চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হলেও কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে চন্দ্রঘোনা ও ব্রহ্মোত্তর অংশে ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে তীব্র তাদদাহ এবং শ্রমিকের অস্বাভাবিক মজুরির কারণে সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের হাহাকার :
গুমাই বিলের চন্দ্রঘোনা এলাকার কৃষক আবদুল খালেক জানান, “এবার ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যারাও আছে, তারা প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা মজুরি দাবি করছে। এর সাথে তিন বেলা খাবার তো আছেই। প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকরা বেশিক্ষণ মাঠে টিকে থাকতে পারছে না, ফলে কাজের গতি অনেক কম।”
আরেক কৃষক মুসা সিকদার আক্ষেপ করে বলেন, “সকাল থেকে দুপুর হতে না হতেই রোদের তেজে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। এক কানি জমির ধান কাটতে যে খরচ হচ্ছে, তাতে ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আবহাওয়া কখন বদলে যায় ঠিক নেই, দ্রুত ধান কাটতে না
পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।”
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য :
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এই বিষয়ে জানান, “গুমাই বিলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। তবে বর্তমানে সারাদেশে যে তাপপ্রবাহ চলছে, তার প্রভাব ধান কাটার ওপরও পড়েছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন—” কম্বাইন হারভেস্টার” ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছি। সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে অনেক কৃষককে এই মেশিন দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবহার করলে অল্প সময়ে ও কম খরচে ধান ঘরে তোলা সম্ভব।”
পরিসংখ্যান: এক নজরে গুমাই বিলের বোরো চাষ, নিচে গুমাই বিলের বর্তমান বোরো মৌসুমের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:




