খেলা

তিন ম্যাচেই হ্যাটট্রিক; দেশের জার্সিতে বিশ্বজয়ের লক্ষ্য লালপুরের বিস্ময়বালিকা আলেয়ার

 

মে ২০২৬ (বাসস) : জীর্ণ কুটির থেকে উঠে আসা এক কিশোরীর স্বপ্ন এখন আকাশ ছুঁতে চাইছে। দারিদ্র্য যার নিত্যসঙ্গী, ফুটবল মাঠ সেখানে তার আশার বাতিঘর।

নাটোরের লালপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম জোতদৈবকির কৃষক পরিবারের সন্তান মোছা: আলেয়া খাতুন প্রমাণ করেছে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই পথ রুখতে পারে না।

প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এ বল পায়ে জাদুকরী নৈপুণ্য দেখিয়ে লালপুর উপজেলাকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি নাটোরের ফুটবলে নতুন এক আশার প্রদীপ জ্বেলেছে এই কিশোরী। মাঠে নামলেই যেন আলেয়ার পায়ে গোলবন্যা ছোটে। টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচেই টানা তিনটি হ্যাটট্রিক করে এক বিরল কীর্তি গড়েছে সে।

প্রথম ম্যাচে নাটোর পৌরসভার বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিকে লালপুর জয় পায় ৩-০ গোলে। সাফল্যের সেই ধারা ধরে রেখে দ্বিতীয় ম্যাচে সিংড়া উপজেলার বিপক্ষেও তিনটি গোল করে দলকে ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় উপহার দেয় আলেয়া। আর তৃতীয় ম্যাচে তার অসামান্য নৈপুণ্যে ৪-০ গোলে প্রতিপক্ষ গুরুদাসপুরকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে লালপুর। পুরো টুর্নামেন্টে এমন বিধ্বংসী ফর্মের কারণে নাটোর জেলার নারী ফুটবলে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে আলেয়া।

লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আলেয়ার এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। চার বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে বড় হওয়া এই কিশোরীর প্রধান সাহস তার কৃষক বাবা। বাবার অনুপ্রেরণাতেই নর্থ বেঙ্গল ফুটবল একাডেমির এই খেলোয়াড় কোচ জুয়েলের অধীনে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল মাঠে নিয়মিত ঘাম ঝরিয়ে যাচ্ছে।

অভাবের চোখরাঙানি এড়িয়ে তার দুচোখ জুড়ে এখন শুধু একটাই স্বপ্ন, লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে একদিন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা ওড়ানো।

স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগী ও এলাকাবাসীর কণ্ঠে এখন শুধুই আলেয়ার প্রশংসা। তাদের বিশ্বাস, সঠিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে আলেয়া হবে আগামীর ফুটবল মাঠের এক অপরাজেয় নক্ষত্র।

অভাবের মেঘ সরিয়ে আলেয়া যেভাবে সাফল্যের সূর্য হয়ে উদিত হয়েছে, তা এখন লালপুরসহ পুরো নাটোরবাসীর জন্য এক গর্বের উপাখ্যান। বাংলার ফুটবলকে নতুন কিছু দেওয়ার যে সংকল্প আলেয়ার চোখেমুখে, তা পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে সবাই। স্থানীয়দের বিশ্বাস, গ্রাম বাংলার এক কিশোরী তার পায়ের জাদুতে যেভাবে দলকে জয়ের নোঙ্গরে পৌঁছে দিয়েছেন, সেভাবে সুযোগ পেলে দেশের হয়েও একদিন বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজ পতাকা উড়াবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button