অর্থ ও বাণিজ্যশীর্ষ নিউজ

শক্তিশালী বালু সিন্ডিকেট এমপির নির্দেশনা উপেক্ষিত হুমকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

বিশেষ প্রতিনিধি : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নে শক্তিশালী বালু সিন্ডিকেটের দাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও খোদ এমপি”র কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অবাধে চলছে বালু উত্তোলন ও পরিবহন। ফলে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে কর্ণফুলী নদীর পাড়, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, বিদ্যালয় এবং স্থানীয় পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় কোনভাবেই নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা ও পরিবহন করা যাবে না। কিন্তু কদমতলী ও চন্দ্রঘোনা মোল্লা পাড়া এলাকায় এই নির্দেশনা কেবল কাগজ- কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখাগেছে, কর্ণফুলী নদী থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই পাড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে গ্রামের পর গ্রাম।এমনকি গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পরিবেশের ভারসাম্য হারাতে বসেছে। পরিবহনের সময় ট্রাক থেকে পড়ে যাওয়া বালুর ধুলো বাতাসে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “এমপি সাহেব নিষেধ করার পরও এই সিন্ডিকেট থেমে নেই।প্রশাসনের সামনে দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক যাচ্ছে, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে তারা নীরব থাকছে। আমরা ঘরবাড়ি নদী ভাঙনের ভয়ে আছি।” তারা মনে করেন, প্রাকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের বসতভিটা রক্ষায় এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামানো এখন সময়ের দাবি। সংসদ সদস্যের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর তদারকি এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না নিলে এই জনপদ অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া, কর্ণফুলি নদী থেকে কাপ্তাই সড়ক চারাবটতল পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার,বালু পাচারে নিরাপদ হাওয়ায় ভারি ট্রাক লরি গুলো বেপরোয়া চলাচলে গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জনস্বার্থে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ডাবল ইটের সলিংকৃত এই সড়কটি যোগাযোগ ব্যবস্থায় গ্রামের কৃষি, শিক্ষা, অর্থনৈতিকসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা নির্ভর করে। বালু বোঝাই ভারী যানবাহনের বিকট শব্দ এবং ধুলোবালি উড়িয়ে মারাত্মক পরিবেশের দুষন ছড়িয়ে এলাকায় জনজীবনে দুরাবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এলাকায় বিশেষত শিশুস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক ছড়াচ্ছে। ধুলোতে ধুঁয়ায়িত হচ্ছে কদমতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।
এব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, কর্ণফুলী নদী থেকে অবাদে বালু তোলার কোন সুযোগ নেই। চলতি বছর বালু ইজারা স্থগিত আছে, যদিও কেউ যদি অবাদে বালু তোলার কাজে জড়িত থাকতে শুনি, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button