অর্থ ও বাণিজ্যপ্রযুক্তি

এবারের বাজেটকে ‘সৃজনশীল অর্থনীতির’ বাজেট বলছে তরুণ সমাজ

 

জুন, ২০২৬(বাসস): মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বিপর্যস্ত আর্থিক খাত সংস্কার, দেশীয় শিল্পের বিকাশ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন।

এই বাজেটকে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং সমাজের মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সবার কণ্ঠস্বর এবং ‘সৃজনশীল অর্থনীতির’ বাজেট হিসেবে দেখছে তরুণ সমাজ।

ঘোষিত এই বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানতে কয়েকজন তরুণের সাথে কথা বলেছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। তারা জানিয়েছে, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের (অর্থবছর ২৭) প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনীতির সকল খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এতে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের চাহিদা একটি ভারসাম্যপূর্ণ তাৎপর্য পেয়েছে।’

ঘোষিত বাজেটের পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতি সমানের দিকে আরো এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, ‘দেশের বৃহৎ অংশ তরুণ সমাজের জন্য চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেম ডেভেলপমেন্ট, অ্যানিমেশন ও সফটওয়্যার রপ্তানির মতো সৃজনশীল অর্থনীতি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ লক্ষ্যেই বাজেটে সৃজনশীল খাতে করছাড়, স্টার্টআপ তহবিল, ক্রিয়েটিভ হাব, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং ডিজিটাল রপ্তানিতে প্রণোদনার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

আরিফুল আরও জানান, এসব পদক্ষেপ তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করবে এবং প্রমাণ করে যে সরকার তরুণদের শুধু চাকরি প্রার্থী নয়, বরং ভবিষ্যতের উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবুজার গিফারি ইফাত বলেন, ‘বাজেট একটা দেশের গতিপথ নির্বাচন করে। তাই বাজেট ঘোষণার সাথে কাজের মিল দেখতে চাই।’

বিএনপি সরকারের গত কয়েক মাসের বিভিন্ন কর্মকান্ড বিবেচনায় এই শিক্ষার্থী আস্থার কথা জানিয়ে বলেন, “ইতোমধ্যেই সরকারের পজিটিভ সাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজেটের পরপরই বা আগে যে বিভিন্ন পণ্য কিংবা সেবার দাম বেড়ে যাওয়ার হিড়িক পড়ে, এবার তেমনটি নেই। বাজেটের ‘থ্রি আর’ কৌশল আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। এটি সুষ্পষ্ট একটা গাইডলাইন সব সেক্টরের জন্য।”

বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আতিক শাহরিয়ার হামীম জানান, ‘এই বাজেটকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব। এই বাজেট কৃষকের, শ্রমিকের, শিক্ষার্থীর এবং সমাজের মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সবার কণ্ঠস্বর। চলমান সংকটের মাঝেও এই যুগোপযোগী বাজেটের মডেল দেখে ইউরোপের কোন দেশের বাজেট মনে হবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনসুর রাফি বলেন, ‘বর্তমান প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবতায় উচ্চাভিলাষিতার দিকে না ঝুঁকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী বান্ধব একটি বাজেট প্রণয়ন সময়ের দাবি ছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে উল্লেখিত সৃজনশীল অর্থনীতির বাস্তবায়ন ঘটাতে পারলে তা দেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার সক্ষমতা রাখে। মোটের উপর পুরো দেশবাসী বিশেষত তরুণ ও মধ্যবিত্ত সমাজ এই বাজেটকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছে বলে মনে করি।’

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত এ বাজেট উপস্থাপন করেন, যার শিরোনাম ছিল- ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: সবার জন্য উন্নয়ন’।

বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি (২০২৬) অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় টাকার অঙ্কে এই বাজেটের আকার বাড়ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button