খেলা

বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলতে যুক্তরাষ্ট্র

 

জুলাই ২০২৬ (বাসস): বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোল নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচে ফোলারিন বালোগানের গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তিনি লাল কার্ডের কারনে মাঠ ছাড়লে বাকি সময়টা যুক্তরাষ্ট্রকে একজন কম নিয়েই খেলতে হয়েছে।

আগামী সোমবার সিটলে শেষ ষোলর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। এনিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত শেষ ষোলতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।

বালোগানের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই স্ট্রাইকার ৬৪ মিনিটে বসনিয়ার টারিক মুহারমোভিচকে বাজেভাবে ট্যাকেল করায় ভিএআর রিভিউ লাল কার্ডের নির্দেশ দেয়। ১০ জন নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যুক্তরাষ্ট্রকে ৮২ মিনিটে মালিক টিলমান ফ্রি-কিকের গোলে জয় উপহার দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ বলেন, “ছেলেরা অসাধারণ লড়াই করেছে। লাল কার্ড পাওয়ায় ম্যাচটা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি, কিন্তু এটিই প্রমাণ করে আমরা কতটা ভালো দল।
উৎসবমুখর পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকেরা সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে ভিড় জমান। ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে ম্যাচ শুরুর আগে ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন তাদের আত্মবিশ্বাস ও উচ্ছ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠে।

কিক-অফের পর থেকেই বসনিয়ার কৌশল স্পষ্ট ছিল। দীর্ঘ পাসে আক্রমণ শুরু করা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ দ্রুতই মাঝমাঠের কাছাকাছি অবস্থান নেয়।

তবু ম্যাচের প্রথম দিকের সেরা সুযোগগুলো পায় বসনিয়াই। ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক এডিন জেকো গোলরক্ষকের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে এনে বাড়িয়ে দেন এরমেদিন ডেমিরোভিচকে।

তবে তার শট সরাসরি গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের হাতে জমা পড়ে।

ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। আমার ডেডিচের বেপরোয়া ট্যাকলে ফোলারিন বালোগান পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানালেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। কিছুক্ষণ পর বালোগান বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

তবে দর্শকদের উৎকণ্ঠা কাটে ৪৫তম মিনিটে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক টিম রিম বসনিয়ার একটি গোলকিক প্রতিহত করে দ্রুত বল বাড়িয়ে দেন মালিক টিলম্যানকে। টিলম্যানের থ্রু পাস প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে বালোগানের সামনে আসলে তিনি সহজেই বল জালে পাঠান।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে বক্সের ছয় গজ দুর থকে বালোগানের আরেকটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন জেকো। এরপর বসনিয়ার কোচ সের্গেই বারবারেজ একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন।

৬৪তম মিনিটে ভিএআরের পর্যালোচনার পর মুহারেমোভিচের পায়ের ওপর পা দেওয়ার অভিযোগে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। অনেকের কাছেই সিদ্ধান্তটি কঠোর মনে হয়েছিল।

হাইড্রেশন বিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো মাঠেই খেলোয়াড়দের একত্র করে ১০ জনে পরিণত হওয়া দলকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

পরে তিনি জানান, “আমি তাদের বলেছিলাম, আমাদের দেখাতে হবে আমরা একটি দল, আমরা ঐক্যবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “এটাই ছিল সবার কাছে এবং নিজেদের কাছেও প্রমাণ করার মুহূর্ত। আমরা যখন নিজেদের একটি ‘পরিবার’ বলি, সেটা এখন আর শুধু মুখের কথা নয়।

পুলিসিচের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

৮২তম মিনিটে বসনিয়ার বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় যুক্তরাষ্ট্র। টিলম্যানের দারুণ বাঁকানো শট ডিফেন্সিভ দেয়াল পেরিয়ে গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজের আঙুল ছুঁয়ে জালে প্রবেশ করে।

অতিরিক্ত সময়ের স্নাযুচাপের ১০ মিনিট সফলভাবে সামলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বদলি খেলোয়াড় এরমিন মাহমিচের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়া জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযানও টিকিয়ে রাখে তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button