বিশেষ খবরবিশ্ব

ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র

 

জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বুধবার ঘোষণা করেছে, নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল বিক্রি ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্তৃত্বের ঘোষণার পরও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, কারাকাসে কোনো বিদেশি শক্তি শাসন করছে না।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসে আগে কখনো এমন সম্পর্কের কলঙ্ক দেখা যায়নি।’

মাদুরোকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত শনিবার এক ঝটিকা অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে মাদক পাচারের অভিযোগে তাদের বিচার শুরু হয়েছে।

এ ঘটনাকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অঞ্চলে আধিপত্যের নীতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর এই নীতিকে তিনি ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে উল্লেখ করেছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের ওপর আমাদের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে এবং তাদের সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করে দেবে।’
ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রমাণিত তেল মজুদের অধিকারী ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ‘পরিচালনা করবে’। যদিও দেশটিতে কোনো মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েন নেই।

নৌ অবরোধ ও ভবিষ্যৎ সামরিক হুমকির মাধ্যমেই এটি নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন।

এদিকে কারাকাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত এবং প্রায় একই সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বলেন, আহতদের মধ্যে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও রয়েছেন।

তবে নিউইয়র্কে আদালতে হাজিরার সময় তাদের স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা গেছে।

হাভানার তথ্য মতে, নিহতদের মধ্যে কিউবার সেনাবাহিনীর ৩২ সদস্য রয়েছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের মতো মাদুরোও কিউবার বিশেষ প্রশিক্ষিত সৈন্যদের দেহরক্ষী হিসেবে ব্যবহার করতেন।

মাদুরো-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘অযথা এই পরিকল্পনা করছে না।’

এ পর্যন্ত পরিকল্পনার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তি, যার আওতায় ভেনেজুয়েলা ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রকে দেবে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র তা বিক্রি করবে।

ট্রাম্প বলেন, এই তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে ভেনেজুয়েলা কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যই কিনবে। এই পণ্যগুলোর মধ্যে থাকবে কৃষিপণ্য, যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানি খাতের উপকরণ।

রুবিও জানান, দ্বিতীয় ধাপের ‘পুনরুদ্ধার’ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশ করবে এবং একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি জানিয়েছে, বিদ্যমান বাণিজ্যিক কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তবে জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ চাইছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে মজুত থাকা তেল বাজারজাত করব এবং এরপর অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার উৎপাদিত তেল বিক্রি করব।’

শুক্রবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তার মতে, ভেনেজুয়েলার ভগ্নপ্রায় তেল অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ‘বিরাট সুযোগ’ রয়েছে, যদিও এখনো কোনো কোম্পানি আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে উত্তর আটলান্টিক পর্যন্ত ধাওয়া করে একটি রুশ-সম্পৃক্ত ট্যাংকারসহ দুটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে।

মস্কো এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউস বলেছে, জাহাজটি ভুয়া পতাকা বহন করায় সেটিকে ‘রাষ্ট্রহীন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button