শীর্ষ নিউজসংগঠন সংবাদ

সোহানুর রহমান পেলেন বলিয়াপাড়া অ্যাওয়ার্ড, দক্ষিণ এশিয়ায় যুব জলবায়ু নেতৃত্বে স্বীকৃতি

বাংলাদেশি যুব জলবায়ু কর্মী ও পরিবেশ প্রচারক সোহানুর রহমান ভারতের গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত ১৩তম বলিয়াপাড়া ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ডসে সম্মানজনক গ্রিন জার্নালিস্ট ক্যাটাগরিতে পুরষ্কৃত হয়েছেন। ভিসা জটিলতার কারণে তিনি বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন।

ইয়ুথনেট গ্লোবাল’র এক্সিকিউটিভ কো-অর্ডিনেটর ও ক্লাইমেট কমিউনিকেটর কমিউনিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা সোহানুর রহমান বলেন, “এই সম্মান আসলে সেইসব মানুষের, যাদের কথা আমরা বিশ্বজুড়ে তুলে ধরতে চাই। তাদের সংগ্রাম আর গল্পই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।”

সোহানুর বাংলাদেশের যুব নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৃশ্যমান করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের জীবন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষা করেন এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের নীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তার কাজের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় যুবকদের ক্ষমতায়ন, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, সংরক্ষণ প্রকল্প এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগে নেতৃত্ব প্রদান। এছাড়াও, তিনি সামাজিক মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জলবায়ু বাস্তবতার কণ্ঠস্বর তুলে ধরে নীতি নির্ধারক ও সরকারি কর্তৃপক্ষকে সচেতন করেন।

বালিপাড়া ফাউন্ডেশন হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামে প্রতিষ্ঠিত একটি পরিবেশ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সংস্থা। সংস্থাটি ইস্টার্ন হিমালয়ান অঞ্চলের বন, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে সংরক্ষণ প্রকল্পে যুক্ত করে। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বনাঞ্চল পুনর্গঠন, টেকসই জীবনধারা উন্নয়ন এবং যুব নেতৃত্ব ক্ষমতায়নের উদ্যোগ পরিচালনা করছে। প্রতিবছর সংস্থাটি পরিবেশ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি এবং সংস্থাগুলোকে পদক বিতরণের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করে থাকে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ১৩তম ইস্টার্ন হিমালয়ান নেচারনমিকস ফোরামের অংশ ছিল। ফোরামে পরিবেশ সচেতনতা, সম্প্রদায়ভিত্তিক সংরক্ষণ এবং যুব নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ফোরামে অংশগ্রহণকারীরা বন ও ল্যান্ডস্কেপ পুনর্গঠন, টেকসই জীবনধারা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-সহনশীল সম্প্রদায় গঠনের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। নতুন স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম “ইস্টার্ন হিমালয়া গার্ডিয়ানস”ও উদ্বোধন করা হয়, যা যুবকদের পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রকল্পে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

অন্যান্য পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন হাতি সংরক্ষণে অবদানের জন্য ডঃ কুশল কন্বর শর্মা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ল্যান্ডস্কেপ পুনর্গঠনে জোরাম এনটু পাউল। এছাড়াও, বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা যেমন গুগল, কোকা-কোলা এবং টাটা গ্রুপ তাদের টেকসই উদ্যোগের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছে। তারা পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি, বন ও নদী সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জীবনধারা উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের অবদান তুলে ধরেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button