অর্থ ও বাণিজ্যবিশেষ খবর

অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে সোনারগাঁওয়ের ৪ স্পটে অভিযান

 

জুলাই, ২০২৫ (বাসস ): জ্বালানি অপচয় রোধ এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে সৃষ্ট জননিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিজা খাতুনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সোমবার রাতে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, অভিযানে বেইলর ও নয়াপুর এলাকার মোট চারটি স্পটে কার্যক্রম চালানো হয়। সেসময় প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস বিতরণ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং আনুমানিক ২ হাজারটি অবৈধ আবাসিক বার্নার উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়াও অবৈধ সংযোগের জন্য ব্যবহৃত ৩৩৫ ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়। প্লাস্টিক পাইপগুলো উৎসস্থলেই বিনষ্ট করা হয়।

সোমবারের অভিযানে প্রথম স্পটটি ছিল নয়াপুর বাজার সংলগ্ন বেইলরে। সেখানে প্রায় ২ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। আনুমানিক ২৫০টি বাড়ির ৪শ’টি আবাসিক চুলা এবং প্রায় ২শ’ ফুট ২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ উচ্ছেদ করা হয়।

পরের অভিযানটি চলে রিয়ামহল সিনেমা হলের বিপরীত পাশে নয়াপুরে। সেখানে ২ কিলোমিটার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭শ’টি অবৈধ আবাসিক চুলা বিচ্ছিন্ন করা হয়। উদ্ধার করা হয় ১৫ ফুট ২ ইঞ্চি ব্যাসের এবং ৫০ ফুট ১.৫ ইঞ্চি ব্যাসের এমএস পাইপ।

চাঁন সূর্য ফিলিং স্টেশনের পশ্চিম পাশের হাতুরাপাড়ার ১ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৫শ’টি অবৈধ আবাসিক চুলা উচ্ছেদ করা হয়। সঙ্গে ৭০ ফুট ১.২৫ ইঞ্চি ব্যাসের এমএস পাইপ উদ্ধার করা হয়।

চতুর্থ স্পটটি ছিল চাঁন সূর্য ফিলিং স্টেশনের পূর্ব পাশের প্রায় ১.৫ কিলোমিটার এলাকা। উচ্ছেদের খবর পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা প্রায় ৪শ’টি আবাসিক চুলার জন্য ব্যবহৃত পাইপ খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ অভিযান সোনারগাঁও এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। কারণ এর মাধ্যমে প্রতিটি অবৈধ বিতরণ লাইন উৎস পয়েন্ট হতে ‘কিলিং/ক্যাপিং’ করে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের অভিযান একদিকে যেমন গ্যাসের অপচয় রোধ করবে, তেমনি অবৈধ সংযোগের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা ও জনজীবনের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এটি সরকারের জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ। অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা জনস্বার্থে অত্যন্ত জরুরি বলেও দাবী করা হয়।

একইসঙ্গে আশা প্রকাশ করা হয়, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতে অবৈধ সংযোগ নির্মূল করতে সহায়ক হবে এবং জ্বালানি খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button