ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জাপানে রোববার অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা করছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরের ‘হানিমুন’ সময়কে বড় ধরনের নির্বাচনী জয়ে রূপ দিতে পারবেন তিনি।
তবে তার এমন জয় চীনকে ক্ষুব্ধ করতে পারে এবং একই সঙ্গে আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
মতামত জরিপে ইঙ্গিত মিলছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতায় থাকা তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সহজেই জিতবে।
শক্তিশালী ৪৬৫ সদস্যের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ২৩৩টি আসন।
জরিপ অনুযায়ী, এলডিপি সেই সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি আসন পেতে পারে।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এমনকি অনিশ্চিত ভোটার ও শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে কিছুটা সতর্কতার কথা বললেও জরিপকারীরা মনে করছেন, এলডিপি ও তাদের জোটসঙ্গী মিলিয়ে ৩১০টি আসন পেতে পারে।
এতে করে তাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে, আর এটি হলে ২০১৭ সালের পর এলডিপি’র সেরা ফল হবে।
ওই বছরই তাকাইচির রাজনৈতিক গুরু ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে একই ধরনের সাফল্য পেয়েছিলেন।
প্রচারণার অংশ হিসেবে ইউটিউবে দেওয়া এক ভিডিওতে তাকাইচি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ নিজের হাতেই গড়ে তুলতে হয়।’
এই ভিডিও তার অন্যান্য ভিডিওর মতোই ভাইরাল হয়েছে।
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এলডিপিই নেতৃত্ব দেবে।’
তরুণ বয়সে সানায়ে তাকাইচি ছিলেন হেভি মেটাল ব্যান্ডের ড্রামার। তিনি ব্রিটেনের ‘আয়রন লেডি’ মার্গারেট থ্যাচারের ভক্ত।
গত অক্টোবরে দলনেত্রী হওয়ার সময় এলডিপি’র কট্টর রক্ষণশীল ঘরানার প্রান্তিক অংশে ছিলেন তিনি।
তবে সব সংশয় ভেঙে ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তাকাইচি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো।
তার হাতব্যাগ থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কে-পপ গানে তাল মেলানো— সবকিছুই ভক্তরা দারুণভাবে তুলে ধরেছেন।
শনিবার ঠান্ডা আবহাওয়ায় টোকিওতে মায়ের সঙ্গে তাকাইচির বক্তব্য শুনতে গিয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ইউকা আন্দো। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমি শুধু তাকে এক নজর দেখতে এসেছি। আমার মনে হয় তিনি অসাধারণ।’
অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তাকাইচি। এর ফলে আপাতত জনতাবাদী ‘জাপানিজ ফার্স্ট’ সানসেইতো দলের দ্রুত উত্থান কিছুটা ধীর হয়েছে।
শনিবার তাকাইচি বলেন, অভিবাসন যাচাই-বাছাই ইতোমধ্যে কিছুটা কঠোর করা হয়েছে, যাতে সন্ত্রাসী ও শিল্প গুপ্তচররা সহজে দেশে ঢুকতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশিরা কর দিচ্ছেন কি না বা স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধ করছেন কি না— এই সব বিষয়ও যথাযথভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
তবে সব ক্ষেত্রে নিজের মতো করে এগোতে পারেননি তাকাইচি। বিশেষ করে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সরকারি অর্থব্যবস্থা পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে তিনি ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।
মূল্যস্ফীতি ভোটারদের অসন্তোষের বড় কারণ হয়ে উঠেছিল।
এরপর প্রচারণায় তিনি খাদ্য পণ্যের ওপর ভোক্তা কর স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। জাপানের সরকারি ঋণের পরিমাণ দেশটির মোট অর্থনীতির আকারের দ্বিগুণেরও বেশি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় দীর্ঘমেয়াদী সরকারি বন্ডের সুদের হার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং একই সময়ে ইয়েনের দরেও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে।




