খেলা

অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারল না বাংলাদেশ

 

জুন ২০২৬ (বাসস) : তিন ব্যাটারের হাফ-সেঞ্চুরির সাথে পেসার শরিফুল ইসলামের ৬ উইকেট শিকারের পরও অস্ট্রেলিয়াকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করতে পারল না বাংলাদেশ দল। আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১ উইকেটে হেরে যায় টাইগাররা। রুদ্ধশ^াস ম্যাচে ১৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে অসিদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে রক্ষা করেন ওপেনার কুপার কনোলি।

প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে এবং দ্বিতীয়টি বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে জিতে এক ম্যাচ বাকী থাকতে আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচ হারলেও ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে মেহেদি হাসান মিরাজের দল।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের চতুর্থ বলে সৌম্য সরকারকে হারায় বাংলাদেশ। ২ রান করে অস্ট্রেলিয়ার পেসার জেভিয়ার বার্টলেটের বলে বোল্ড হন সৌম্য।

দ্বিতীয় উইকেটে ৫৬ বলে ৫১ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান এবং এ ম্যাচের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ৮ রানের ব্যবধানে দুই সেট ব্যাটার তানজিদ ও শান্তকে শিকার করেন অস্ট্রেলিয়ার অফ-স্পিনার ম্যাট রেনশ। তানজিদ ১৯ ও শান্ত ২৪ রান করেন।

৬১ রানে ৩ উইকেট পতনের পর অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে ইনিংস মেরামত করেন লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়। দারুণ ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর দেড়শ পার করেন দু’জনে।

পায়ের পেশিতে টান লাগায় ৩২তম ওভার শেষে ব্যক্তিগত ৪৮ রানে আহত অবসর নেন লিটন। এসময় দলের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৫৩ রান। হৃদয়ের সাথে ৯৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন লিটন।

এরপর ক্রিজে হৃদয়ের সঙ্গী হন মোসাদ্দেক হোসেন। এই জুটিতে ৬২ বলে ওয়ানডেতে ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন হৃদয়। অর্ধশতকের পর সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন হৃদয়। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮৩ রানে অস্ট্রেলিয়ার পেসার বেন ডোয়ারশিষের শিকার হন তিনি। ৮টি চারে ৮৩ রান তুলে আউট হন হৃদয়। ৮৮ বল খেলে ৮টি চার মারেন তিনি। মোসাদ্দেকের সাথে ৮১ বলে ৯০ রানের জুটি গড়েন হৃদয়।

দলীয় ২৪৬ রানে হৃদয় ফেরার পর ৪৩ বলে ওয়ানডেতে পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান মোসাদ্দেক।

সাত নম্বরে নামা মাহেদি হাসান ৩ রানে আউট হলে ৪৯তম ওভারে আবারও ক্রিজে আসেন লিটন। ঐ ওভারের শেষ বলে ওয়ানডেতে ১৪তম অর্ধশতকের দেখা পান লিটন।

ইনিংসের শেষ ওভারে লিটনের এক ছক্কায় ৯ রান উঠলে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

লিটন ৫৮ ও মোসাদ্দেক ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। লিটনের ইনিংসে ৪টি চার ও ২টি ছক্কা এবং মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে আসে ৫ চার ও ১ ছক্কা।

অস্ট্রেলিয়ার জেভিয়ার বার্টলেট ও ম্যাট রেনশ ২টি করে উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ২৭৫ রান তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান যোগ করেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ। পঞ্চম ওভারে ব্যক্তিগত ২১ রানে ইংলিশকে শিকার করে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন শরিফুল।

এরপর রেনশকে শূন্য হাতে শরিফুল এবং অ্যালেক্স ক্যারিকে ৮ রানে শিকার করেন তাসকিন আহমেদ। ফলে ৭০ রানে ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফেরাতে মিডল অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে তিনটি হাফ-সেঞ্চুরির জুটি গড়েন কনোলি। মিডল অর্ডারে মার্নাস লাবুশেন ২৯, ক্যামেরুন গ্রিন ও ওলিভার পিক ২৭ রান করে থামলেও ৮৬ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন কনোলি।

সেঞ্চুরির পরও অস্ট্রেলিয়ার রানের চাকা ঘুড়িয়ে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন কনোলি। তবে ৪৬তম ওভারে পিক ও বার্টলেটকে এবং ৪৮তম ওভারে ডোয়ারশিষকে বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান শরিফুল। ২৭০ রানে অষ্টম উইকেট হারায় অসিরা।

৪৯তম ওভারে দলীয় ২৭১ রানে বাংলাদেশের পথের কাটা কনোলিকে বোল্ড করেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তখন জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ১ উইকেট এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ৪ রান।

শেষ ওভারে তাসকিনের তৃতীয় বলে চার মেরে অস্ট্রেলিয়াকে জয় এনে দেন এডাম জাম্পা। রিলি মেরেডিথ ২ রানে ও জাম্পা ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় ১৩৪ বলে ১৪৯ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন কনোলি।

১০ ওভারে ৪৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়েও বাংলাদেশের হার এড়াতে পারেননি শরিফুল। এছাড়া তাসকিন-মুস্তাফিজ ও মাহেদি ১টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন অস্ট্রেলিয়ার কনোলি এবং সিরিজ সেরা হন বাংলাদেশের মোসাদ্দেক।

আগামী ১৭ জুন থেকে চট্টগ্রামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ : ২৭৪/৫, ৫০ ওভার (হৃদয় ৮৩, লিটন ৫৮*, মোসাদ্দেক ৫৬*, রেনশ ২/৪৪)।

অস্ট্রেলিয়া : ২৭৭/৯, ৪৯.৩ ওভার (কনোলি ১৪৯, পিক ২৭, শরিফুল ৬/৪৮)।

ফল : অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : কুপার কনোলি (অস্ট্রেলিয়া)।

সিরিজ সেরা : মোসাদ্দেক হোসেন (বাংলাদেশ)।

সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button