অর্থ ও বাণিজ্যবিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তেজনায় এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেলের দাম

 

জুলাই, ২০২৬ (বাসস) :  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের কারণে সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের তেলের দাম জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীরা  চিন্তাভাবনা করায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে  পরিবহন করা হয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত সপ্তাহের শেষে ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধির পর ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম আরও বেড়েছে। ব্রেন্টের দাম ব্যারেল প্রতি ৯১ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ।

সপ্তাহান্তে আবারও সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বাজারে এই পরিবর্তন দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায় এবং তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।

পরস্পরবিরোধী এসব পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন।

তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা আবারও তৈরি হয়েছে। এতে সুদের হার কমানোর পথ আরও জটিল হতে পারে।
তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সহায়ক হয়ে উঠছে।

এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘বাজারকে আবারও একই সময়ে দুটি আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরবিরোধী পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে লেনদেন করতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, তেলের দামের নতুন উত্থান বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসা ও শ্রমবাজারের দুর্বলতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জ্বালানি সংকট নতুন করে ব্যাপক মূল্যস্ফীতির চক্র তৈরি নাও করতে পারে।

বরং সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে যদি তেলের উচ্চ দাম দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকে।
এতে সাধারণ মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বরং সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে যদি তেলের উচ্চ দাম দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকে। এতে পরিবারের ব্যয় করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

তার মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হবে যদি তেলের উচ্চ দাম দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকে। এতে সাধারণ মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এশিয়ার বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে।

চীনের শেয়ারবাজার তুলনামূলক ভালো করেছে। গত সপ্তাহের অর্থনৈতিক তথ্যের পর বেইজিং অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে আরও পদক্ষেপ নেবেÑ এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রেখেছেন।

হংকংয়ের বাজার ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং সাংহাই কম্পোজিট সূচক ১ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে। তাইপে, ম্যানিলা ও সিঙ্গাপুরের বাজারও সামান্য ঊর্ধ্বমুখী।

তবে অন্য বাজারগুলোতে সতর্কতা দেখা গেছে। সিউল, সিডনি ও ওয়েলিংটনের বাজার নিম্নমুখী হয়ে শুরু হয়।

এশিয়ার এই দুর্বল প্রবণতার আগে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটেও আরেকটি দুর্বল লেনদেন  দেখা যায়। তিনটি প্রধান সূচকই নিচে নেমে দিন শেষ করে। বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি খাতের শেয়ার থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছিলেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন।

ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৪০ শতাংশ কমেছে। তবে রুপার দাম বেড়েছে ১ শতাংশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button