অর্থ ও বাণিজ্যবিনোদন

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয় নিয়ে শেষ হলো ৩০তম ইউএস ট্রেড শো

তিন দিনের ট্রেড শো-তে মার্কিন পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তুলে ধরা হয়

 

ঢাকা, ৭ নভেম্বর ২০২৬:বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় নিয়ে শনিবার শেষ হলো ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬। ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ক্রিস্টাল বলরুমে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনের এই মেলার পর্দা নামে। মেলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়।

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলায় নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শিল্প খাতের প্রতিনিধি ও দর্শনার্থীরা অংশ নেন। তাঁরা নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ খুঁজে বের করা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

সমাপনীঅনুষ্ঠানেগেস্টঅবঅনারহিসেবেউপস্থিতছিলেনফেডারেশনঅববাংলাদেশচেম্বার্সঅবকমার্সঅ্যান্ডইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক, প্লামিফ্যাশনসলিমিটেডেরব্যবস্থাপনাপরিচালকএবংবাংলাদেশনিটওয়্যারম্যানুফ্যাকচারার্সঅ্যান্ডএক্সপোর্টার্সঅ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ)সাবেকসভাপতিমো. ফজলুলহকএবংঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি চিফ অব মিশন ত্রিশিতা মওলা। অনুষ্ঠানেআরওউপস্থিতছিলেনঅ্যামচ্যামবাংলাদেশেরসভাপতিসৈয়দমোহাম্মদকামাল; সংগঠনটিরসাবেকসভাপতিদেরমধ্যেআফতাবউলইসলাম, সৈয়দএরশাদআহমেদ ও মো. নুরুলইসলাম; অ্যামচ্যামেরনির্বাহীকমিটিরসদস্যরা; ঢাকাস্থযুক্তরাষ্ট্রদূতাবাসেরঊর্ধ্বতনকর্মকর্তারা; অংশগ্রহণকারীপ্রতিষ্ঠানেরপ্রতিনিধি; ব্যবসায়ীনেতৃবৃন্দএবংঅন্যান্যবিশিষ্টঅতিথি।

মো. ফজলুলহক, এফবিসিসিআইয়েরপ্রশাসক, প্লামিফ্যাশনসলিমিটেডেরব্যবস্থাপনাপরিচালকএবংবিকেএমইএরসাবেকসভাপতি, বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রেরমধ্যেবাণিজ্য ও বিনিয়োগসহযোগিতাসম্প্রসারণেরযথেষ্টসম্ভাবনারয়েছে। ইউএসট্রেডশোরমতোআয়োজনদুইদেশেরব্যবসায়ীদেরমধ্যেশক্তিশালীঅংশীদারত্বগড়েতুলতেএবংনতুনবাজারেরসম্ভাবনাঅনুসন্ধানেরসুযোগতৈরিকরে। এ ধরনেরউদ্যোগব্যবসায়িকসম্পর্কজোরদারেরপাশাপাশিটেকসইঅর্থনৈতিকপ্রবৃদ্ধিরনতুনসুযোগসৃষ্টিতেগুরুত্বপূর্ণভূমিকারাখে।”

অ্যামচেম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালবলেন, “গত তিন দশক ধরে ইউএস ট্রেড শো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সংযোগ তৈরি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এবারের আয়োজনেও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা উঠে এসেছে। বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরি এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে অ্যামচেম সরকার, মার্কিন দূতাবাস ও ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সমাপনীঅনুষ্ঠানেরঅন্যতমআকর্ষণছিলবেস্টস্টলঅ্যাওয়ার্ডঘোষণা। অংশগ্রহণকারীপ্রদর্শকদেরভোটেরভিত্তিতেনির্বাচিতবিজয়ীদেরমধ্যেপ্রথমস্থানঅর্জনকরেবাংলাট্র্যাকলিমিটেড (বাংলাক্যাট)। যৌথভাবেদ্বিতীয়স্থানঅর্জনকরেশেভরনবাংলাদেশ ও এমজেএলবাংলাদেশপিএলসি। তৃতীয়স্থানঅর্জনকরেলালতীরসিডলিমিটেড। এছাড়াস্টার্টআপজোনেসেরাস্টলেরস্বীকৃতিপায়পালসটেকএবংকার্নিভালজোনেসেরাস্টলনির্বাচিতহয়স্বপ্ন। ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীলস্টলপরিকল্পনারস্বীকৃতিস্বরূপএক্সিলারেটএনার্জিবাংলাদেশলিমিটেডকেবিশেষসম্মাননাপ্রদানকরাহয়।

অ্যামচ্যামবাংলাদেশেরকোষাধ্যক্ষ ও ফিলিপমরিসবাংলাদেশেরব্যবস্থাপনাপরিচালকরেজাউররহমানমাহমুদসমাপনীঅনুষ্ঠানেধন্যবাদজ্ঞাপনকরেন। এ সময়তিনি ৩০তম ইউএসট্রেডশো ২০২৬ সফলভাবেআয়োজনেরজন্যযুক্তরাষ্ট্রদূতাবাস, অংশগ্রহণকারীপ্রতিষ্ঠান, পৃষ্ঠপোষক, সহযোগী, অতিথি ও দর্শনার্থীদেরপ্রতিকৃতজ্ঞতাপ্রকাশকরেন।

গত ৫ থেকে ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই মেলায় অংশ নেওয়া মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিভিন্ন পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুযোগ পান।

প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী মেলায় নারী নেতৃত্ব, জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাপ্রযুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের সুযোগ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্য এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে একাধিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেমিনারে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, নতুন সম্ভাবনা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো, নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রসার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

৩০তম ইউএস ট্রেড শোর সফল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্পর্ক শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে অ্যামচেমের অঙ্গীকার আবারও তুলে ধরা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button