রাজনীতিশীর্ষ নিউজ

তারেক রহমানের নেতৃত্বে ব্যক্তিবৃত্ত থেকে ক্ষমতা এখন জনগণের আঙিনায়: কাদের গনি চৌধুরী

 

সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): বিএফইউজে মহাসচিব ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। ডেল্টাগ্রামের জনমত জরিপে সরকারের প্রতি ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ সমর্থন ও সন্তুষ্টির কথা এটিই প্রমাণ করে।

তিনি বলেন, আমার বলতে দ্বিধা নেই- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে ব্যক্তিবৃত্ত থেকে ক্ষমতা এখন জনগণের আঙিনায়।

আজ সকালে (বাংলাদেশ সময়) যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, যা কিছু আপনারা দেখছেন তার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ বিএনপির অবদান। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কারণে এসব উন্নয়ন হয়েছে। দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখছেন আগামীতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা পাব। আমরাও আশাবাদী জনগণ তাদের এই চিন্তার প্রতিফলন ঘটাবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ডলার ও রুপির বিপরীতে সাড়ে পাঁচ বছরে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা। এতে বিদেশি ও আমদানিকারকদের কাছে দেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হচ্ছে। বিনিময় হার আরও স্থিতিশীল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের আস্থাও বাড়বে।

বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে রেকর্ড ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ রপ্তানি।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের কারণে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে এনপিএল অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু অপ্রচলিত বাজারেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র একাই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতেই দেশটির বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির গতি এবং আগস্টে একক মাসে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

সাংবাদিকদের এ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে তারেক রহমান সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসে বিএনপি সরকার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণের বাড়তি পরিশোধের চাপের মধ্যেও বর্তমান সরকার নিয়মিতভাবে এ দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর সংসদে প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন, আলোচনা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি দৃশ্যমান হওয়ার পাশাপাশি প্রথম অধিবেশনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির উদ্যোগ সেই প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় ফেরার ইঙ্গিত বহন করে।

ক্ষমতা ব্যবহারের সংস্কৃতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়েছে উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সীমিত গাড়িবহর কিংবা তাঁর চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ সড়ক বন্ধ না রাখার সিদ্ধান্ত হয়তো দেশের জিডিপি বাড়াবে না, মূল্যস্ফীতিও কমাবে না। কিন্তু রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর আলাদা তাৎপর্য আছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহুল্য যত কম প্রদর্শিত হয়, সাধারণ নাগরিকের প্রতি সম্মানের জায়গাটি তত দৃশ্যমান হয়। সরকারি গাড়ি কেনায় নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ সীমিত করা এবং সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগও একই বার্তা বহন করে।

বাসসের এমডি কাদের গনি চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এগুলো ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বড় অংশজুড়ে ছিল সরাসরি মানুষের জীবন। সেই প্রতিশ্রুতির অন্যতম দৃশ্যমান রূপ ‘ফ্যামিলি কার্ড’। পরীক্ষামূলকভাবে হাজার হাজার পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখানে শুধু টাকার অঙ্কটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো সামাজিক নিরাপত্তাকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক, নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক করার চেষ্টা। একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের সব প্রয়োজন হয়তো এই অর্থে মিটবে না, কিন্তু খাদ্য, শিক্ষা কিংবা চিকিৎসার মতো কোনো একটি জরুরি খাতে এটি স্বস্তি দিতে পারে।

বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, একইভাবে কৃষক কার্ডের ধারণাটিও বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কৃষি এখনো দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষি উপকরণ, ঋণ এবং সরকারি সেবা সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন জেলায় কৃষক কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কৃষিঋণ ও সংশ্লিষ্ট সুদ মওকুফের উদ্যোগ তাদের আর্থিক চাপ কমানোর প্রচেষ্টা। একজন প্রান্তিক কৃষকের কাছে ঋণের বোঝা কমা শুধু হিসাবের খাতায় কয়েকটি সংখ্যা মুছে যাওয়া নয়; কখনো কখনো সেটিই নতুন মৌসুমে আবার জমিতে নামার সাহস জোগায়।

তিনি বলেন, ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা এবং দেশজুড়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি আরও বলেন, পবিত্র রমজান ও ঈদে কৃত্রিম সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধে সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংসদে রেকর্ড সংখ্যক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করেছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, শিক্ষা পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তি, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগসহ ক্রীড়া ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতেও একই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হেলথ কার্ড’, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করার উদ্যোগ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন ভাবনায় পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রশ্নটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। জলবায়ু বাজেট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, নদী-খাল পুনঃখনন এবং বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচি ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর ইঙ্গিত দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের সভাপতি নাছিম আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জাকির এইচ চৌধুরী, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ আলী খান, সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম, জাকারিয়া আহমেদ, মাহবুবুর রহমান, আল মামুন সবুজ, নুর আলম, মোতাহার হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, শাহাবুদ্দীন, শাহ আলম শিমুল, শাহ আলম, শাহদাত হোসেন, ফরহাদ মৃধা, হারুন অর রশিদ, হামিদুল্লাহ খান, রাইসুল ইসলাম রাব্বি, শামীম মাহমুদ প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button