বিশেষ খবররাজনীতি

দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী

 

অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।’

বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন, বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিরা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তারেক রহমান এসব ব্যক্তির কাজের প্রশংসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দেন ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

হাসান শিপলু জানান, সাক্ষাৎকালে নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী পেশা নির্বাচনের বিষয়টি উঠে আসে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়ালেখা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা।

বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে নিজেই তৈরি করেন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা আরেক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি হলেন নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখা শিখে তিনি ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’।

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। পা দিয়েই তিনি লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার কথা শুনে নতুন স্কুলভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান উপ-প্রেস সচিব।

অন্যদিকে, ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তার লাগানো অধিকাংশ গাছই এখন পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সবার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button