বিশ্বশীর্ষ নিউজ

ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর হামলায় কলম্বিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কয়েকজন নিহত

 

নভেম্বর, ২০২৬ (বাসস): ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর হামলায় দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থানরত কলম্বিয়ার বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ফান্ডারেডেস নামের একটি এনজিওর পরিচালক হাভিয়ের তারাজোনা এএফপিকে জানান, শুক্রবার ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী দেশটির ভূখণ্ডে অবস্থানরত কলম্বিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) বিদ্রোহীদের একটি শিবিরে হামলা চালায়।

তারাজোনার দাবি, কয়েক দশক ধরে সমাজতান্ত্রিক শাসনের অধীনে থাকা ভেনেজুয়েলায় গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম দেশটির সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে অবস্থানরত ইএলএন বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালাল।

বেসরকারি ওই সংস্থাটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে ভেনেজুয়েলার আপুরে রাজ্যের প্রত্যন্ত একটি এলাকায় মাটিতে পড়ে থাকা কয়েকটি মরদেহ, উপড়ে পড়া গাছ এবং বিদ্রোহীদের একটি শিবিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

তারাজোনা জানান, সংস্থাটির এক কর্মী ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখে অন্তত নয়টি মরদেহ শনাক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে এএফপির পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

২০১৬ সালে কলম্বিয়ার সরকার ও ফার্ক গেরিলা বাহিনীর মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ইএলএন।

কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীও সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফার্কের সেই বিদ্রোহী অংশগুলো, যারা ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

বর্তমানে এসব গোষ্ঠী মাদক পাচার, বিশেষ করে কোকেনের ব্যবসা এবং অবৈধ খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত।

দীর্ঘদিন ধরে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার সরকার অভিযোগ করে আসছিল, বামপন্থী ভেনেজুয়েলা কলম্বিয়ার বিদ্রোহীদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে।

তবে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে ভেনেজুয়েলা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির বিপুল তেলসম্পদ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মানবাধিকারকর্মী ও সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোসিও সান মিগেল জানান, শুক্রবারের সেনা হামলার খবর স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম বিষয়টি জানান। তাদের ধারণা, ওই হামলায় ইএলএনের আরও অন্তত ১০ জন যোদ্ধা নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button